ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশও, বন্ধ হয়নি সব দরজা : বুলবুল নিউজিল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিধস, বহু মানুষ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান জোরদার তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি জনসভা, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসমুদ্র ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী এখনো ওত পেতে আছে : উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান নির্বাচনে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে: ডা. তাহের সারা দেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করল বিএনপি, তালিকায় যারা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, ৬৯ হাজারের বেশি উত্তীর্ণ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচন করতে নয়, বানচাল করতে এসেছেন : নুর বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, সিদ্ধান্ত আইসিসির

স্তন ক্যানসার রোধ করে যেসব খাবার

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

অক্টোবর মাস হলো ‘ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতন মাস।‘ জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সবাইকে কমবেশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হয়। বর্তমানে প্রায় ৫টি পরিবারের মধ্যে অন্ততপক্ষে ২টি পরিবারের একজন নারী সদস্য স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর বহু কারণ আছে।

প্রধান কারণ হলো- বংশগত, তারপর অতিরিক্ত পরিমাণে ভারী ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ, নিয়মিত চেকআপ না করানো, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি। এর বাইরেও আরও বহু কারণে স্তন ক্যানসার হয়ে থাকে। অনেক সময় স্তনে সিস্ট হয়।

এটি একজন চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ব্যবস্থা না নিলে সিস্ট থেকে টিউমার হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে এটি ক্যানসার ছড়ায়। সে জন্য সময় থাকতেই একজন ভালো গাইনোকলজিস্ট, অনকোলজিস্ট ও দক্ষ ডায়েটিশিয়ানের কাছে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এমন বহু ধরনের খাবার আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। যেমন-

সবুজ শাক-সবজি :

যেকোনো প্রকারের সবুজ শাক-সবজিতে আছে ভিটামিনস, মিনারেলস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

লেবু :

লেবুতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যানসার প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন হালকা কুসুম গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ ডিটক্সিফাইং হয় ফলে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং এটি সিস্টধ্বংস করতে সক্ষম। লেবু মুখের রুচি বাড়ায়।

টক ফল :

যেকোনো টক জাতীয় ফল যেমন আমলকি, মালটা, কমলালেবু, আমড়া, কাঁচা আম ইত্যাদি টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধ করে ও হার্টের জন্য ভালো।

মাশরুম :

মাশরুমে যে ধরনের প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে তা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

রসুন :

রসুনে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। নিয়মিত আস্ত রসুন তরকারিতে, খিচুড়িতে অথবা ব্লাঞ্চিং (গরম পানিতে ২-৫ মিনিট ফোটানো) করে খেলে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ হয়।

ডার্ক চকলেট :

চিনি ছাড়া ডার্ক চকলেট স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। মিল্ক চকলেটে প্রচুর চিনি থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ডার্ক চকলেট সবচেয়ে ভালো এবং এটি নার্ভ সিস্টেমকে সতেজ রাখে।

ওটমিল :

স্তন ক্যানসারের পরম শত্রু হলো হাই ফাইবার। ওটসে প্রচুর পরিমাণে হাই ফাইবার, ভিটামিন বি. কমপ্লেক্স, কার্বোহাইড্রেট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা গ্রহণের ফলে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ হয় ও শরীরে বিপুল শক্তি পাওয়া যায়।

দেশি মুরগি :

একজন স্তন ক্যানসারের রোগী কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি ও সার্জারি চলাকালীন প্রতিদিন একটির অর্ধেক করে দেশি মুরগির ঝোল খেতে পারবেন। এতে শরীরে শক্তি জোগাবে এবং দুর্বলতা কাটবে।

কালজিরা :

কালজিরাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। নিয়মিত কালজিরা গ্রহণে স্তন ক্যানসারসহ যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

আদা :

আদা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের আরেকটি উচ্চ ফাইবার যুক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। নিয়মিত সকালে পানিতে ভিজিয়ে, লাল চা অথবা স্যুপের মধ্যে আদা দেয়া যেতে পারে। এতে করে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং হার্ট ভালো থাকাসহ ক্যানসার প্রতিরোধ হবে।

পেঁয়াজ :

নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ গ্রহণে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

গ্রিন টি :

গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামক উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। ক্যানসার রোগীদের গ্রিন টি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কিডনির রোগীদের ডায়েট আলাদা।

বেটা-ক্যারোটিন যুক্ত খাবার :

বেটা-ক্যারোটিন হলো এক প্রকারের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে যেমন-বিটরুট, গাজর, লালশাক-সবজি, বেদানা/আনার ইত্যাদি।

সামুদ্রিক মাছ :

সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ আছে যা খেলে ভিটামিন ‘ডি’র অভাব পূরণ হয় এবং হার্টের জন্য ভালো। স্তন ক্যানসার রোগীদের জন্য সামুদ্রিক মাছ অনেক উপকারী।

করলা :

করলা যেকোনো তিতা খাবারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

অ্যাভোকেডো :

