ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘প্রেম করায়’ কলেজছাত্রকে বেঁধে নির্যাতন, আটক ২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘প্রবাসীর মেয়ের সঙ্গে প্রেম করায়’ হবিগঞ্জে এক কলেজছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় সোমবার বাহুবল মডেল থানায় ওই কলেজছাত্রের মা রাবিয়া খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে ওই কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রধান আসামি করে মেয়েসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ছয়জনকে। গ্রেপ্তাররা হলেন বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার আসামি সালাউদ্দিন (৫২) ও মঈন উদ্দিন (৪০)।

নির্যাতনের শিকার ফয়সল মিয়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার হাসেরগাঁও গ্রামের আহসান উল্ল্যার ছেলে। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক (গণিত) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও কোরআনে হাফেজ। ফয়সলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, দ্বিমুড়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল ফয়সল মিয়ার। শুক্রবার রাতে দেখা করার জন্য মেয়ের বাড়ি যান ফয়সল। এই সময় ফয়সলকে ধরে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে মেয়েটির স্বজনরা খুঁটিতে হাত-পা বেঁধে রাতভর নির্যাতন চালায়।

বাহুবল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর কবীর বলেন, শনিবার সকালে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ফয়সলকে উদ্ধার করে স্বজনের জিম্মায় দেয়। স্বজনরা তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিলেট সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে, রোববার এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক ফয়সল মিয়াকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতন করছে। ফয়সল বাঁচার জন্য আকুতি এবং বার বার আল্লাহ অল্লাহ বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু এরপরও তারা নির্যাতন বন্ধ করেনি।

ফয়সলের বোন মোছা. হানিফা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ভাই পাগল হয়ে গেছে; তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। এখন সে কাউকে চিনতে পারছে না।”

পরিদর্শক আলমগীর আরও জানান, এই ঘটনায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

‘প্রেম করায়’ কলেজছাত্রকে বেঁধে নির্যাতন, আটক ২

আপডেট সময় ০৬:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘প্রবাসীর মেয়ের সঙ্গে প্রেম করায়’ হবিগঞ্জে এক কলেজছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় সোমবার বাহুবল মডেল থানায় ওই কলেজছাত্রের মা রাবিয়া খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে ওই কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রধান আসামি করে মেয়েসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ছয়জনকে। গ্রেপ্তাররা হলেন বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার আসামি সালাউদ্দিন (৫২) ও মঈন উদ্দিন (৪০)।

নির্যাতনের শিকার ফয়সল মিয়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার হাসেরগাঁও গ্রামের আহসান উল্ল্যার ছেলে। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক (গণিত) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও কোরআনে হাফেজ। ফয়সলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, দ্বিমুড়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল ফয়সল মিয়ার। শুক্রবার রাতে দেখা করার জন্য মেয়ের বাড়ি যান ফয়সল। এই সময় ফয়সলকে ধরে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে মেয়েটির স্বজনরা খুঁটিতে হাত-পা বেঁধে রাতভর নির্যাতন চালায়।

বাহুবল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর কবীর বলেন, শনিবার সকালে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ফয়সলকে উদ্ধার করে স্বজনের জিম্মায় দেয়। স্বজনরা তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিলেট সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে, রোববার এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক ফয়সল মিয়াকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতন করছে। ফয়সল বাঁচার জন্য আকুতি এবং বার বার আল্লাহ অল্লাহ বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু এরপরও তারা নির্যাতন বন্ধ করেনি।

ফয়সলের বোন মোছা. হানিফা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ভাই পাগল হয়ে গেছে; তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। এখন সে কাউকে চিনতে পারছে না।”

পরিদর্শক আলমগীর আরও জানান, এই ঘটনায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।