ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

আওয়ামী লীগের আগামী তারকা কে?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন মহামানব রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি রাজনীতির একজন রূপকার ছিলেন, যার হাত দিয়ে আওয়ামী লীগে গড়ে উঠেছে অনেক নেতা। যারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতিতে একেকজন তারকা বনে গিয়েছিলেন। আজকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা তারকা হিসেবে চিহ্নিত এরা সবাই জাতির পিতার হাতে গড়া। এদের কেউ বিপথে গেছেন, কেউ এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে আছেন। কিন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে তারা পরিচিত এবং তারকা খ্যাতি পেয়েছেন। ’৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেক রূপকারের আবির্ভাব হয়, তিনি হলেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুনদের আগমন ঘটে। অনেক মেধাবী তরুণসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছেন। তাদের মেধা মননকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেছেন। যেখানে ’৭৫ পরবর্তী রাজনীতিতে কালো টাকা সন্ত্রাসের দৌরাত্ম ছিল, সেখানে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে একটি সুস্থ ধারা তৈরির জন্য অনেক মেধাবী তরুণকে রাজনীতিতে এনেছেন, যারা আগামীর রাজনীতিতে তারকা হয়ে উঠতে পারেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তোফায়েল হোসেন, আমির হোসেন আমু বা অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীদের যুগের অবসান হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নতুন তারকা কারা হবেন- এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন নানা রকম আলাপ-আলোচনা হয়। যাদেরকে নিয়ে সম্ভাবনা দেখছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, তাদের মধ্যে কয়েকজন;

শেখ ফজলে নূর তাপস

শেখ ফজলে নূর তাপসকে আওয়ামী লীগের আগামী দিনের তারকা মনে করা হয়। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে রাজনীতিতে সৎ, মার্জিত, রুচিশীল এবং ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একটি ইমেজ তৈরী করতে পেরেছেন তাপস। তিনবার ধানমন্ডি আসনে এমপি হওয়ার পর তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত তিনি তার নামের প্রতি সুবিচার করছেন। আওয়ামী লীগের তরুণদের মধ্যে শেখ ফজলে নূর তাপসই একমাত্র যার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে সব মহলে। যিনি কাজ করে দেখাচ্ছেন যে, তরুণরাও পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে, তার একটা পরিচ্ছিন্ন ইমেজ জনগনের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সেখান থেকে তিনি নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালেই নদীর দু পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আলোচিত হয়েছেন। রাজনীতিতে মার্জিত, ভদ্র এবং কর্তব্যপরায়ণ একজন ব্যক্তি হিসাবে তিনি ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তরুণ এ রাজনীতিবিদও আগামী দিনে রাজনৈতিক তারকা হিসাবে আবির্ভূত হতে পারেন।

এ কে এম এনামুল হক শামীম

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এ কে এম এনামুল হক শামীম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সহসভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতিতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এবার নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর উপমন্ত্রী হয়েছেন। যদিও উপমন্ত্রীর চেয়ে রাজনৈতিক এনামুল হক শামীমই বেশি জনপ্রিয় এবং কাঙ্খিত। তারপরও শেখ হাসিনা তাকে যেমন সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা দিচ্ছেন, তেমনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তো তার আছেই। এনামুল হক শামীমও যদি আগামী দিনের তারকা হয়ে যান, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

বিপ্লব বড়ুয়া

বিপ্লব বড়ুয়া এক রকম শেখ হাসিনার আবিস্কারই বলা যেতে পারে। রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যাকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক থেকে দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন। শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সৎ, মেধাবী, মার্জিত এই তরুণ নেতার ওপরও অনেকে আশাবাদী। তারও ভবিষ্যৎ উজ্জল বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেকেই।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

আওয়ামী লীগের আরেক বড় চমক ছিলো এবারের নির্বাচনে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে মনোনয়ন দেওয়া। মাশরাফি বিন মর্তুজা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু ক্রীড়াবিদ নন, রাজনীতিতেও তার আগ্রহ আছে, পরিশ্রম করার ইচ্ছে আছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি জনগনের জন্য কিছু করতে চান। তিনিও আগামী দিনের একজন তারকা হিসাবে রাজনীতিতে স্বীকৃতি পেতে পারেন।

আওয়ামী লীগের এমন অনেককে নিয়েই সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে যারা আগামী দিনে আওয়ামী লীগ বা দেশের রাজনীতিতে বড় তারকা হিসাবে আবির্ভূত হবেন, যদি তারা আদর্শ ধরে রাখতে পারেন, সততা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং রাজনীতিকে ভালোবাসতে পারেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

আওয়ামী লীগের আগামী তারকা কে?

