ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করুন, নাগরিকত্ব দিন: কমিশন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কফি আনান কমিশন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংস আচরণের অভিযোগ ওঠার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি এই কমিশন গঠন করেন। কমিশন তার রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশহীন সম্প্রদায় বলে বর্ণনা করেছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর আরোপ করা নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে রোহিঙ্গা এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী উভয়েই কট্টরপন্থার পথে ধাবিত হতে পারে।

রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গত বছর রাখাইন মুসলমানদের হাজারের বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এছাড়া হত্যা, লুটতরাজ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ব্যাপকভাবে। সে সময় আন্তার্জাতিক কোনো গণমাধ্যম কর্মীকে ওই এলাকায় যেতে দেয়নি দেশটির সেনাবাহিনী। তবে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা অনেক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেগুলোতে ফুটে ওঠে সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের দৃশ্য।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ছবি সংগ্রহ করে এবং রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেসব ছবিতে প্রকাশ পায় শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য।

রাোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নারীদের ব্যাপকহারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ বা নির্যাতনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে যাওয়া মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলও দাবি করে, রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতন হয়নি। কিন্তু জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে।

আর এমন নির্যাতনের সময় মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি। পরে এ বিষয়ে কথা বললেও তা ছিল দায়সারা। জাতিসংঘ সেখানে স্বাধীন তদন্ত দল পাঠানোর চেষ্টা করলে করলে অং সান সু চি তাতে বাধা দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করুন, নাগরিকত্ব দিন: কমিশন

আপডেট সময় ০১:০২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কফি আনান কমিশন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংস আচরণের অভিযোগ ওঠার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি এই কমিশন গঠন করেন। কমিশন তার রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশহীন সম্প্রদায় বলে বর্ণনা করেছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর আরোপ করা নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে রোহিঙ্গা এবং সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী উভয়েই কট্টরপন্থার পথে ধাবিত হতে পারে।

রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে ব্যাপকহারে নির্যাতন, হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ৮৭ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গত বছর রাখাইন মুসলমানদের হাজারের বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এছাড়া হত্যা, লুটতরাজ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ব্যাপকভাবে। সে সময় আন্তার্জাতিক কোনো গণমাধ্যম কর্মীকে ওই এলাকায় যেতে দেয়নি দেশটির সেনাবাহিনী। তবে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা অনেক ছবি ও ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেগুলোতে ফুটে ওঠে সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের দৃশ্য।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ছবি সংগ্রহ করে এবং রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেসব ছবিতে প্রকাশ পায় শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য।

রাোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নারীদের ব্যাপকহারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ বা নির্যাতনের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে যাওয়া মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলও দাবি করে, রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতন হয়নি। কিন্তু জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে।

আর এমন নির্যাতনের সময় মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি। পরে এ বিষয়ে কথা বললেও তা ছিল দায়সারা। জাতিসংঘ সেখানে স্বাধীন তদন্ত দল পাঠানোর চেষ্টা করলে করলে অং সান সু চি তাতে বাধা দেন।