ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

চীনকে পাল্টা চোখ রাঙানি, লাদাখে ১৭ হাজার ফিট উঁচুতে ভারতের বিশেষ ব্রিজ!

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:   

চীনকে রুখতে ভারতকে এগোতে হবে। আর এই লক্ষ্যেই এবার লাদাখের দুর্গম পথগুলো সুগম করে তুলতে কাজে লেগেছে ভারতীয় সেনার বর্ডার রোড অর্গনাইজেশন। জানা গেছে, শায়ক নদীর হিম শীতল পানির উপর দিয়ে ভারত বিশেষ ব্রিজ তৈরি করছে যা সারা বছর ব্যবহার করা হবে। এবং স্ট্র্যাটেজিকভাবে ভারতের এই ব্রিজ নির্মাণ এক বড় চাল। খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার।

বলা হচ্ছে, ১৭ হাজার ফিট উচ্চতায় তৈরি এই ব্রিজের সাহায্যে লেহ থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি এয়ার স্ট্রিপে যাওয়া আরও সহজ হবে যাবে। বিগত কয়েক মাস ধরে চলছে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি। চীনের দাবি ছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে ভারতের দিকে পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ বন্ধ রাখা হোক৷ যা মেনে নিতে নারাজ ভারত।

ভারতের দিকে গত বছর তৈরি করা ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবরুক-শিয়ক-ডিবিও রোড তৈরি করা নিয়েই চীনের মূল আপত্তি। এই রাস্তাটি তৈরির ফলে সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যাতায়াত এবং নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধা হয়েছে। তবে পরপর সংঘর্ষ ও চীনের আপত্তি সত্ত্বেও ভারত এই রাস্তা তৈরির কাজ জারি রাখবে বলে জানা গিয়েছে।

জানাগেছে, আকসাই চীন এলাকায় পিএলএ-র পক্ষ থেকে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আর সেই হুমকি রুখতেই ভীষ্ম টি৯০ ট্যাঙ্কের এর একটি স্কোড্রন, অর্থাৎ ১২টি ট্যাঙ্ক সেখানকার সীমান্ত রক্ষার লক্ষ্যে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এছাড়া ৪০০০ জন সৈনিকের একটি আস্ত ব্রিগেডও সেখানে ডিবিওতে মোতায়েন করেছে ভারত। প্রসঙ্গত, এই নতুন ব্রিজ তৈরি হওয়াতে ডিবিওতে সড়ক পথে ট্যাঙ্ক নিয়ে যাওয়া আরও সহজ হয়ে যাবে।

উত্তর লাদাখে ভারতের অন্তিম পোস্ট দৌলত বেগ ওল্ডি। সেই ডিবিওর অবস্থান সুমুদ্ধপিষ্ঠ থেকে ১৭০০০ ফিট উঁচুতে। এহেন দৌলত বেগ ওল্ডির উপর নজর দিচ্ছে চীনা সোনা। দেশের উচ্চতম এয়ারবেসকে শত্রুর নজর থেকে বাঁচাতে তাই কয়েকদিন আগেই কারাকোরাম পাসের কাছেই ভীষ্ম টি৯০ ট্যাঙ্করের স্কোয়াড্রন মোতায়েন করে ভারতীয় সেনা। আর এবার সেই এলাকাতে যাতে যেকোনও সময় সেনা পাঠানো যায়, তাই তৈরি করা হল এই নতুন ব্রিজ।

এদিকে লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চীনা সেনা দখলদারি সরাতে না চাওয়াতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চীনের। জানা গেছে, রবিবার মোলডোতে অনুষ্ঠিত ভারত-চীন বৈঠকেও দিল্লির পক্ষ থেকে পিএলএ-কে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়। তবে চীনা সেনা এই বিষয়ে একগুঁয়ে মনোভাব পোষণ করছে। আর এতেই আরও পারদ চড়ছে সীমান্তে।

হটস্প্রিং থেকে সরে গেলেও চীন এখনও অবস্থান করছে প্যাংগংয়ে। সেখানকার গ্রিন টপ থেকে ভারতের গতিবিধর উপর নজর রাখছে ভারতীয় গতিবিধির উপর। লাদাখে ভারত-চীন উত্তেজনা কমার কোনও নাম নেই। যেই প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক, সেখানে চীনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চীনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যকার ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

চীনকে পাল্টা চোখ রাঙানি, লাদাখে ১৭ হাজার ফিট উঁচুতে ভারতের বিশেষ ব্রিজ!

