ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’ ২০২৭ সালে কমলাপুর পর্যন্ত চালু হচ্ছে মেট্রোরেল উপজেলায় জোরদার হচ্ছে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্ভরযোগ্য ডাটা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি : অর্থমন্ত্রী ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমার সীমা‌ন্তে নজরদা‌রি বা‌ড়ানো হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিশালে স্ট্যাম্প-চেকে জোর করে স্বাক্ষরের ঘটনায় দুজন গ্রেফতার খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ইরানের নিউইয়র্কে গোলাগুলি, ৪ শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৮ ফিলিস্তিনে দখলদারত্ব না শেষ হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নয় : সিসি

নেত্রকোনায় ভুল সিজারে প্রসূতির মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনায় ভুল চিকিৎসায় বারবার প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন। বুধবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় গঠিত কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম।

এতে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌফিক আহমেদকে প্রধান করে আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) একরামুল হাসান, গাইনি কনসাল্টেন্ট জান্নাত আফরোজ নূপুর, ডা. আহসানুল কবীর রিয়াদ ও ডা. উত্তম কুমার ভপালকে সদস্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার শহরের সূনেত্র নামের একটি ক্লিনিকে সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের আইরিন আক্তার ঝর্ণা নামের এক প্রসূতির সিজার করতে গিয়ে মূত্রথলি কেটে ফেলেন সিএফসি ডা. জীবন কৃষ্ণ। পরে তাকে এই অবস্থায় রেখে সহযোগীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় আরেকটি সিজার করতে চলে যান তিনি।

এরপর প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের খবর পেয়ে এসে এবার ওই নারীর জরায়ু কেটে ফেলেন। এভাবে বারবার কাটাকাটির পর পরবর্তী সময়ে ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে মারা যান ওই প্রসূতি।

মঙ্গলবার লাশ এনে লক্ষীগঞ্জ নিজ বাড়িতে দাফন করে স্বজনরা। সকালে পুলিশকে জানালেও সন্ধ্যায় মীমাংসা হয়ে যায় বিষয়টি।

এর আগে, আল নুর ক্লিনিকেও একই ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে ডা. জীবন কৃষ্ণ’র বিরুদ্ধে। কিন্তু লিখিত অভিযোগ করে আবার টাকায় মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় বারবার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না বলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন জানায়।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম খান জানান, এই ডাক্তার বরাবরই এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অভিযোগগুলোও শেষ পর্যন্ত মীমাংসা হয়ে যায়। যে কারণে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না।

নানা ধরনের সিন্ডিকেটে বারবারই পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। এজন্য ঘটনাগুলোর তদন্তে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ের পর ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, হুমকি-অপমানে বাবার ‘আত্মহত্যা’

নেত্রকোনায় ভুল সিজারে প্রসূতির মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় ০৪:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনায় ভুল চিকিৎসায় বারবার প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন। বুধবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় গঠিত কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম।

এতে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তৌফিক আহমেদকে প্রধান করে আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) একরামুল হাসান, গাইনি কনসাল্টেন্ট জান্নাত আফরোজ নূপুর, ডা. আহসানুল কবীর রিয়াদ ও ডা. উত্তম কুমার ভপালকে সদস্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার শহরের সূনেত্র নামের একটি ক্লিনিকে সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের আইরিন আক্তার ঝর্ণা নামের এক প্রসূতির সিজার করতে গিয়ে মূত্রথলি কেটে ফেলেন সিএফসি ডা. জীবন কৃষ্ণ। পরে তাকে এই অবস্থায় রেখে সহযোগীদের হাতে ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় আরেকটি সিজার করতে চলে যান তিনি।

এরপর প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের খবর পেয়ে এসে এবার ওই নারীর জরায়ু কেটে ফেলেন। এভাবে বারবার কাটাকাটির পর পরবর্তী সময়ে ওই নারীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে মারা যান ওই প্রসূতি।

মঙ্গলবার লাশ এনে লক্ষীগঞ্জ নিজ বাড়িতে দাফন করে স্বজনরা। সকালে পুলিশকে জানালেও সন্ধ্যায় মীমাংসা হয়ে যায় বিষয়টি।

এর আগে, আল নুর ক্লিনিকেও একই ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে ডা. জীবন কৃষ্ণ’র বিরুদ্ধে। কিন্তু লিখিত অভিযোগ করে আবার টাকায় মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় বারবার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না বলে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন জানায়।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম খান জানান, এই ডাক্তার বরাবরই এমন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অভিযোগগুলোও শেষ পর্যন্ত মীমাংসা হয়ে যায়। যে কারণে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না।

নানা ধরনের সিন্ডিকেটে বারবারই পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। এজন্য ঘটনাগুলোর তদন্তে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।