ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কৌশলের অজুহাতে বিএনপি কোনো গোপন বেশ ধারণ করেনি: তারেক রহমান

রায়হানকে ফাঁড়িতে রাখা হয় ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান উদ্দিনকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রাখা হয় ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। সিটি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রায়হানকে ফাঁড়িতে ধরে নেয়া এবং কয়েক ঘণ্টা পর সেখান থেকে হাসপাতালে নেয়ার সিটি ক্যামেরার ফুটেজ হাতে এসেছে।

রায়হান উদ্দিনের লাশ পুনরায় ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম মাহফুজুর রহমান লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশনা দেন।

সিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার রাত ৩টা ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে সিএনজি অটোরিকশা থেকে পুলিশ প্রহরায় স্বাভাবিকভাবেই বন্দর ফাঁড়িতে প্রবেশ করেন রায়হান। আর সকাল ৬টা ২৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে দেখা যায় দুই পুলিশ তাকে ধরে অটোরিকশায় তুলছে। সেখান থেকেই তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদুজ্জামান জানান, মামলা পিবিআইতে হস্তান্তরের আগেই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই আবদুল বাতেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন। পিবিআই তদন্তভার পাওয়ার পর সেই আবেদন বলবত রাখেন।

তিনি জানান, সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম মাহফুজুর রহমান আবেদন মঞ্জুর করেন। লাশ কবর থেকে তুলতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেন।

খালেদুজ্জামান জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

গত রোববার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নগরীর নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন। ৬টা ৪০ মিনিটের সময় গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী। মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরের পা ও হাতসহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল।

ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বাদ এশা নগরীর আখালিয়া জামে মসজিদে জানাজা হয় রায়হান উদ্দিনের। পরে আখালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ধারায় মামলা দায়ের করেন।

রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

রায়হানকে ফাঁড়িতে রাখা হয় ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট

আপডেট সময় ০৫:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান উদ্দিনকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রাখা হয় ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। সিটি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রায়হানকে ফাঁড়িতে ধরে নেয়া এবং কয়েক ঘণ্টা পর সেখান থেকে হাসপাতালে নেয়ার সিটি ক্যামেরার ফুটেজ হাতে এসেছে।

রায়হান উদ্দিনের লাশ পুনরায় ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম মাহফুজুর রহমান লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশনা দেন।

সিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার রাত ৩টা ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে সিএনজি অটোরিকশা থেকে পুলিশ প্রহরায় স্বাভাবিকভাবেই বন্দর ফাঁড়িতে প্রবেশ করেন রায়হান। আর সকাল ৬টা ২৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে দেখা যায় দুই পুলিশ তাকে ধরে অটোরিকশায় তুলছে। সেখান থেকেই তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদুজ্জামান জানান, মামলা পিবিআইতে হস্তান্তরের আগেই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই আবদুল বাতেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন। পিবিআই তদন্তভার পাওয়ার পর সেই আবেদন বলবত রাখেন।

তিনি জানান, সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম মাহফুজুর রহমান আবেদন মঞ্জুর করেন। লাশ কবর থেকে তুলতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেন।

খালেদুজ্জামান জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

গত রোববার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নগরীর নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন। ৬টা ৪০ মিনিটের সময় গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহী। মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরের পা ও হাতসহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল।

ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বাদ এশা নগরীর আখালিয়া জামে মসজিদে জানাজা হয় রায়হান উদ্দিনের। পরে আখালিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে। রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ধারায় মামলা দায়ের করেন।

রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।