অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ট্রেইনি অফিসার পদে সরাসরি নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।
তার অভিযোগ, বিমানের একটি শক্তিশালী চক্র নিয়োগ বাণিজ্য করতে গোপনে সরাসরি এ নিয়োগ দিয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়োগ নীতিমালাও আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ট্রেনিং সেন্টারের (বিএটিসি) জন্য নিয়োগ দিয়ে এখন তাদের মার্কেটিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পদায়ন করা হচ্ছে।
বিমানের জুনিয়র কমার্শিয়াল অফিসার রথীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ২১ অক্টোবর হাইকোর্টে ওই রিট করেন। শুনানি নিয়ে আদালত ওই নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল জারি করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসসহ ৬ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দেয়ার আদেশ দেন আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতে জবাব জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে আদালত সূত্র জানিয়েছে, বিবাদীরা সময় আবেদন করায় তাদের আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।
রিটকারীর অভিযোগ, বিমানের মার্কেটিং শাখা সবচেয়ে লোভনীয় একটি শাখা। এ শাখায় নিয়োগ পেয়ে একজন কর্মকর্তা ৪ বছরের মাথায় যে কোনো বৈদেশিক স্টেশনে পোস্টিং পেয়ে যান। এ কারণে এ শাখায় নিয়োগ পেতে বড় ধরনের আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং (অবৈধ লেনদেন) হয়ে থাকে।
বিমানের নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী যে শাখার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী শুধু ওই বিভাগেই নিয়োগ পাবেন। অন্য শাখায় যেতে হলে তাকে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে হবে।
কিন্তু সম্প্রতি ট্রেইনি অফিসার পদে ৩৩ জনকে বিমানের ট্রেনিং সেন্টারে (বিএটিসি) নিয়োগ দিয়ে এখন তাদের আবার মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসসহ অন্যান্য শাখায় পদায়ন করা হচ্ছে। এই অনিয়মের সঙ্গে বিমানের টপ টু বটম (নিচু থেকে শীর্ষ কর্মকর্তা) জড়িত রয়েছে।
রথীন্দ্রনাথ আরও অভিযোগ করেছেন, বিমানের মার্কেটিং বিভাগে ১৫ বছর ধরে কোনো ধরনের পদোন্নতি হচ্ছে না। এ অবস্থায় ট্রেইনি অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়া ৩৩ কর্মকর্তাকে মার্কেটিং শাখায় পদায়ন করা হলে পুরো শাখায় পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমানের জেনারেল ম্যানেজার শাকিল মেরাজ যুগান্তরকে বলেন, ১০ বছর ধরে বিমানে সরাসরি নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে নিু পদ থেকে পদোন্নতি দিতে হচ্ছে। আবার অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের হাল ধরতে পারছেন না। এ কারণে ২০১৪ সালে বিমান পে গ্রুপ-৬ এ সরাসরি লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। সম্প্রতি এদের মধ্য থেকে ৩৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের ট্রেনিং শাখায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বিভিন্ন শাখার শূন্যপদে পদায়ন করা হবে।
শাকিল মেরাজ আরও বলেন, এ নিয়োগে অনিয়ম কিংবা ঘুষ বাণিজ্যের কোনো অভিযোগ নেই। তবে তিনি বলেন, ওই নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ এ মামলা মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রথীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানান, এর আগেও বিমানের ৮ শাখায় অস্থায়ী পদে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি হয়েছিল। প্রতিটি নিয়োগে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে। টাকার বিনিময়ে আবেদনপত্র ‘বাছাই’ করা হয়েছিল তখন। প্রশ্ন ফাঁস, নকল সরবরাহ ও প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা নেয়ারও অভিযোগ ওঠে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু বিমান ম্যানেজমেন্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, এ কারণে বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন না করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