অ্যাভোকেডোতে উচ্চ প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিনস আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যাভোকেডোর সালাদ স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য উপকারী এবং চুলের জন্য বেশ উপকারী।

ব্ল্যাক কফি :

ব্ল্যাক কফিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

টকদই :

বাসার তৈরি টকদইতে অতি উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম আছে এবং এটি সহজেই হজমে সাহায্য করে যা স্তন ক্যানসারের রোগীর জন্য উপকারী।

দুধ :

দুধের প্রোটিন স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। কারণ উচ্চমাত্রার প্রোটিন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত এক গ্লাস দুধ পান করলে চুল মজবুত হওয়ার পাশাপাশি দেহের সমস্ত ব্যথা দূর করে।

ডিম :

ডিমের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম দেহের জন্য অনেক উপকারী। এতে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ যুক্ত ফ্যাটি এসিড আছে। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে ডিমের অনেক বড় ভূমিকা আছে৷

কাল গোলমরিচ :

কাল গোলমরিচ এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

সেলোরি :

সেলোরি স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য খুব উপকারী খাবার যা জুস, স্টু, স্যুপ ইত্যাদিতে খাওয়া যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী জুস :

(সেলোরি, গাজর ও বিটরুট) একসাথে সামান্য পানির সাথে ব্লেন্ডারে মিশিয়ে পান করলে রক্তের হিমোগ্লোবিন বেড়ে যাবে এবং ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ হবে।

সালাদ :

টমেটো, শসা ও পেঁয়াজে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এর সালাদ ক্যানসার রোগীর জন্য উপকারী।

শিং ও মাগুর মাছ :

শিং ও মাগুর মাছের ঝোল কেমোথেরাপি চলাকালীন গ্রহণ করলে হিমোগ্লোবিন কমতে দেয় না এবং শরীরে শক্তি জোগায়।

যেসব খাবার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে :

দুধ চা, চাষ করা মাছ, ব্রয়লার মুরগি, গ্রীল্ড করা খাবার, বাজারজাত জুস, বেকড খাবার, চিনি ও লবণ, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, যেকোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ, রেড মিট, চর্বি জাতীয় খাবার, বাইরের খোলামেলা খাবার, পাস্তুরিত দুধ, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও লবণাক্ত আচার, প্যাকেট চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই ও ডিপ ফ্রাইড খাবার।

একজন মানুষ যদি সম্পূর্ণভাবে উপরের নিয়মাবলি অনুসরণ করে তাহলে তার ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। এতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবেন। তাই ক্যানসার প্রতিরোধের বড় মাধ্যম হলো সুস্থ জীবন যাপন এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েট।

লেখক: ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান, ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেড

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্তন ক্যানসার রোধ করে যেসব খাবার

আপডেট সময় ১০:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

অক্টোবর মাস হলো ‘ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতন মাস।‘ জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সবাইকে কমবেশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হয়। বর্তমানে প্রায় ৫টি পরিবারের মধ্যে অন্ততপক্ষে ২টি পরিবারের একজন নারী সদস্য স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর বহু কারণ আছে।

প্রধান কারণ হলো- বংশগত, তারপর অতিরিক্ত পরিমাণে ভারী ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ, নিয়মিত চেকআপ না করানো, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি। এর বাইরেও আরও বহু কারণে স্তন ক্যানসার হয়ে থাকে। অনেক সময় স্তনে সিস্ট হয়।

এটি একজন চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ব্যবস্থা না নিলে সিস্ট থেকে টিউমার হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে এটি ক্যানসার ছড়ায়। সে জন্য সময় থাকতেই একজন ভালো গাইনোকলজিস্ট, অনকোলজিস্ট ও দক্ষ ডায়েটিশিয়ানের কাছে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এমন বহু ধরনের খাবার আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। যেমন-

সবুজ শাক-সবজি :

যেকোনো প্রকারের সবুজ শাক-সবজিতে আছে ভিটামিনস, মিনারেলস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

লেবু :

লেবুতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ক্যানসার প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন হালকা কুসুম গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের যাবতীয় দূষিত পদার্থ ডিটক্সিফাইং হয় ফলে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং এটি সিস্টধ্বংস করতে সক্ষম। লেবু মুখের রুচি বাড়ায়।

টক ফল :

যেকোনো টক জাতীয় ফল যেমন আমলকি, মালটা, কমলালেবু, আমড়া, কাঁচা আম ইত্যাদি টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধ করে ও হার্টের জন্য ভালো।

মাশরুম :

মাশরুমে যে ধরনের প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে তা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

রসুন :

রসুনে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। নিয়মিত আস্ত রসুন তরকারিতে, খিচুড়িতে অথবা ব্লাঞ্চিং (গরম পানিতে ২-৫ মিনিট ফোটানো) করে খেলে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ হয়।

ডার্ক চকলেট :

চিনি ছাড়া ডার্ক চকলেট স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। মিল্ক চকলেটে প্রচুর চিনি থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ডার্ক চকলেট সবচেয়ে ভালো এবং এটি নার্ভ সিস্টেমকে সতেজ রাখে।

