ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন শিশুদের সঠিক শিক্ষা প্রদানের জন্য আমরা প্রাইমারি শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাচ্ছি: তারেক রহমান ‘অতীতেও পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব’:মির্জা ফখরুল দ.আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন

হ্যাম রেডিও দিয়ে প্রায় ১২০০০ কিলোমিটার দূরের সিগন্যাল পেলেন

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

হ্যাম রেডিও বা অ্যামেচার রেডিও অপারেটরগণ শখের বসে রেডিও স্টেশন পরিচালনা করেন। দেশের সীমানা পেড়িয়ে দেশ-বিদেশে এমনকি মহাকাশেও পৌঁছে যায় তাদের রেডিও সিগন্যাল। আর এসব সিগন্যাল রিসিভ করা বা শোনার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের হ্যাম রেডিও অপারেটরগণ দিন-রাত রেডিও অন করে বসে থাকেন। বিনা খরচে রেডিওর মাধ্যমে দূরদূরান্তে যোগাযোগ করেন। এবার শোনা গেলো এমনই এক সফলতার গল্প।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের হ্যাম রেডিও অপারেটর বাবুল গুপ্ত প্রথমবার শুনতে পেলেন অ্যান্টার্কটিকার শব্দ। যা কিনা ১২০০০ কিলোমিটার দূর থেকে প্রেরিত সিগন্যাল। ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলোর বরাতে এই খবর জানা গেছে।

মেরু অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানকার প্রকৃতি, আবহাওয়া বুঝতে অভিযাত্রী বিজ্ঞানীরা তাবু খাঁটিয়ে সেখানে দিন কাটান। বরফ মোড়া জমিতে শরীর সূঁচ ফোটানোর মতো ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে বছরের পর বছর চলে পরীক্ষা। সেসব গবেষণা কতদূর এগোল, তা জানাতে প্রতি বছর একদিন করে রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্প্রচার করেন বৈজ্ঞানিকরা। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যতিক্রম অন্য একটি ঘটনা। সুদূর দক্ষিণ মেরু থেকে সেই প্রচারিত সেই শব্দতরঙ্গ এসে পৌঁছল বারাসতে। দীর্ঘ চেষ্টার পর এখানকার হ্যাম রেডিও অপারেটর বাবুল গুপ্ত প্রথমবার শুনতে পেলেন অ্যান্টার্কটিকার শব্দ। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত তিনি।

বাবুল গুপ্তর এই সাফল্য কিন্তু সহজে আসেনি। তার কারণ বিবিধ। প্রথমত ভৌগলিক দিক থেকে ভারতের অবস্থান এই দক্ষিণ মেরুর সম্পূর্ণ বিপরীতে। ফলে সেখান থেকে সম্প্রচারিত রেডিও সিগন্যাল শুনতে পাওয়াটা দুর্লভ। এছাড়া বহু বছর ধরে অপেক্ষার পরও রেডিও সিগন্যাল ধরা দেয় না। তাই তো মেরুপ্রদেশ থেকে এই সম্প্রচার শোনার জন্য বছরের পর বছর ধরে মানুষজন অপেক্ষা করে থাকেন। কবে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে ধরা দেবে সেই শব্দতরঙ্গ।

সেভাবেই জীবনের অনেকগুলো বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন বাবুল গুপ্ত। কিন্তু আশা ছাড়েননি। তিনি নিজে একজন হ্যাম রেডিও অপারেটর। আর তাতে তার নিজের কৃতিত্বও তো কম নয়। পৃথিবীর সব কয়টি দেশের সঙ্গে স্রেফ রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের বিরল কাজের নজির রয়েছে বাবুল গুপ্তর। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সদস্য তাই জানতেন, তার এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান একদিন হবেই, আসবেই সাফল্য।

সাফল্য এলও। ৮ আগস্ট দক্ষিণ মেরুর এলআরএ ৩৬ ক্যাম্প, যা আর্জেন্টিনায় এলাকায় অবস্থিত, সেখান থেকে রেডিও সিগন্যাল মারফত শব্দতরঙ্গে এসে পৌঁছল বারাসতে। বাবুল গুপ্ত সেখান থেকে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান শুনে, তা রেকর্ড করে রাখেন। তিনি যে শুনতে পেয়েছেন, তার প্রমাণ স্বরূপ রেকর্ডিং ইমেইলে পাঠিয়ে দেন এলআরএ ৩৬ ক্যাম্পে। উত্তরও দেন দক্ষিণ মেরুতে অবস্থানকারী বৈজ্ঞানিক দল। তাদের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান যে ১২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে কেউ শুনতে পেয়েছেন, তা জেনে তারা আপ্লুত। আর এই দুর্লভ কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ এলআরএ ৩৬ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকে বাবুল গুপ্তকে সনদ দেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার চাইলে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান: নাকভি

