ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

আ.লীগে বর্তমান-সাবেকের লড়াই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নৌকা পেতে বর্তমান ও সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের মোট পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। এর আগে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতকে ছেড়ে দিলেও এবার ধানের শীষ নিয়ে নিজ দল থেকেই ভোট করতে চান বিএনপির দুজন।

তবে জামায়াত এবারও ছাড় পাচ্ছে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। আছেন জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ আরও কয়েকটি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। সব মিলিয়ে ভোটের আগেই গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই বেশ জমে উঠেছে। সব দলের নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগে নির্বাচনী মাঠও জমজমাট।

১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট শাহ আব্দুল হামিদ নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি সর্বশেষ দুই নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের দখলে রয়েছে।

এর মধ্যে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী ছিলেন তিনিই। তবে সেবার বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হয়ে তাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। আনারস প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে এমপি হওয়া সাবেক এই তুখোড় ছাত্রনেতা পরে দলে ফিরে যান।

বর্তমান ও সাবেক দুই এমপিই এবার নৌকা পাওয়ার শক্ত দাবিদার বলে জানিয়েছে দলের একাধিক সূত্র। তবে আবুল কালাম আজাদ দল ও ভোটারদের আস্থার জায়গাটি ধরে রেখেছেন বলে দাবি তার সমর্থক নেতা-কর্মীদের।

মনোনয়ন চেয়ে দলীয় ফরম কিনেছেন আরও তিন নেতা। তারা হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় পাট ও বস্ত্রবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সরকার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহিমাগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান।

আবুল কালাম আজাদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার শক্তি এই উপজেলার সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে এ ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, বিভিন্ন ভবন নির্মাণ, রাস্তা পাকাকরণ করেছি। বঙ্গবন্ধু-কন্যা মনোনয়ন দিলে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে আবারও রাখতে পারব বলে বিশ^াস করি।’

উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুর রহমান ঢাকাটাইমকে বলেন, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী সবসময় ঢাকায় অবস্থান করেন। অন্যদিকে আমাদের মাটি ও মানুষের নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ দক্ষতার সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধরে রেখেছেন। ২০১৪ সালে জামায়াত-বিএনপি মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নিজ এলাকা কামদিয়ায় আওয়ামী লীগ অফিসটি পুড়িয়ে দিলেও তার কোন প্রতিবাদ করতে পারেননি।

২০০৮ সালে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাওয়া জামায়াতের গাইবান্ধা জেলা আমির ও রাবেয়া ক্লিনিকের পরিচালক ডা. আব্দুর রহিম সরকারের নাম দলীয় ও জোটের একক প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তবে এক দশক ধরে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এবার আসনটি ছাড়তে নারাজ। পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহম্মেদ এবং বিএনপির নেতা আসাদুজ্জামান বিদ্যুৎ মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ করছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে ধানের শীষ নিয়েই আসনটি পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও।

মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কাজী মশিউর রহমান নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন।

এছাড়া ভোটে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব চাকী, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক ও নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এম এ মতিন মোল্লা এবং নাগরিক ঐক্যের নেতা ও সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আ ফ ম মজিবুর রহমান ফুল মিয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ: ৪ সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

আ.লীগে বর্তমান-সাবেকের লড়াই

আপডেট সময় ০১:৫৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নৌকা পেতে বর্তমান ও সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের মোট পাঁচজন মনোনয়নপ্রত্যাশী দলীয় ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। এর আগে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতকে ছেড়ে দিলেও এবার ধানের শীষ নিয়ে নিজ দল থেকেই ভোট করতে চান বিএনপির দুজন।

তবে জামায়াত এবারও ছাড় পাচ্ছে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। আছেন জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ আরও কয়েকটি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। সব মিলিয়ে ভোটের আগেই গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই বেশ জমে উঠেছে। সব দলের নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগে নির্বাচনী মাঠও জমজমাট।

১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট শাহ আব্দুল হামিদ নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি সর্বশেষ দুই নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের দখলে রয়েছে।

এর মধ্যে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী ছিলেন তিনিই। তবে সেবার বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হয়ে তাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। আনারস প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমে এমপি হওয়া সাবেক এই তুখোড় ছাত্রনেতা পরে দলে ফিরে যান।

বর্তমান ও সাবেক দুই এমপিই এবার নৌকা পাওয়ার শক্ত দাবিদার বলে জানিয়েছে দলের একাধিক সূত্র। তবে আবুল কালাম আজাদ দল ও ভোটারদের আস্থার জায়গাটি ধরে রেখেছেন বলে দাবি তার সমর্থক নেতা-কর্মীদের।

মনোনয়ন চেয়ে দলীয় ফরম কিনেছেন আরও তিন নেতা। তারা হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় পাট ও বস্ত্রবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম লিটন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সরকার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহিমাগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান।

আবুল কালাম আজাদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার শক্তি এই উপজেলার সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে এ ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, বিভিন্ন ভবন নির্মাণ, রাস্তা পাকাকরণ করেছি। বঙ্গবন্ধু-কন্যা মনোনয়ন দিলে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে আবারও রাখতে পারব বলে বিশ^াস করি।’

উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুর রহমান ঢাকাটাইমকে বলেন, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী সবসময় ঢাকায় অবস্থান করেন। অন্যদিকে আমাদের মাটি ও মানুষের নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ দক্ষতার সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধরে রেখেছেন। ২০১৪ সালে জামায়াত-বিএনপি মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নিজ এলাকা কামদিয়ায় আওয়ামী লীগ অফিসটি পুড়িয়ে দিলেও তার কোন প্রতিবাদ করতে পারেননি।

২০০৮ সালে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাওয়া জামায়াতের গাইবান্ধা জেলা আমির ও রাবেয়া ক্লিনিকের পরিচালক ডা. আব্দুর রহিম সরকারের নাম দলীয় ও জোটের একক প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। তবে এক দশক ধরে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এবার আসনটি ছাড়তে নারাজ। পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহম্মেদ এবং বিএনপির নেতা আসাদুজ্জামান বিদ্যুৎ মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ করছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে ধানের শীষ নিয়েই আসনটি পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও।

মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আহ্বায়ক অধ্যক্ষ কাজী মশিউর রহমান নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন।

এছাড়া ভোটে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব চাকী, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক ও নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক এম এ মতিন মোল্লা এবং নাগরিক ঐক্যের নেতা ও সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আ ফ ম মজিবুর রহমান ফুল মিয়া।