আপডেট সময় ০৪:৪২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন মহামানব রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি রাজনীতির একজন রূপকার ছিলেন, যার হাত দিয়ে আওয়ামী লীগে গড়ে উঠেছে অনেক নেতা। যারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতিতে একেকজন তারকা বনে গিয়েছিলেন। আজকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা তারকা হিসেবে চিহ্নিত এরা সবাই জাতির পিতার হাতে গড়া। এদের কেউ বিপথে গেছেন, কেউ এখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে আছেন। কিন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে তারা পরিচিত এবং তারকা খ্যাতি পেয়েছেন। ’৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেক রূপকারের আবির্ভাব হয়, তিনি হলেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুনদের আগমন ঘটে। অনেক মেধাবী তরুণসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছেন। তাদের মেধা মননকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেছেন। যেখানে ’৭৫ পরবর্তী রাজনীতিতে কালো টাকা সন্ত্রাসের দৌরাত্ম ছিল, সেখানে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে একটি সুস্থ ধারা তৈরির জন্য অনেক মেধাবী তরুণকে রাজনীতিতে এনেছেন, যারা আগামীর রাজনীতিতে তারকা হয়ে উঠতে পারেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তোফায়েল হোসেন, আমির হোসেন আমু বা অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীদের যুগের অবসান হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নতুন তারকা কারা হবেন- এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন নানা রকম আলাপ-আলোচনা হয়। যাদেরকে নিয়ে সম্ভাবনা দেখছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, তাদের মধ্যে কয়েকজন;

শেখ ফজলে নূর তাপস

শেখ ফজলে নূর তাপসকে আওয়ামী লীগের আগামী দিনের তারকা মনে করা হয়। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে রাজনীতিতে সৎ, মার্জিত, রুচিশীল এবং ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একটি ইমেজ তৈরী করতে পেরেছেন তাপস। তিনবার ধানমন্ডি আসনে এমপি হওয়ার পর তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত তিনি তার নামের প্রতি সুবিচার করছেন। আওয়ামী লীগের তরুণদের মধ্যে শেখ ফজলে নূর তাপসই একমাত্র যার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে সব মহলে। যিনি কাজ করে দেখাচ্ছেন যে, তরুণরাও পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে, তার একটা পরিচ্ছিন্ন ইমেজ জনগনের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সেখান থেকে তিনি নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালেই নদীর দু পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আলোচিত হয়েছেন। রাজনীতিতে মার্জিত, ভদ্র এবং কর্তব্যপরায়ণ একজন ব্যক্তি হিসাবে তিনি ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তরুণ এ রাজনীতিবিদও আগামী দিনে রাজনৈতিক তারকা হিসাবে আবির্ভূত হতে পারেন।

এ কে এম এনামুল হক শামীম

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এ কে এম এনামুল হক শামীম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সহসভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতিতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এবার নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর উপমন্ত্রী হয়েছেন। যদিও উপমন্ত্রীর চেয়ে রাজনৈতিক এনামুল হক শামীমই বেশি জনপ্রিয় এবং কাঙ্খিত। তারপরও শেখ হাসিনা তাকে যেমন সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা দিচ্ছেন, তেমনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তো তার আছেই। এনামুল হক শামীমও যদি আগামী দিনের তারকা হয়ে যান, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

বিপ্লব বড়ুয়া

বিপ্লব বড়ুয়া এক রকম শেখ হাসিনার আবিস্কারই বলা যেতে পারে। রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যাকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক থেকে দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন। শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সৎ, মেধাবী, মার্জিত এই তরুণ নেতার ওপরও অনেকে আশাবাদী। তারও ভবিষ্যৎ উজ্জল বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেকেই।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

আওয়ামী লীগের আরেক বড় চমক ছিলো এবারের নির্বাচনে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে মনোনয়ন দেওয়া। মাশরাফি বিন মর্তুজা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু ক্রীড়াবিদ নন, রাজনীতিতেও তার আগ্রহ আছে, পরিশ্রম করার ইচ্ছে আছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি জনগনের জন্য কিছু করতে চান। তিনিও আগামী দিনের একজন তারকা হিসাবে রাজনীতিতে স্বীকৃতি পেতে পারেন।

আওয়ামী লীগের এমন অনেককে নিয়েই সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে যারা আগামী দিনে আওয়ামী লীগ বা দেশের রাজনীতিতে বড় তারকা হিসাবে আবির্ভূত হবেন, যদি তারা আদর্শ ধরে রাখতে পারেন, সততা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং রাজনীতিকে ভালোবাসতে পারেন।