ওটমিল :

স্তন ক্যানসারের পরম শত্রু হলো হাই ফাইবার। ওটসে প্রচুর পরিমাণে হাই ফাইবার, ভিটামিন বি. কমপ্লেক্স, কার্বোহাইড্রেট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা গ্রহণের ফলে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ হয় ও শরীরে বিপুল শক্তি পাওয়া যায়।

দেশি মুরগি :

একজন স্তন ক্যানসারের রোগী কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি ও সার্জারি চলাকালীন প্রতিদিন একটির অর্ধেক করে দেশি মুরগির ঝোল খেতে পারবেন। এতে শরীরে শক্তি জোগাবে এবং দুর্বলতা কাটবে।

কালজিরা :

কালজিরাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। নিয়মিত কালজিরা গ্রহণে স্তন ক্যানসারসহ যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

আদা :

আদা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের আরেকটি উচ্চ ফাইবার যুক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। নিয়মিত সকালে পানিতে ভিজিয়ে, লাল চা অথবা স্যুপের মধ্যে আদা দেয়া যেতে পারে। এতে করে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং হার্ট ভালো থাকাসহ ক্যানসার প্রতিরোধ হবে।

পেঁয়াজ :

নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ গ্রহণে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

গ্রিন টি :

গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামক উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। ক্যানসার রোগীদের গ্রিন টি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কিডনির রোগীদের ডায়েট আলাদা।

বেটা-ক্যারোটিন যুক্ত খাবার :

বেটা-ক্যারোটিন হলো এক প্রকারের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে যেমন-বিটরুট, গাজর, লালশাক-সবজি, বেদানা/আনার ইত্যাদি।

সামুদ্রিক মাছ :

সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ আছে যা খেলে ভিটামিন ‘ডি’র অভাব পূরণ হয় এবং হার্টের জন্য ভালো। স্তন ক্যানসার রোগীদের জন্য সামুদ্রিক মাছ অনেক উপকারী।

করলা :

করলা যেকোনো তিতা খাবারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

অ্যাভোকেডো :

অ্যাভোকেডোতে উচ্চ প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিনস আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যাভোকেডোর সালাদ স্তন ক্যানসার রোগীর জন্য উপকারী এবং চুলের জন্য বেশ উপকারী।

ব্ল্যাক কফি :

ব্ল্যাক কফিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

টকদই :

বাসার তৈরি টকদইতে অতি উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম আছে এবং এটি সহজেই হজমে সাহায্য করে যা স্তন ক্যানসারের রোগীর জন্য উপকারী।

দুধ :

দুধের প্রোটিন স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। কারণ উচ্চমাত্রার প্রোটিন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। নিয়মিত এক গ্লাস দুধ পান করলে চুল মজবুত হওয়ার পাশাপাশি দেহের সমস্ত ব্যথা দূর করে।

ডিম :

ডিমের প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম দেহের জন্য অনেক উপকারী। এতে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ যুক্ত ফ্যাটি এসিড আছে। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে ডিমের অনেক বড় ভূমিকা আছে৷

কাল গোলমরিচ :

কাল গোলমরিচ এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

সেলোরি :

সেলোরি স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য খুব উপকারী খাবার যা জুস, স্টু, স্যুপ ইত্যাদিতে খাওয়া যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধে উপকারী জুস :

(সেলোরি, গাজর ও বিটরুট) একসাথে সামান্য পানির সাথে ব্লেন্ডারে মিশিয়ে পান করলে রক্তের হিমোগ্লোবিন বেড়ে যাবে এবং ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ হবে।

সালাদ :

টমেটো, শসা ও পেঁয়াজে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এর সালাদ ক্যানসার রোগীর জন্য উপকারী।

শিং ও মাগুর মাছ :

শিং ও মাগুর মাছের ঝোল কেমোথেরাপি চলাকালীন গ্রহণ করলে হিমোগ্লোবিন কমতে দেয় না এবং শরীরে শক্তি জোগায়।

যেসব খাবার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে :

দুধ চা, চাষ করা মাছ, ব্রয়লার মুরগি, গ্রীল্ড করা খাবার, বাজারজাত জুস, বেকড খাবার, চিনি ও লবণ, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, যেকোনো কার্বোনেটেড বেভারেজ, রেড মিট, চর্বি জাতীয় খাবার, বাইরের খোলামেলা খাবার, পাস্তুরিত দুধ, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও লবণাক্ত আচার, প্যাকেট চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই ও ডিপ ফ্রাইড খাবার।

একজন মানুষ যদি সম্পূর্ণভাবে উপরের নিয়মাবলি অনুসরণ করে তাহলে তার ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। এতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবেন। তাই ক্যানসার প্রতিরোধের বড় মাধ্যম হলো সুস্থ জীবন যাপন এবং স্বাস্থ্যকর ডায়েট।

লেখক: ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান, ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেড