ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান

কি অপরাধ মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া। একসময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের অপরিহার্য নেতা ছিলেন, কিন্তু এখন অপাংক্তেয়। কেউ যদি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ভিডিও ফুটেজগুলো একটু যত্নসহকারে দেখে, তাহলে দেখবেন যে আওয়ামী লীগ সভাপতির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো মধ্যে একজন মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর আদর্শিক কোন ত্রুটি নেই, তিনি কর্মীবান্ধব এবং কর্মীদের মধ্যে ভালো সংগঠক হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু তারপরেও মায়া কোথাও নেই।

গত নির্বাচনে মায়া মনোনয়ন পাননি। মন্ত্রী থেকেও মনোনয়ন না পাওয়াটা ছিল এক ধরণের বিস্ময়কর ব্যাপার এবং এখন রাজনীতিতে তিনি প্রায় পতিত একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছেন। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝেমাঝে প্রশ্ন ওঠে যে, কি অপরাধ মায়ার?

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঢাকা মহানগরীকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে যাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়, বিশেষ করে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর বিশ্বাসঘাতকতার পর ঢাকার দূর্গ রক্ষার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অবশ্যই মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার নাম আসবে। মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে তাঁর দুরত্ব, টানাপোড়েন ইত্যাদির পরেও হানিফ-মায়া জুটি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটি বড় উদাহরণ। আর এই জুটির কারণেই ঢাকা মহানগরীতে ’৭৫ এর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ একটি সংগঠিত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচনে মোহাম্মদ হানিফ বিজয়ী হয়েছিলেন এবং সেখানে বিরোধী দলে থেকে ঢাকা দখলের ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে অবশ্যই মায়া অন্যতম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেষ দফায় তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার রাজনীতি করলেও তিনি ঢাকায় কখনো মনোনয়ন পাননি। তিনি নির্বাচন করেছেন চাঁদপুরে। এরপর ২০১৪ তে তিনি দুর্যোগ এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্ট যে তাঁকে খালাস দিয়েছিল তা আপিল বিভাগ বাতিল করে তাকে পুনর্বার বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ প্রদান করে। সেই মামলার কোন হদিস নেই এবং সেইসময় ঐ বিতর্ক মাথায় নিয়েই মায়া মন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন।

তবে মাঠের রাজনীতিতে মায়া যতটুকু নন্দিত, যতটুকু কর্মীবান্ধব ঠিক তেমনিই মায়ার দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি এবং আত্মীয়স্বজনের বিতর্কিত ভূমিকা তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ১৯৯৬-২০০১ সালে মায়ার পুত্রের অপকর্ম গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেটা মায়াকে বিতর্কিত করেছিল। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে মায়া দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। যারা সেই সময়ে সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সম্মুখে থেকে যুদ্ধ করেছিলেন তাঁদের তালিকায় মায়া নেই। কাজেই সঙ্কটের সময় রুখে দাঁড়ানোর মতো নেতা হিসেবে মায়া নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।

২০০৮ এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মেয়ের জামাইয়ের কেলেঙ্কারি মায়াকে আবার সমালচনায় বিদ্ধ করে। এই সময় নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে তাঁর মেয়ের জামাই। এই ঘটনাটি শুধু মায়াকে নয়, গোটা আওয়ামী লীগকেই বিব্রত করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা মনে করেন যে, মায়ার যে সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মী ও সংগঠনের প্রতি যে ভালোবাসা তা সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তাঁর কিছু আত্মীয়স্বজনের দুর্নীতি- দুর্বৃত্তায়ন এবং অপকর্মের কারণে। আর এই কারণেই রাজনীতিতে মায়া অপাংক্তেয় হয়ে গেছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মায়াকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। গত বছরের সম্মেলনে অনেকেই আশা করেছিল যে, মায়াকে হয়তো আবার ঢাকার নেতৃত্বে দেওয়া হবে, কিন্তু সেটাও দেওয়া হয়নি। রাজনীতিতে হিরো থেকে জিরো হয়ে যাওয়া মায়ার অপরাধ কি সেটা নিয়ে মায়া মাঝেমাঝে বিভিন্ন মানুষের কাছে প্রশ্ন করেন। তবে রাজনীতিতে শুধু মাঠের রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে। মাঠের চেয়ে এখন রাজনীতি অনেক মেরুকরণ-সমীকরণের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর সেই মেরুকরণ-সমীকরণের হিসেবনিকেশে হয়তো মায়া নিক্ষেপিত হয়েছেন সাময়িক সময়ের জন্যে। তবে ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে মায়ার নাম দীর্ঘদিন পর্যন্ত আলোচনায় থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শাহ আমানতে রান্নার সরঞ্জামে সোনা পাচার, আটক ১

কি অপরাধ মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার?

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া। একসময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের অপরিহার্য নেতা ছিলেন, কিন্তু এখন অপাংক্তেয়। কেউ যদি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ভিডিও ফুটেজগুলো একটু যত্নসহকারে দেখে, তাহলে দেখবেন যে আওয়ামী লীগ সভাপতির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো মধ্যে একজন মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর আদর্শিক কোন ত্রুটি নেই, তিনি কর্মীবান্ধব এবং কর্মীদের মধ্যে ভালো সংগঠক হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু তারপরেও মায়া কোথাও নেই।

গত নির্বাচনে মায়া মনোনয়ন পাননি। মন্ত্রী থেকেও মনোনয়ন না পাওয়াটা ছিল এক ধরণের বিস্ময়কর ব্যাপার এবং এখন রাজনীতিতে তিনি প্রায় পতিত একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছেন। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝেমাঝে প্রশ্ন ওঠে যে, কি অপরাধ মায়ার?

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঢাকা মহানগরীকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে যাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়, বিশেষ করে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর বিশ্বাসঘাতকতার পর ঢাকার দূর্গ রক্ষার ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অবশ্যই মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার নাম আসবে। মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে তাঁর দুরত্ব, টানাপোড়েন ইত্যাদির পরেও হানিফ-মায়া জুটি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটি বড় উদাহরণ। আর এই জুটির কারণেই ঢাকা মহানগরীতে ’৭৫ এর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ একটি সংগঠিত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচনে মোহাম্মদ হানিফ বিজয়ী হয়েছিলেন এবং সেখানে বিরোধী দলে থেকে ঢাকা দখলের ক্ষেত্রে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে অবশ্যই মায়া অন্যতম। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেষ দফায় তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার রাজনীতি করলেও তিনি ঢাকায় কখনো মনোনয়ন পাননি। তিনি নির্বাচন করেছেন চাঁদপুরে। এরপর ২০১৪ তে তিনি দুর্যোগ এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্ট যে তাঁকে খালাস দিয়েছিল তা আপিল বিভাগ বাতিল করে তাকে পুনর্বার বিচারের মুখোমুখি করার নির্দেশ প্রদান করে। সেই মামলার কোন হদিস নেই এবং সেইসময় ঐ বিতর্ক মাথায় নিয়েই মায়া মন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন।

তবে মাঠের রাজনীতিতে মায়া যতটুকু নন্দিত, যতটুকু কর্মীবান্ধব ঠিক তেমনিই মায়ার দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি এবং আত্মীয়স্বজনের বিতর্কিত ভূমিকা তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ১৯৯৬-২০০১ সালে মায়ার পুত্রের অপকর্ম গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেটা মায়াকে বিতর্কিত করেছিল। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে মায়া দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। যারা সেই সময়ে সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সম্মুখে থেকে যুদ্ধ করেছিলেন তাঁদের তালিকায় মায়া নেই। কাজেই সঙ্কটের সময় রুখে দাঁড়ানোর মতো নেতা হিসেবে মায়া নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।

২০০৮ এ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মেয়ের জামাইয়ের কেলেঙ্কারি মায়াকে আবার সমালচনায় বিদ্ধ করে। এই সময় নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে তাঁর মেয়ের জামাই। এই ঘটনাটি শুধু মায়াকে নয়, গোটা আওয়ামী লীগকেই বিব্রত করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা মনে করেন যে, মায়ার যে সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মী ও সংগঠনের প্রতি যে ভালোবাসা তা সবসময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তাঁর কিছু আত্মীয়স্বজনের দুর্নীতি- দুর্বৃত্তায়ন এবং অপকর্মের কারণে। আর এই কারণেই রাজনীতিতে মায়া অপাংক্তেয় হয়ে গেছেন।

২০১৮ সালের নির্বাচনে মায়াকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। গত বছরের সম্মেলনে অনেকেই আশা করেছিল যে, মায়াকে হয়তো আবার ঢাকার নেতৃত্বে দেওয়া হবে, কিন্তু সেটাও দেওয়া হয়নি। রাজনীতিতে হিরো থেকে জিরো হয়ে যাওয়া মায়ার অপরাধ কি সেটা নিয়ে মায়া মাঝেমাঝে বিভিন্ন মানুষের কাছে প্রশ্ন করেন। তবে রাজনীতিতে শুধু মাঠের রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে। মাঠের চেয়ে এখন রাজনীতি অনেক মেরুকরণ-সমীকরণের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর সেই মেরুকরণ-সমীকরণের হিসেবনিকেশে হয়তো মায়া নিক্ষেপিত হয়েছেন সাময়িক সময়ের জন্যে। তবে ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে মায়ার নাম দীর্ঘদিন পর্যন্ত আলোচনায় থাকবে।