ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

কারা কর্তৃপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা পেয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করছে না, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

রোববার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে শুনানিতে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার এসব কথা বলেন।

শুনানির পর খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হবে কিনা- এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে করা আবেদনের আদেশ দাখিলের জন্যও ওই একই দিন ধার্য করা হয়েছে। আর ওই দিন আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপক্ষের (দুদক) করা ‘রায়ের দিন ধার্যের’ আবেদনের আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন।

এর আগে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন কেন বাতিল হবে না- তার লিখিত ব্যাখ্যা আমরা দিয়েছি। একই সঙ্গে সময় আবেদন করেছি। ওই আদেশের (খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে) বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছি। আগামী মঙ্গলবার তা কজলিস্টে উঠবে। খালেদা জিয়াকে জেলখানা থেকে ট্রান্সফার করে পিজিতে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া আমরা কখনও আদালতের কাছে সময় চাইনি। অসুস্থতা বিবেচনা করে জামিন বহাল ও সময় মঞ্জুর করুন।

অপরদিকে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম কারাগারে থাকা অপর দুই আসামির পক্ষে উচ্চতর আদালতে অনাস্থার আবেদনের কথা জানিয়ে সময় আবেদন করেন।

এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন কেন বাতিল হবে- তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা যে জবাব দিয়েছেন তা যুক্তিসঙ্গত না। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করছেন না। শুধু জামিন চাচ্ছেন। তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) রিপ্রেজেন্ট (প্রতিনিধিত্ব) করে শুনানি করেন না। কিন্তু ডিফেন্ড (সমর্থন) করে জামিন আবেদন করেন। এসব আদালতে মামলা পরিচালনা না করার জন্য করছেন। খালেদা জিয়া যেখানেই থাকুন, আইনের বিধান অনুসারে আমরা মামলা পরিচালনা করতে পারব। এ পর্যন্ত ৪৫টি তারিখ পার হয়েছে। এক বছর নয় মাস ধরে যুক্তিতর্ক চলছে।

দুদক আইনজীবী কাজল বলেন, প্রথমত, তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতে আসছেন না। দ্বিতীয়ত, তিনি বিচার বাধাগ্রস্ত করছেন। তৃতীয়ত, তারা মামলা পরিচালনায় সাহায্য করছেন না। এ তিন কারণে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হতে পারে। তিনি (খালেদা জিয়া) পাগল হলে বিচার বন্ধ রাখা যাবে। এছাড়া সুযোগ নেই। জামিন বাতিলের যথেষ্ট কারণ আছে। দয়া করে আপনি (বিচারক) রায়ের তারিখ ঘোষণা করুন। আইন আমাদের পক্ষে।

জবাবে খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, যদি আসামি জামিনে থেকে আদালতে উপস্থিত না হতেন তাহলে আমরা তার প্রতিনিধিত্ব করতে পারতাম। তার অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনা করা যেত। রাষ্ট্রপক্ষের (দুদক) ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪০(এ) ধারায় আবেদনে (খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি বিচার চলার আবেদন) বিভ্রাট সৃষ্টি হয়েছে। আর তিনি যেহেতু কারাগারে অর্থাৎ আদালতের হেফাজতে। সেহেতু তিনি আসছেন না- এ কথা ঠিক নয়। কোনো আসামি কারাগারে থাকলে তার আসা না আসার প্রশ্নই আসে না। উনার (খালেদা জিয়ার) ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই। উনি স্বাধীন না। যিনি মুক্ত নন, তিনি আসলেন কি আসলেন না- তা বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং কারা কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, কারাগারে থাকা আসামির জামিনের অপব্যবহারের সুযোগ থাকে না। অতএব জামিন বাতিলের সুযোগ নেই। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আপনার (বিচারক) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপনি (বিচারক) অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে আসছেন। খালেদা জিয়া এতই সাধারণ হয়ে গেলেন যে দুই বছরেও অন্তর্বর্তীকালীন জামিন থেকে তিনি স্থায়ী জামিন পেলেন না। আর দেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে এক দিন পর পর হাজিরা দিয়ে জামিন বর্ধিত করতে হয়। এ ধরণের নজির আর কোনো মামলায় হয়নি।

প্রতিউত্তরে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া সুপ্রিমকোর্টের জামিন আদেশের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। আর এজন্যই আদালত তাকে ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

কারা কর্তৃপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে

আপডেট সময় ০৮:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা পেয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করছে না, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