হ্যাম রেডিও দিয়ে প্রায় ১২০০০ কিলোমিটার দূরের সিগন্যাল পেলেন

আপডেট সময় ০৯:১৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

হ্যাম রেডিও বা অ্যামেচার রেডিও অপারেটরগণ শখের বসে রেডিও স্টেশন পরিচালনা করেন। দেশের সীমানা পেড়িয়ে দেশ-বিদেশে এমনকি মহাকাশেও পৌঁছে যায় তাদের রেডিও সিগন্যাল। আর এসব সিগন্যাল রিসিভ করা বা শোনার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের হ্যাম রেডিও অপারেটরগণ দিন-রাত রেডিও অন করে বসে থাকেন। বিনা খরচে রেডিওর মাধ্যমে দূরদূরান্তে যোগাযোগ করেন। এবার শোনা গেলো এমনই এক সফলতার গল্প।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের হ্যাম রেডিও অপারেটর বাবুল গুপ্ত প্রথমবার শুনতে পেলেন অ্যান্টার্কটিকার শব্দ। যা কিনা ১২০০০ কিলোমিটার দূর থেকে প্রেরিত সিগন্যাল। ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলোর বরাতে এই খবর জানা গেছে।

মেরু অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানকার প্রকৃতি, আবহাওয়া বুঝতে অভিযাত্রী বিজ্ঞানীরা তাবু খাঁটিয়ে সেখানে দিন কাটান। বরফ মোড়া জমিতে শরীর সূঁচ ফোটানোর মতো ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে বছরের পর বছর চলে পরীক্ষা। সেসব গবেষণা কতদূর এগোল, তা জানাতে প্রতি বছর একদিন করে রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্প্রচার করেন বৈজ্ঞানিকরা। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যতিক্রম অন্য একটি ঘটনা। সুদূর দক্ষিণ মেরু থেকে সেই প্রচারিত সেই শব্দতরঙ্গ এসে পৌঁছল বারাসতে। দীর্ঘ চেষ্টার পর এখানকার হ্যাম রেডিও অপারেটর বাবুল গুপ্ত প্রথমবার শুনতে পেলেন অ্যান্টার্কটিকার শব্দ। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত তিনি।

বাবুল গুপ্তর এই সাফল্য কিন্তু সহজে আসেনি। তার কারণ বিবিধ। প্রথমত ভৌগলিক দিক থেকে ভারতের অবস্থান এই দক্ষিণ মেরুর সম্পূর্ণ বিপরীতে। ফলে সেখান থেকে সম্প্রচারিত রেডিও সিগন্যাল শুনতে পাওয়াটা দুর্লভ। এছাড়া বহু বছর ধরে অপেক্ষার পরও রেডিও সিগন্যাল ধরা দেয় না। তাই তো মেরুপ্রদেশ থেকে এই সম্প্রচার শোনার জন্য বছরের পর বছর ধরে মানুষজন অপেক্ষা করে থাকেন। কবে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে ধরা দেবে সেই শব্দতরঙ্গ।

সেভাবেই জীবনের অনেকগুলো বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন বাবুল গুপ্ত। কিন্তু আশা ছাড়েননি। তিনি নিজে একজন হ্যাম রেডিও অপারেটর। আর তাতে তার নিজের কৃতিত্বও তো কম নয়। পৃথিবীর সব কয়টি দেশের সঙ্গে স্রেফ রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের বিরল কাজের নজির রয়েছে বাবুল গুপ্তর। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সদস্য তাই জানতেন, তার এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান একদিন হবেই, আসবেই সাফল্য।

সাফল্য এলও। ৮ আগস্ট দক্ষিণ মেরুর এলআরএ ৩৬ ক্যাম্প, যা আর্জেন্টিনায় এলাকায় অবস্থিত, সেখান থেকে রেডিও সিগন্যাল মারফত শব্দতরঙ্গে এসে পৌঁছল বারাসতে। বাবুল গুপ্ত সেখান থেকে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান শুনে, তা রেকর্ড করে রাখেন। তিনি যে শুনতে পেয়েছেন, তার প্রমাণ স্বরূপ রেকর্ডিং ইমেইলে পাঠিয়ে দেন এলআরএ ৩৬ ক্যাম্পে। উত্তরও দেন দক্ষিণ মেরুতে অবস্থানকারী বৈজ্ঞানিক দল। তাদের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান যে ১২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে কেউ শুনতে পেয়েছেন, তা জেনে তারা আপ্লুত। আর এই দুর্লভ কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ এলআরএ ৩৬ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র থেকে বাবুল গুপ্তকে সনদ দেয়া হয়েছে।