ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাছুরের মৃত্যুতে মালিকের শাস্তি ৭ দিনের ভিক্ষা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দুর্ঘটনাবশত গলায় ফাঁস লেগে মরে গেছে একটি বাছুর। এ জন্য শাপমোচনের জন্য ৫৫ বছর বয়সী এক নারীকে এক সপ্তাহ ধরে ভিক্ষে করতে বাধ্য করা হয়েছে। এমন কি গ্রাম্য পঞ্চায়েত তাকে এ সময়ে নিজের গ্রামেও প্রবেশ করতে অনুমতি দেয় নি। ভিক্ষার সংগৃহীত অর্থ দিয়ে তাকে পাঠানোর কথা গঙ্গাস্নানে।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, এমন ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বিন্দ এলাকায়। ৩১ শে আগস্ট মাতাদিন গ্রামের কমলেশ একটি বাছুরকে তার মায়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই সময় বাছুরটির গলায় থাকা রশিতে ফাঁস লেগে যায়। সেদিকে খেয়াল না করে তাকে টানতে থাকেন কমলেশ। এতে বাছুরটি মারা যায়। এ ঘটনায় বিচার বসে স্থানীয় পঞ্চায়েতে। সেখান থেকে নির্দেশ দেয়া হয় কমলেশকে আশপাশের গ্রামে এক সপ্তাহ ভিক্ষা করতে হবে। তা না করলে তাকে সামাজিকভাবে সারাজীবনের জন্য বয়কট করার কথা বলা হয়।

কমলেশের ছেলে অনীল শ্রীবাস বলেছেন, পঞ্চায়েত মাকে ৭ দিনের জন্য বয়কট করেছে। এমন কি তাকে নিজ গ্রামেও ঢুকতে দেয় নি। তার মার বিরুদ্ধে এমন নির্দেশ দিলেও ভয়ে কেউ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি তোলে নি। অনীল বলেন, সেই থেকে তার মা একজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে পাশের একটি গ্রামে অবস্থান করছেন। প্রতিদিন ভিক্ষা করছেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভর্তি করানো হয় একটি হাসপাতালে। সেখান থেকে কমলেশ ছাড়া পেয়েছেন সোমবার। ওদিকে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পঞ্চায়েত প্রধান শম্ভু শ্রীবাস এমন নির্দেশ দেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কমলেশ নিজেই পঞ্চায়েত সদস্যদের ডাকেন এবং তাদেরকে বলেন যে, তিনি প্রায়শ্চিত্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হয় নি। পুলিশ বলেছে, তারা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অনীল সিং কুশবাহা বলেছেন, এখনও আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসে নি। এর আগে জুলাই মাসে তিক্রামগড় জেলার একটি গ্রামের উচ্চ বর্ণের এক গ্রামবাসীকে গঙ্গায় ডুব দিয়ে শাপমোচনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, রাগের বশে তিনি একটি গরুকে হত্যা করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাছুরের মৃত্যুতে মালিকের শাস্তি ৭ দিনের ভিক্ষা

আপডেট সময় ১০:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দুর্ঘটনাবশত গলায় ফাঁস লেগে মরে গেছে একটি বাছুর। এ জন্য শাপমোচনের জন্য ৫৫ বছর বয়সী এক নারীকে এক সপ্তাহ ধরে ভিক্ষে করতে বাধ্য করা হয়েছে। এমন কি গ্রাম্য পঞ্চায়েত তাকে এ সময়ে নিজের গ্রামেও প্রবেশ করতে অনুমতি দেয় নি। ভিক্ষার সংগৃহীত অর্থ দিয়ে তাকে পাঠানোর কথা গঙ্গাস্নানে।

এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, এমন ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বিন্দ এলাকায়। ৩১ শে আগস্ট মাতাদিন গ্রামের কমলেশ একটি বাছুরকে তার মায়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই সময় বাছুরটির গলায় থাকা রশিতে ফাঁস লেগে যায়। সেদিকে খেয়াল না করে তাকে টানতে থাকেন কমলেশ। এতে বাছুরটি মারা যায়। এ ঘটনায় বিচার বসে স্থানীয় পঞ্চায়েতে। সেখান থেকে নির্দেশ দেয়া হয় কমলেশকে আশপাশের গ্রামে এক সপ্তাহ ভিক্ষা করতে হবে। তা না করলে তাকে সামাজিকভাবে সারাজীবনের জন্য বয়কট করার কথা বলা হয়।

কমলেশের ছেলে অনীল শ্রীবাস বলেছেন, পঞ্চায়েত মাকে ৭ দিনের জন্য বয়কট করেছে। এমন কি তাকে নিজ গ্রামেও ঢুকতে দেয় নি। তার মার বিরুদ্ধে এমন নির্দেশ দিলেও ভয়ে কেউ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি তোলে নি। অনীল বলেন, সেই থেকে তার মা একজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে পাশের একটি গ্রামে অবস্থান করছেন। প্রতিদিন ভিক্ষা করছেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভর্তি করানো হয় একটি হাসপাতালে। সেখান থেকে কমলেশ ছাড়া পেয়েছেন সোমবার। ওদিকে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পঞ্চায়েত প্রধান শম্ভু শ্রীবাস এমন নির্দেশ দেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কমলেশ নিজেই পঞ্চায়েত সদস্যদের ডাকেন এবং তাদেরকে বলেন যে, তিনি প্রায়শ্চিত্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হয় নি। পুলিশ বলেছে, তারা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অনীল সিং কুশবাহা বলেছেন, এখনও আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসে নি। এর আগে জুলাই মাসে তিক্রামগড় জেলার একটি গ্রামের উচ্চ বর্ণের এক গ্রামবাসীকে গঙ্গায় ডুব দিয়ে শাপমোচনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, রাগের বশে তিনি একটি গরুকে হত্যা করেছেন।