ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন একই প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ : তথ্যমন্ত্রী পূর্বাচলে হবে ৪ থানা ও ৬ তদন্ত কেন্দ্র : আইজিপি এবছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নাইজেরিয়ায় স্কুলে হামলায় ৩ জন নিহত, শিক্ষার্থীসহ নিখোঁজ ৩৭

হাথুরুসিংহের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল না: সোহাগ গাজী

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

টেস্ট ক্রিকেটে এমন একটি রেকর্ড আছে যেটা বাংলাদেশ দলেই নয়, টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসেই রয়েছে কেবল একজনের। একই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর হ্যাটট্রিক করেছেন এমন ক্রিকেটার সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ছিল না। বাংলাদেশের সোহাগ গাজী সেই কীর্তি করে দেখিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা বেশ ভালোভাবেই শুরু করেছিলেন তিনি। তবে হঠাৎই যেন পাদপ্রদীপের আলো থেকে হারিয়ে গেলেন ২৮ বছর বয়সী এ অফ স্পিনার।

সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের আক্ষেপের কথায় জানালেন সোহাগ গাজী। ২০১৪ সালে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে বাদ পড়েন দল থেকে। তবে বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফের ক্রিকেটে ফিরলেও আর দলে সুযোগ হয়নি তার। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত ভালো করার পরও জায়গা হচ্ছে না জাতীয় দলে। এখনও তিনি লড়ে যাচ্ছেন জাতীয় দলে হয়ে খেলার জন্য।

মূল সমস্যাটা কোথায় বা কেন এমন হলো এই প্রসঙ্গে সোহাগ গাজী বলেন, ‘আসলে পারফরম্যান্সের জন্য কিন্তু আমি দল থেকে বাদ পড়িনি। বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময় হঠাৎ করেই একটা ঘটনা (অবৈধ বোলিং অ্যাকশন) আমার সঙ্গে ঘটে। বোলিং অ্যাকশন ঠিক করে আবার ক্রিকেটে ফেরার পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা তিনটি সেঞ্চুরি ও সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলাম। তারপরও টেস্ট দলে জায়গা হয়নি। কারণ হাথুরুসিংহের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ভালো ছিলো না। দলে না নেওয়ার জন্যই তখন কারণ দেখানো হয়, আমি অনুশীলনে অমনোযোগী। আসলে এগুলো ভিত্তিহীন। আমি মনে করি, কোনো ক্রিকেটারকেই হুট করে সবকিছুর বাইরে ফেলে দেয়া ঠিক না।’

পরিসংখ্যানের হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে সোহাগ গাজীর ক্যারিয়ারটা দুর্দান্ত। ৯১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩৩০টি উইকেটে নিয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে রয়েছে ৮টি সেঞ্চুরি। তাই এই অফ স্পিনার মনে করেন, বয়সের চেয়ে পারফরম্যান্সকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে ফিরতে হলে আপনাকে পারফরম্যান্স করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় ভালো করি আর ভালো করেই দলে ফিরতে হবে আমি মনে করি। জাতীয় দলে ফেরার জন্য বয়সের চেয়ে পারফরম্যান্সকে এগিয়ে রাখা উচিত অবশ্যই। আমি মনে করি, পারফরম্যান্সের গুরুত্ব বেশি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো, ফিটনেস একটা বড় বিষয়। আর যদি পারফর্ম করি তবে ফিটনেস এমনিতেই ভালো থাকবে। কারণ পারফর্মের জন্য ফিটনেস ধরে রাখতে হবে।’

সোহাগ গাজী মনে করেন জাতীয় দলে একজন ক্রিকেটারকে প্রমাণের জন্য সুযোগ দেওয়া উচিৎ। তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটারকে বুঝতে হবে এবং সময় দিতে হবে। সাকিব ভাই (সাকিব আল হাসান) পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছেন বলেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি কিন্তু একদিনে বিশ্বসেরা হননি। সবাই জানে উনি কি করতে পারবেন। এজন্য আমি বলবো, একজন ক্রিকেটারকে দ্বিতীয়বার দলে সুযোগ দিতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার নিয়মিত পারফর্ম করবে তখন তাকে প্রমাণের জন্য পুনরায় সুযোগ দিতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