আপডেট সময় ০৬:০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:   

চীনকে রুখতে ভারতকে এগোতে হবে। আর এই লক্ষ্যেই এবার লাদাখের দুর্গম পথগুলো সুগম করে তুলতে কাজে লেগেছে ভারতীয় সেনার বর্ডার রোড অর্গনাইজেশন। জানা গেছে, শায়ক নদীর হিম শীতল পানির উপর দিয়ে ভারত বিশেষ ব্রিজ তৈরি করছে যা সারা বছর ব্যবহার করা হবে। এবং স্ট্র্যাটেজিকভাবে ভারতের এই ব্রিজ নির্মাণ এক বড় চাল। খবর ওয়ান ইন্ডিয়ার।

বলা হচ্ছে, ১৭ হাজার ফিট উচ্চতায় তৈরি এই ব্রিজের সাহায্যে লেহ থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি এয়ার স্ট্রিপে যাওয়া আরও সহজ হবে যাবে। বিগত কয়েক মাস ধরে চলছে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি। চীনের দাবি ছিল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে ভারতের দিকে পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ বন্ধ রাখা হোক৷ যা মেনে নিতে নারাজ ভারত।

ভারতের দিকে গত বছর তৈরি করা ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবরুক-শিয়ক-ডিবিও রোড তৈরি করা নিয়েই চীনের মূল আপত্তি। এই রাস্তাটি তৈরির ফলে সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যাতায়াত এবং নজরদারি চালানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধা হয়েছে। তবে পরপর সংঘর্ষ ও চীনের আপত্তি সত্ত্বেও ভারত এই রাস্তা তৈরির কাজ জারি রাখবে বলে জানা গিয়েছে।

জানাগেছে, আকসাই চীন এলাকায় পিএলএ-র পক্ষ থেকে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আর সেই হুমকি রুখতেই ভীষ্ম টি৯০ ট্যাঙ্কের এর একটি স্কোড্রন, অর্থাৎ ১২টি ট্যাঙ্ক সেখানকার সীমান্ত রক্ষার লক্ষ্যে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এছাড়া ৪০০০ জন সৈনিকের একটি আস্ত ব্রিগেডও সেখানে ডিবিওতে মোতায়েন করেছে ভারত। প্রসঙ্গত, এই নতুন ব্রিজ তৈরি হওয়াতে ডিবিওতে সড়ক পথে ট্যাঙ্ক নিয়ে যাওয়া আরও সহজ হয়ে যাবে।

উত্তর লাদাখে ভারতের অন্তিম পোস্ট দৌলত বেগ ওল্ডি। সেই ডিবিওর অবস্থান সুমুদ্ধপিষ্ঠ থেকে ১৭০০০ ফিট উঁচুতে। এহেন দৌলত বেগ ওল্ডির উপর নজর দিচ্ছে চীনা সোনা। দেশের উচ্চতম এয়ারবেসকে শত্রুর নজর থেকে বাঁচাতে তাই কয়েকদিন আগেই কারাকোরাম পাসের কাছেই ভীষ্ম টি৯০ ট্যাঙ্করের স্কোয়াড্রন মোতায়েন করে ভারতীয় সেনা। আর এবার সেই এলাকাতে যাতে যেকোনও সময় সেনা পাঠানো যায়, তাই তৈরি করা হল এই নতুন ব্রিজ।

এদিকে লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চীনা সেনা দখলদারি সরাতে না চাওয়াতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চীনের। জানা গেছে, রবিবার মোলডোতে অনুষ্ঠিত ভারত-চীন বৈঠকেও দিল্লির পক্ষ থেকে পিএলএ-কে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য বলা হয়। তবে চীনা সেনা এই বিষয়ে একগুঁয়ে মনোভাব পোষণ করছে। আর এতেই আরও পারদ চড়ছে সীমান্তে।

হটস্প্রিং থেকে সরে গেলেও চীন এখনও অবস্থান করছে প্যাংগংয়ে। সেখানকার গ্রিন টপ থেকে ভারতের গতিবিধর উপর নজর রাখছে ভারতীয় গতিবিধির উপর। লাদাখে ভারত-চীন উত্তেজনা কমার কোনও নাম নেই। যেই প্যাংগং সো নিয়ে এত বিতর্ক, সেখানে চীনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চীনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যকার ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও।