ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নির্যাতন, মাদারীপুরে প্রতারণার শিকার অর্ধশতাধিক যুবক আবাসিক হোটেলে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

ভেঙে গেল মালয়েশিয়ার সেই তরুণীর বিয়ে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের কলেজছাত্র মনিরুল ইসলামের ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছিলেন মালয়েশিয়ার তরুণী জুলিজা। চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু শেষমুহূর্তে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি ফোন কলেই ভেঙে গেছে তাঁদের বিয়ে।

গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় আসেন জুলিজা বিনতে কাসিম। সেদিন রাতে কাজি এসে তাঁদের নাম-পরিচয় লিখে নিয়ে যান। বয়সের কাগজপত্র জোগাড় করে রাখতে বলেন। শুক্রবার সকাল থেকে মনিরুল ইসলাম ও জুলিজার বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলতে থাকে।

কিন্তু রাত ১১টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফোন কল আসে ওই বাড়িতে। ফোনে আজগর আলী নামের একজন মনিরুলের কাছে দাবি করেন, জুলিজা তাঁর স্ত্রী। তাঁদের সংসারে চারটি সন্তানও রয়েছে। এরপরই ভেঙে যায় মনিরুল-জুলিজার বিয়ে। জুলিজা বর্তমানে মনিরুলের মামা নওশের আলীর হেফাজতে তাঁর বাড়িতে রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওশের আলী জানান, বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানও চলছিল। মেয়েটির মায়ের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। তিনি এলে অনেক কিছুই পরিষ্কার হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যবসায়ী জুলিজার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের পরিচয় হয়। মনিরুল সরকারি মুজিব কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের টানেই জুলিজা বিয়ে করার প্রস্তাব দেন মনিরুলকে। মনিরুলও তাঁর প্রস্তাবে রাজি হন।

পরে জুলিজা প্রেমের বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখে বন্ধুর বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বাংলাদেশে চলে আসেন। তিনি এক মাসের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে এসেছেন। জুলিজা বিমানবন্দরে নামার আগে থেকেই প্রেমিক মনিরুল, মা মনোয়ারা ও নানা আমজাদ আলী অপেক্ষা করছিলেন। ভোরে তাঁকে নিয়ে মনিরুল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মামা নওশের শিকদারের বাড়িতে ওঠেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

প্রেমের টানে তিনি বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন বলে সে সময় জানান জুলিজা। তিনি বলেন, মনিরুলকে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। তাঁকে বিয়ে করবেন। দেশে ফিরে গিয়ে বিয়ের বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানাবেন এবং মনিরুলকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাবেন বলেও জানান মালয়েশিয়ার ওই তরুণী। জুলিজাকে পেয়ে সে সময় বেশ আনন্দিত দেখা যায় মনিরুলকেও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ভেঙে গেল মালয়েশিয়ার সেই তরুণীর বিয়ে

আপডেট সময় ১২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের কলেজছাত্র মনিরুল ইসলামের ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছিলেন মালয়েশিয়ার তরুণী জুলিজা। চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু শেষমুহূর্তে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি ফোন কলেই ভেঙে গেছে তাঁদের বিয়ে।

গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় আসেন জুলিজা বিনতে কাসিম। সেদিন রাতে কাজি এসে তাঁদের নাম-পরিচয় লিখে নিয়ে যান। বয়সের কাগজপত্র জোগাড় করে রাখতে বলেন। শুক্রবার সকাল থেকে মনিরুল ইসলাম ও জুলিজার বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলতে থাকে।

কিন্তু রাত ১১টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে একটি ফোন কল আসে ওই বাড়িতে। ফোনে আজগর আলী নামের একজন মনিরুলের কাছে দাবি করেন, জুলিজা তাঁর স্ত্রী। তাঁদের সংসারে চারটি সন্তানও রয়েছে। এরপরই ভেঙে যায় মনিরুল-জুলিজার বিয়ে। জুলিজা বর্তমানে মনিরুলের মামা নওশের আলীর হেফাজতে তাঁর বাড়িতে রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওশের আলী জানান, বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানও চলছিল। মেয়েটির মায়ের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। তিনি এলে অনেক কিছুই পরিষ্কার হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ব্যবসায়ী জুলিজার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার বাসিন্দা মনিরুল ইসলামের পরিচয় হয়। মনিরুল সরকারি মুজিব কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের টানেই জুলিজা বিয়ে করার প্রস্তাব দেন মনিরুলকে। মনিরুলও তাঁর প্রস্তাবে রাজি হন।

পরে জুলিজা প্রেমের বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখে বন্ধুর বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বাংলাদেশে চলে আসেন। তিনি এক মাসের ভ্রমণ ভিসা নিয়ে এসেছেন। জুলিজা বিমানবন্দরে নামার আগে থেকেই প্রেমিক মনিরুল, মা মনোয়ারা ও নানা আমজাদ আলী অপেক্ষা করছিলেন। ভোরে তাঁকে নিয়ে মনিরুল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মামা নওশের শিকদারের বাড়িতে ওঠেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

প্রেমের টানে তিনি বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন বলে সে সময় জানান জুলিজা। তিনি বলেন, মনিরুলকে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। তাঁকে বিয়ে করবেন। দেশে ফিরে গিয়ে বিয়ের বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানাবেন এবং মনিরুলকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাবেন বলেও জানান মালয়েশিয়ার ওই তরুণী। জুলিজাকে পেয়ে সে সময় বেশ আনন্দিত দেখা যায় মনিরুলকেও।