ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রথম বাঁহাতি স্পিনার রামচাঁদ গোয়ালা আর নেই

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক ও প্রথম বাঁহাতি স্পিনার রাম চাঁদ গোয়ালা আর নেই। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয় দেশের প্রথম এই বাঁহাতি স্পিনার। বার্ধ্যক্যজনিত কারণে অনেকদিন ধরেই নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। বয়সের ভারে নুহ্য বাংলাদেশের প্রথম এই বাঁহাতি স্পিনার সম্প্রতি চোখের অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন।

ভাতিজা তপন কুমার গোয়ালা, দুই নাতি আকাশ ঘোষ ও অথৈ ঘোষ এবং দুই ভাতিজার স্ত্রীদের নিয়ে ময়মনসিংহের ব্রামেনপালির নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন রাম চাঁদ গোয়ালা।

গত বছর বিসিবি তাকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিল। সেই অর্থ দিয়ে চলেছে তার দৈনন্দিন জীবন ও চিকিৎসা খরচ। জীবনের শেষ বেলায় রাম চাঁদ গোয়ালার চাওয়া ছিল, সুস্থ হলে মাঠে ঘুরতে যেতেন তিনি।

আশির দশকের একদম শুরু থেকে নব্বই দশকের মাঝামাঝি প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় আবাহনীতে খেলেছেন রামচাঁদ। তার মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেন আবাহনী অন্তঃপ্রাণ ক্রিকেট সংগঠক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি।

সত্তর দশকে ঢাকাই ক্রিকেটের অনেক ম্যাচই হতো ম্যাটিং উইকেটে। নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি সে উইকেটে ছিল মূলত পেসারদের দাপট। দৌলতুজ্জামান, জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাহ, দিপু রায় চৌধুরী, সাজু, জিয়াউল ইসলাম মাসুদ, সামিউর রহমান সামি, জালাল ইউনুস, অলক চক্রবর্তী, মোবারক (টোক্কা মোবারক) প্রমুখ দ্রুতগতির বোলারদের তখন একচ্ছত্র আধিপত্য।

এর ভেতরেও টাউন ক্লাবের এক লম্বা বাঁহাতি স্পিনার নিজেকে মেলে ধরেন। তার স্পিন জাদুতে অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যানকেও বশ করে ছাড়েন। দেশের ক্রিকেটের এ নামি বাঁহাতি স্পিনার ১৯৪১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে জন্ম নেয়া গোয়ালা।

আবাহনীতে নাম লেখানোর আগে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে টাউন ক্লাবের হয়েও খেলেছেন। সেখান থেকেই আশির দশকের একদম শুরুতে (১৯৮০-১৯৮১ তে) যোগ দেন আবাহনীতে। দেশের ক্লাব ক্রীড়াঙ্গনের জনপ্রিয় ও সুপার পাওয়ার আবাহনীর পক্ষে একটানা প্রায় ১৪-১৫ বছর খেলেন রামচাঁদ গোয়ালা।

এ সময়ে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বও করেছেন এ বাঁহাতি স্পিনার।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও শ্রীলঙ্কা টেস্ট দলের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন গোয়ালা। এক যুগের বেশি সময় খেলার কারণে আবাহনীর সাথে তার বন্ধন তৈরি হয়ে যায়। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর ফিরে যান নিজ শহর ময়মনসিংহে। যতদিন শরীর সুস্থ ছিল, ততদিন ক্রিকেটই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজেও ছিলেন মনোযোগী। তবে বার্ধক্য চলে আসায় গত কয়েক বছর সেভাবে আর মাঠে যাওয়া হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

দেশের প্রথম বাঁহাতি স্পিনার রামচাঁদ গোয়ালা আর নেই

আপডেট সময় ০৪:১৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক ও প্রথম বাঁহাতি স্পিনার রাম চাঁদ গোয়ালা আর নেই। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয় দেশের প্রথম এই বাঁহাতি স্পিনার। বার্ধ্যক্যজনিত কারণে অনেকদিন ধরেই নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। বয়সের ভারে নুহ্য বাংলাদেশের প্রথম এই বাঁহাতি স্পিনার সম্প্রতি চোখের অস্ত্রোপচারও করিয়েছিলেন।

ভাতিজা তপন কুমার গোয়ালা, দুই নাতি আকাশ ঘোষ ও অথৈ ঘোষ এবং দুই ভাতিজার স্ত্রীদের নিয়ে ময়মনসিংহের ব্রামেনপালির নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন রাম চাঁদ গোয়ালা।

গত বছর বিসিবি তাকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিল। সেই অর্থ দিয়ে চলেছে তার দৈনন্দিন জীবন ও চিকিৎসা খরচ। জীবনের শেষ বেলায় রাম চাঁদ গোয়ালার চাওয়া ছিল, সুস্থ হলে মাঠে ঘুরতে যেতেন তিনি।

আশির দশকের একদম শুরু থেকে নব্বই দশকের মাঝামাঝি প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় আবাহনীতে খেলেছেন রামচাঁদ। তার মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেন আবাহনী অন্তঃপ্রাণ ক্রিকেট সংগঠক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি।

সত্তর দশকে ঢাকাই ক্রিকেটের অনেক ম্যাচই হতো ম্যাটিং উইকেটে। নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি সে উইকেটে ছিল মূলত পেসারদের দাপট। দৌলতুজ্জামান, জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাহ, দিপু রায় চৌধুরী, সাজু, জিয়াউল ইসলাম মাসুদ, সামিউর রহমান সামি, জালাল ইউনুস, অলক চক্রবর্তী, মোবারক (টোক্কা মোবারক) প্রমুখ দ্রুতগতির বোলারদের তখন একচ্ছত্র আধিপত্য।

এর ভেতরেও টাউন ক্লাবের এক লম্বা বাঁহাতি স্পিনার নিজেকে মেলে ধরেন। তার স্পিন জাদুতে অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যানকেও বশ করে ছাড়েন। দেশের ক্রিকেটের এ নামি বাঁহাতি স্পিনার ১৯৪১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে জন্ম নেয়া গোয়ালা।

আবাহনীতে নাম লেখানোর আগে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে টাউন ক্লাবের হয়েও খেলেছেন। সেখান থেকেই আশির দশকের একদম শুরুতে (১৯৮০-১৯৮১ তে) যোগ দেন আবাহনীতে। দেশের ক্লাব ক্রীড়াঙ্গনের জনপ্রিয় ও সুপার পাওয়ার আবাহনীর পক্ষে একটানা প্রায় ১৪-১৫ বছর খেলেন রামচাঁদ গোয়ালা।

এ সময়ে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বও করেছেন এ বাঁহাতি স্পিনার।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও শ্রীলঙ্কা টেস্ট দলের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন গোয়ালা। এক যুগের বেশি সময় খেলার কারণে আবাহনীর সাথে তার বন্ধন তৈরি হয়ে যায়। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর ফিরে যান নিজ শহর ময়মনসিংহে। যতদিন শরীর সুস্থ ছিল, ততদিন ক্রিকেটই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজেও ছিলেন মনোযোগী। তবে বার্ধক্য চলে আসায় গত কয়েক বছর সেভাবে আর মাঠে যাওয়া হয়নি।