রোববার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে শুনানিতে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার এসব কথা বলেন।

শুনানির পর খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হবে কিনা- এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে করা আবেদনের আদেশ দাখিলের জন্যও ওই একই দিন ধার্য করা হয়েছে। আর ওই দিন আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতের আদেশ দাখিলে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপক্ষের (দুদক) করা ‘রায়ের দিন ধার্যের’ আবেদনের আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন।

এর আগে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন কেন বাতিল হবে না- তার লিখিত ব্যাখ্যা আমরা দিয়েছি। একই সঙ্গে সময় আবেদন করেছি। ওই আদেশের (খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে) বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছি। আগামী মঙ্গলবার তা কজলিস্টে উঠবে। খালেদা জিয়াকে জেলখানা থেকে ট্রান্সফার করে পিজিতে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়েছে। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া আমরা কখনও আদালতের কাছে সময় চাইনি। অসুস্থতা বিবেচনা করে জামিন বহাল ও সময় মঞ্জুর করুন।

অপরদিকে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম কারাগারে থাকা অপর দুই আসামির পক্ষে উচ্চতর আদালতে অনাস্থার আবেদনের কথা জানিয়ে সময় আবেদন করেন।

এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন কেন বাতিল হবে- তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা যে জবাব দিয়েছেন তা যুক্তিসঙ্গত না। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করছেন না। শুধু জামিন চাচ্ছেন। তারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) রিপ্রেজেন্ট (প্রতিনিধিত্ব) করে শুনানি করেন না। কিন্তু ডিফেন্ড (সমর্থন) করে জামিন আবেদন করেন। এসব আদালতে মামলা পরিচালনা না করার জন্য করছেন। খালেদা জিয়া যেখানেই থাকুন, আইনের বিধান অনুসারে আমরা মামলা পরিচালনা করতে পারব। এ পর্যন্ত ৪৫টি তারিখ পার হয়েছে। এক বছর নয় মাস ধরে যুক্তিতর্ক চলছে।

দুদক আইনজীবী কাজল বলেন, প্রথমত, তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতে আসছেন না। দ্বিতীয়ত, তিনি বিচার বাধাগ্রস্ত করছেন। তৃতীয়ত, তারা মামলা পরিচালনায় সাহায্য করছেন না। এ তিন কারণে খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হতে পারে। তিনি (খালেদা জিয়া) পাগল হলে বিচার বন্ধ রাখা যাবে। এছাড়া সুযোগ নেই। জামিন বাতিলের যথেষ্ট কারণ আছে। দয়া করে আপনি (বিচারক) রায়ের তারিখ ঘোষণা করুন। আইন আমাদের পক্ষে।

জবাবে খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, যদি আসামি জামিনে থেকে আদালতে উপস্থিত না হতেন তাহলে আমরা তার প্রতিনিধিত্ব করতে পারতাম। তার অনুপস্থিতিতে মামলা পরিচালনা করা যেত। রাষ্ট্রপক্ষের (দুদক) ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪০(এ) ধারায় আবেদনে (খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি বিচার চলার আবেদন) বিভ্রাট সৃষ্টি হয়েছে। আর তিনি যেহেতু কারাগারে অর্থাৎ আদালতের হেফাজতে। সেহেতু তিনি আসছেন না- এ কথা ঠিক নয়। কোনো আসামি কারাগারে থাকলে তার আসা না আসার প্রশ্নই আসে না। উনার (খালেদা জিয়ার) ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই। উনি স্বাধীন না। যিনি মুক্ত নন, তিনি আসলেন কি আসলেন না- তা বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং কারা কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, কারাগারে থাকা আসামির জামিনের অপব্যবহারের সুযোগ থাকে না। অতএব জামিন বাতিলের সুযোগ নেই। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আপনার (বিচারক) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপনি (বিচারক) অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে আসছেন। খালেদা জিয়া এতই সাধারণ হয়ে গেলেন যে দুই বছরেও অন্তর্বর্তীকালীন জামিন থেকে তিনি স্থায়ী জামিন পেলেন না। আর দেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে এক দিন পর পর হাজিরা দিয়ে জামিন বর্ধিত করতে হয়। এ ধরণের নজির আর কোনো মামলায় হয়নি।

প্রতিউত্তরে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া সুপ্রিমকোর্টের জামিন আদেশের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। আর এজন্যই আদালত তাকে ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন।