ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী ভাতার আওতায় এলেন আরও ১৭১ খেলোয়াড় তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ বাড়লেও আমরা সামান্য বাড়িয়েছি: জ্বালানি মন্ত্রী আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: অর্থমন্ত্রী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’: গোলাম পরওয়ার ইসরাইল বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে: ট্রাম্প মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানযুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে মতিঝিলে ৬ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীদের অবস্থান

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করুন, নাগরিকত্ব দিন: কমিশন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কফি আনান কমিশন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংস আচরণের অভিযোগ ওঠার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি এই কমিশন গঠন করেন। কমিশন তার রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশহীন সম্প্রদায় বলে বর্ণনা করেছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর আরোপ করা নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে রোহিঙ্গা এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী উভয়েই কট্টরপন্থার পথে ধাবিত হতে পারে।

রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গত বছর রাখাইন মুসলমানদের হাজারের বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এছাড়া হত্যা, লুটতরাজ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ব্যাপকভাবে। সে সময় আন্তার্জাতিক কোনো গণমাধ্যম কর্মীকে ওই এলাকায় যেতে দেয়নি দেশটির সেনাবাহিনী। তবে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা অনেক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেগুলোতে ফুটে ওঠে সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের দৃশ্য।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ছবি সংগ্রহ করে এবং রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেসব ছবিতে প্রকাশ পায় শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য।

রাোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নারীদের ব্যাপকহারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ বা নির্যাতনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে যাওয়া মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলও দাবি করে, রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতন হয়নি। কিন্তু জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে।

আর এমন নির্যাতনের সময় মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি। পরে এ বিষয়ে কথা বললেও তা ছিল দায়সারা। জাতিসংঘ সেখানে স্বাধীন তদন্ত দল পাঠানোর চেষ্টা করলে করলে অং সান সু চি তাতে বাধা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করুন, নাগরিকত্ব দিন: কমিশন

আপডেট সময় ০১:০২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কফি আনান কমিশন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংস আচরণের অভিযোগ ওঠার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি এই কমিশন গঠন করেন। কমিশন তার রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশহীন সম্প্রদায় বলে বর্ণনা করেছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর আরোপ করা নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে রোহিঙ্গা এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী উভয়েই কট্টরপন্থার পথে ধাবিত হতে পারে।

রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গত বছর রাখাইন মুসলমানদের হাজারের বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এছাড়া হত্যা, লুটতরাজ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ব্যাপকভাবে। সে সময় আন্তার্জাতিক কোনো গণমাধ্যম কর্মীকে ওই এলাকায় যেতে দেয়নি দেশটির সেনাবাহিনী। তবে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা অনেক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেগুলোতে ফুটে ওঠে সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের দৃশ্য।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ছবি সংগ্রহ করে এবং রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেসব ছবিতে প্রকাশ পায় শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য।

রাোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নারীদের ব্যাপকহারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ বা নির্যাতনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে যাওয়া মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলও দাবি করে, রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতন হয়নি। কিন্তু জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে।

আর এমন নির্যাতনের সময় মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি। পরে এ বিষয়ে কথা বললেও তা ছিল দায়সারা। জাতিসংঘ সেখানে স্বাধীন তদন্ত দল পাঠানোর চেষ্টা করলে করলে অং সান সু চি তাতে বাধা দেন।