আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো শনাক্ত করা যাচ্ছে না। যখন শনাক্ত করা হচ্ছে, তখন তার অবস্থা গুরুতর। সময়মতো রোগী শনাক্ত না হওয়াটাকে ভয়ের কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম শনাক্তের সাঁইত্রিশের দিনের মাথায় এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া রোগীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। এর ১০ দিন ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ জন। আর মারা গেছেন ৪৬ জন।
আজ সোমবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী মারা গেছেন। এই সংখ্যা ছিল সাত।
তবে আজ যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের বয়স বা জেন্ডার উল্লেখ করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে জানতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়। জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, এটা ভয়ের কারণ। এর অর্থ সময়মতো রোগী শনাক্ত হচ্ছে না। রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিষয়টি জানতে পারছেন রোগ জটিল হয়ে যাওয়ার পর।
এর পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন এই ভাইরোলজিস্ট। প্রথমত, রোগীরা মৃদু উপসর্গ থাকলেও গোপন করছেন। দ্বিতীয়ত, কন্টাক্ট ট্রেসিং ঠিকমতো হচ্ছে না। একজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পরই তিনি যার যার সংস্পর্শে এসেছেন সবারই পরীক্ষা করা উচিত। সেটা হচ্ছে না। হলে পরীক্ষার সংখ্যা এত কম হতো না। আজ শনাক্ত হওয়া দুই শতাধিক রোগী হাজার খানেক মানুষের সংস্পর্শে আসতে পারেন। তাঁদের পরীক্ষা করা হলে নিয়মিত পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ত। সেটা হচ্ছে না বলে মনে করেন জাহিদুর রহমান। এতে মৃতের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষার তুলনায় মৃতের হার কম। তবে একটি মৃত্যুও কাম্য নয়। এখনো মৃতের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। কিন্তু তিনি স্বীকার করেছেন রোগী শনাক্ত হচ্ছে মুমূর্ষু অবস্থায়। তখন হয়তো অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