হাথুরুসিংহের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল না: সোহাগ গাজী

আপডেট সময় ০৯:৪৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

টেস্ট ক্রিকেটে এমন একটি রেকর্ড আছে যেটা বাংলাদেশ দলেই নয়, টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসেই রয়েছে কেবল একজনের। একই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর হ্যাটট্রিক করেছেন এমন ক্রিকেটার সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ছিল না। বাংলাদেশের সোহাগ গাজী সেই কীর্তি করে দেখিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা বেশ ভালোভাবেই শুরু করেছিলেন তিনি। তবে হঠাৎই যেন পাদপ্রদীপের আলো থেকে হারিয়ে গেলেন ২৮ বছর বয়সী এ অফ স্পিনার।

সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের আক্ষেপের কথায় জানালেন সোহাগ গাজী। ২০১৪ সালে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে বাদ পড়েন দল থেকে। তবে বোলিং অ্যাকশন শুধরে ফের ক্রিকেটে ফিরলেও আর দলে সুযোগ হয়নি তার। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত ভালো করার পরও জায়গা হচ্ছে না জাতীয় দলে। এখনও তিনি লড়ে যাচ্ছেন জাতীয় দলে হয়ে খেলার জন্য।

মূল সমস্যাটা কোথায় বা কেন এমন হলো এই প্রসঙ্গে সোহাগ গাজী বলেন, ‘আসলে পারফরম্যান্সের জন্য কিন্তু আমি দল থেকে বাদ পড়িনি। বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময় হঠাৎ করেই একটা ঘটনা (অবৈধ বোলিং অ্যাকশন) আমার সঙ্গে ঘটে। বোলিং অ্যাকশন ঠিক করে আবার ক্রিকেটে ফেরার পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা তিনটি সেঞ্চুরি ও সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলাম। তারপরও টেস্ট দলে জায়গা হয়নি। কারণ হাথুরুসিংহের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ভালো ছিলো না। দলে না নেওয়ার জন্যই তখন কারণ দেখানো হয়, আমি অনুশীলনে অমনোযোগী। আসলে এগুলো ভিত্তিহীন। আমি মনে করি, কোনো ক্রিকেটারকেই হুট করে সবকিছুর বাইরে ফেলে দেয়া ঠিক না।’

পরিসংখ্যানের হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে সোহাগ গাজীর ক্যারিয়ারটা দুর্দান্ত। ৯১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩৩০টি উইকেটে নিয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে রয়েছে ৮টি সেঞ্চুরি। তাই এই অফ স্পিনার মনে করেন, বয়সের চেয়ে পারফরম্যান্সকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে ফিরতে হলে আপনাকে পারফরম্যান্স করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় ভালো করি আর ভালো করেই দলে ফিরতে হবে আমি মনে করি। জাতীয় দলে ফেরার জন্য বয়সের চেয়ে পারফরম্যান্সকে এগিয়ে রাখা উচিত অবশ্যই। আমি মনে করি, পারফরম্যান্সের গুরুত্ব বেশি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো, ফিটনেস একটা বড় বিষয়। আর যদি পারফর্ম করি তবে ফিটনেস এমনিতেই ভালো থাকবে। কারণ পারফর্মের জন্য ফিটনেস ধরে রাখতে হবে।’

সোহাগ গাজী মনে করেন জাতীয় দলে একজন ক্রিকেটারকে প্রমাণের জন্য সুযোগ দেওয়া উচিৎ। তিনি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটারকে বুঝতে হবে এবং সময় দিতে হবে। সাকিব ভাই (সাকিব আল হাসান) পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছেন বলেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি কিন্তু একদিনে বিশ্বসেরা হননি। সবাই জানে উনি কি করতে পারবেন। এজন্য আমি বলবো, একজন ক্রিকেটারকে দ্বিতীয়বার দলে সুযোগ দিতে হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে যখন অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার নিয়মিত পারফর্ম করবে তখন তাকে প্রমাণের জন্য পুনরায় সুযোগ দিতে হবে।’