ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি : রাশেদ খান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে একজন মানুষও মরবে না: এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও মাদক আগ্রাসন বেড়েই চলেছে। দেশের মানুষ এ অবস্থা থেকে পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তন এনে দিতে পারবে একমাত্র জাতীয় পার্টি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না গেলে দেশে এক লাখ মানুষ মারা যাবে সরকারদলীয় এক মন্ত্রীর এমন বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে একজন মানুষও মারা যাবে না। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, যুগ্ম মহাসচিব সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সুনামগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

প্রচণ্ড রোধে সরকারি জুবেলি স্কুল মাঠে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখে এরশাদ বলেন, এত মানুষ আমাকে ভালোবাসে এটি ভাবলে মনে হয় আমার বয়স কমে গেছে।

এ সময় তিনি সুনামগঞ্জ-৪ আসনে আগামী নির্বাচনে আবারও পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে প্রার্থী ঘোষণা করে বলেন, আমার আসনে আমি এখনও নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করিনি, কিন্তু পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে গেলাম, তাকে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার দায়িত্ব আপনাদের।

এরশাদ বলেন, ৩০০ আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-৪ আসনই প্রথম, যার প্রার্থিতা ঘোষণা করলাম। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকার সময় এই সুনামগঞ্জকে জেলা ঘোষণা করেছিলাম, তাই আমার দাবি লাঙ্গলে ভোট দিয়ে তার প্রতিদান দেবে এ অঞ্চলের মানুষ।

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সিলেট বিভাগ থেকে আটটি আসনে জয়লাভ করেছিল। এবার আরও বেশি আসনে জয়লাভ করতে হবে।

‘জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে, দলীয়করণ হবে না, দেশে গুম-খুন থাকবে না। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

এ সময় এরশাদ উল্লেখ করে বলেন, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে তাদের বিরুদ্ধে করা পাঁচ হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ছয় হাজার মামলা প্রত্যাহার করেছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে কারো বিরুদ্ধে অন্যায় অবিচার হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, দেশে অন্যায় অবিচার চলবে, কিন্তু প্রতিবাদ করা যাবে না; প্রতিবাদ করলেই মামলার ভয় দেখানো হয়।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল, নানা সমালোচনা হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে। কিন্তু কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়নি।

সভাপতির বক্তব্যে পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, গত পাঁচ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের সেবা করেছি, আপনাদের হাতে হাত রেখে চলেছি। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সাধ্যমতো বাস্তবায়ন করেছি। আবার বিজয়ী হলে সুনামগঞ্জের চেহারা পাল্টে দেব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে একজন মানুষও মরবে না: এরশাদ

আপডেট সময় ০৭:৩২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও মাদক আগ্রাসন বেড়েই চলেছে। দেশের মানুষ এ অবস্থা থেকে পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তন এনে দিতে পারবে একমাত্র জাতীয় পার্টি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না গেলে দেশে এক লাখ মানুষ মারা যাবে সরকারদলীয় এক মন্ত্রীর এমন বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে একজন মানুষও মারা যাবে না। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, যুগ্ম মহাসচিব সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সুনামগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

প্রচণ্ড রোধে সরকারি জুবেলি স্কুল মাঠে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখে এরশাদ বলেন, এত মানুষ আমাকে ভালোবাসে এটি ভাবলে মনে হয় আমার বয়স কমে গেছে।

এ সময় তিনি সুনামগঞ্জ-৪ আসনে আগামী নির্বাচনে আবারও পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে প্রার্থী ঘোষণা করে বলেন, আমার আসনে আমি এখনও নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করিনি, কিন্তু পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে গেলাম, তাকে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার দায়িত্ব আপনাদের।

এরশাদ বলেন, ৩০০ আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-৪ আসনই প্রথম, যার প্রার্থিতা ঘোষণা করলাম। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকার সময় এই সুনামগঞ্জকে জেলা ঘোষণা করেছিলাম, তাই আমার দাবি লাঙ্গলে ভোট দিয়ে তার প্রতিদান দেবে এ অঞ্চলের মানুষ।

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সিলেট বিভাগ থেকে আটটি আসনে জয়লাভ করেছিল। এবার আরও বেশি আসনে জয়লাভ করতে হবে।

‘জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে, দলীয়করণ হবে না, দেশে গুম-খুন থাকবে না। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

এ সময় এরশাদ উল্লেখ করে বলেন, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে তাদের বিরুদ্ধে করা পাঁচ হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ছয় হাজার মামলা প্রত্যাহার করেছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে কারো বিরুদ্ধে অন্যায় অবিচার হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, দেশে অন্যায় অবিচার চলবে, কিন্তু প্রতিবাদ করা যাবে না; প্রতিবাদ করলেই মামলার ভয় দেখানো হয়।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল, নানা সমালোচনা হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে। কিন্তু কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়নি।

সভাপতির বক্তব্যে পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, গত পাঁচ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের সেবা করেছি, আপনাদের হাতে হাত রেখে চলেছি। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সাধ্যমতো বাস্তবায়ন করেছি। আবার বিজয়ী হলে সুনামগঞ্জের চেহারা পাল্টে দেব।