ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেয়র লিটনের প্রচেষ্টায় উদ্ধার হল ২০০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শিরোইল বাস্তুহারাপাড়ার প্রায় ২০০ কোটি টাকার সরকারি ১৮ বিঘা জমি উদ্ধার হল। এর মাধ্যমে বাস্তুহারাপাড়ায় বসবাসকারী ৭০টি পবিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।

বুধবার রাজশাহী জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জজ এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুস সালাম বাস্তুহারাপাড়ার অর্পিত সম্পত্তি মামলায় সরকারের পক্ষের আপিল মঞ্জুর করেছেন। আদালত রায় ঘোষণা করেছেন- বাস্তুহারাপাড়ার জায়গাটি অর্পিত সম্পত্তি। বাদীপক্ষের দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

রায় শোনার পর বাস্তুহারাপাড়ায় ছুটে যান রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বাস্তুহারাপাড়াবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, আপনাদের পক্ষ থেকে সরে যেতে আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন ও প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। আমার পিতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আমিও আপনাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, আগামীতেও থাকব।

মেয়র আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষকে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাস্তুহারাপাড়াতে অনেক জায়গা আছে, এখানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় জনগণের পাশে আছে।

এ সময় বাস্তুহারাপাড়াবাসী রাসিক মেয়রের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি তোজাম্মেল হক বাবলু, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সোহেল রানা, সোহবার হোসেন, তারা, মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলার গোদাগাড়ী আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এজাজুল হক মানু জানান, বাস্তহারাপাড়ার বাসিন্দারা প্রায় ২০০ বছর ধরে সেখানে অর্পিত সম্পত্তি লিজ নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ২০১৩ সালে জায়গাটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ‘ক’ তফসিল ঘোষণা করে সরকার।

এরপর ২০১৩ সালে কাদিরগঞ্জের মঈনউদ্দিন সরকার মনির, রশিদ আকতার, রুনা লায়লা ও রশিদা খাতুন জায়গাটির মালিকানা দাবি করে অর্পিত সম্পত্তি তালিকা থেকে অবমুক্ত করতে রাজশাহী জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন (অর্পিত মামলা নং-১৫৯/২০১৩)।

৬ জুন ২০১৬ তারিখে বাদীপক্ষে (সরকার পক্ষের বিপক্ষে) রায় ঘোষণা করেন আদালত। ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক রাজশাহী ওই রায়ের বিরুদ্ধে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন (অর্পিত আপিল মামলা নং-১৪/২০১৬)।

অ্যাডভোকেট মো. এজাজুল হক মানু জানান, ২০ জুন ২০১৮ তারিখে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী মহোদয় তাকে মামলাটি পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর থেকে তিনি মামলাটি পরিচালনা করছেন।
বুধবার আদালত সরকার পক্ষের অর্পিত আপিল মঞ্জুর করেছেন। আদালত রায় দিয়েছেন, বাস্তহারাপাড়ার জায়গাটি বাদীপক্ষের নয়। সরকারি অর্পিত সম্পত্তি। আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই রায়ে ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি সরকারের বহাল থাকল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেয়র লিটনের প্রচেষ্টায় উদ্ধার হল ২০০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

আপডেট সময় ১১:৩০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শিরোইল বাস্তুহারাপাড়ার প্রায় ২০০ কোটি টাকার সরকারি ১৮ বিঘা জমি উদ্ধার হল। এর মাধ্যমে বাস্তুহারাপাড়ায় বসবাসকারী ৭০টি পবিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।

বুধবার রাজশাহী জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জজ এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুস সালাম বাস্তুহারাপাড়ার অর্পিত সম্পত্তি মামলায় সরকারের পক্ষের আপিল মঞ্জুর করেছেন। আদালত রায় ঘোষণা করেছেন- বাস্তুহারাপাড়ার জায়গাটি অর্পিত সম্পত্তি। বাদীপক্ষের দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

রায় শোনার পর বাস্তুহারাপাড়ায় ছুটে যান রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বাস্তুহারাপাড়াবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, আপনাদের পক্ষ থেকে সরে যেতে আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন ও প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। আমার পিতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আমিও আপনাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, আগামীতেও থাকব।

মেয়র আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষে গৃহহীন মানুষকে গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাস্তুহারাপাড়াতে অনেক জায়গা আছে, এখানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় জনগণের পাশে আছে।

এ সময় বাস্তুহারাপাড়াবাসী রাসিক মেয়রের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি তোজাম্মেল হক বাবলু, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সোহেল রানা, সোহবার হোসেন, তারা, মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলার গোদাগাড়ী আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এজাজুল হক মানু জানান, বাস্তহারাপাড়ার বাসিন্দারা প্রায় ২০০ বছর ধরে সেখানে অর্পিত সম্পত্তি লিজ নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ২০১৩ সালে জায়গাটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ‘ক’ তফসিল ঘোষণা করে সরকার।

এরপর ২০১৩ সালে কাদিরগঞ্জের মঈনউদ্দিন সরকার মনির, রশিদ আকতার, রুনা লায়লা ও রশিদা খাতুন জায়গাটির মালিকানা দাবি করে অর্পিত সম্পত্তি তালিকা থেকে অবমুক্ত করতে রাজশাহী জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন (অর্পিত মামলা নং-১৫৯/২০১৩)।

৬ জুন ২০১৬ তারিখে বাদীপক্ষে (সরকার পক্ষের বিপক্ষে) রায় ঘোষণা করেন আদালত। ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক রাজশাহী ওই রায়ের বিরুদ্ধে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন (অর্পিত আপিল মামলা নং-১৪/২০১৬)।

অ্যাডভোকেট মো. এজাজুল হক মানু জানান, ২০ জুন ২০১৮ তারিখে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী মহোদয় তাকে মামলাটি পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর থেকে তিনি মামলাটি পরিচালনা করছেন।
বুধবার আদালত সরকার পক্ষের অর্পিত আপিল মঞ্জুর করেছেন। আদালত রায় দিয়েছেন, বাস্তহারাপাড়ার জায়গাটি বাদীপক্ষের নয়। সরকারি অর্পিত সম্পত্তি। আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই রায়ে ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি সরকারের বহাল থাকল।