ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত

পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও মাছের বাজার অস্থির

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্থির হয়ে উঠেছে মাছের বাজার। সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা

বেড়েছে। ইলিশের মৌসুমেও নানা অজুুহাতে ব্যবসায়ীরা চড়া দামে ইলিশ বিক্রি করছেন। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কমলেও দেশি পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, গরুর মাংস, সবজিসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

আকার ভেদে রুই কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় আকারের প্রতি কেজি চিংড়ি এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। কেজিপ্রতি মাঝারি আকারের চিংড়ি ৭৫০-৭৬০ টাকা, ছোট আকারের চিংড়ি ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২০০ টাকা, কই ১৫০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০-১৮০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৩০-১৭০ টাকা, নলা ১৩০-১৫০ টাকা, সরপুঁটি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজার ভেদে ৯০০ থেকে এক কেজি ওজনের প্রতি পিস ইলিশ ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. মাসুম যুগান্তরকে বলেন, হাওর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশি মাছ কম ধরা পড়ছে।

তাই রাজধানীর পাইকারি আড়তে সরবরাহ কম। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মাছের দাম ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে ইলিশ আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনও আড়তদাররা বেশি দামে বিক্রি করছে।

তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই বাজারে মাছ কিনতে আসা সরকারি কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মাছের দাম অনেক চড়া। দাম বাড়ানোর পেছনে বিক্রেতারা নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। তবে মনে হচ্ছে তারা ইচ্ছা করেই দাম বাড়িয়েছেন। ছুটির দিনে তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। আর বাজারেও সরবরাহ বেশি। কিন্তু সিন্ডিকেট করে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া উচিত।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা বিক্রি হলেও শুক্রবার বাজার ভেদে ৪৫-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহে মান ও আকার ভেদে পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছ। শুক্রবার সেই পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্যতালিকায়ও দেখা গেছে।

শুক্রবার সবজির বাজার ছিল স্থিতিশীল। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটোল ৪০-৪৫ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫-৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০-৪০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকা, গাজর ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শান্তিনগর কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সুমন যুগান্তরকে বলেন, বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল আছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে এক কেজি কাঁচামরিচ ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। তা এখন বিক্রি করছি ৫৫ টাকায়। দাম কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। চাষীরা একসঙ্গে মরিচ উত্তোলন করায় এবং সরাসরি ঢাকার বাজারে আসায় দাম হাতের নাগালে আসতে শুরু করেছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার ১২৫-১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গরুর মাংস গত সপ্তাহের মতো কেজিপ্রতি ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস

পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও মাছের বাজার অস্থির

আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্থির হয়ে উঠেছে মাছের বাজার। সব ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা

বেড়েছে। ইলিশের মৌসুমেও নানা অজুুহাতে ব্যবসায়ীরা চড়া দামে ইলিশ বিক্রি করছেন। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কমলেও দেশি পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, গরুর মাংস, সবজিসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

আকার ভেদে রুই কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড় আকারের প্রতি কেজি চিংড়ি এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। কেজিপ্রতি মাঝারি আকারের চিংড়ি ৭৫০-৭৬০ টাকা, ছোট আকারের চিংড়ি ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২০০ টাকা, কই ১৫০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০-১৮০ টাকা, পাবদা ৪৫০-৫০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৩০-১৭০ টাকা, নলা ১৩০-১৫০ টাকা, সরপুঁটি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাজার ভেদে ৯০০ থেকে এক কেজি ওজনের প্রতি পিস ইলিশ ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. মাসুম যুগান্তরকে বলেন, হাওর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেশি মাছ কম ধরা পড়ছে।

তাই রাজধানীর পাইকারি আড়তে সরবরাহ কম। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মাছের দাম ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে ইলিশ আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনও আড়তদাররা বেশি দামে বিক্রি করছে।

তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই বাজারে মাছ কিনতে আসা সরকারি কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মাছের দাম অনেক চড়া। দাম বাড়ানোর পেছনে বিক্রেতারা নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। তবে মনে হচ্ছে তারা ইচ্ছা করেই দাম বাড়িয়েছেন। ছুটির দিনে তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। আর বাজারেও সরবরাহ বেশি। কিন্তু সিন্ডিকেট করে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়া উচিত।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা বিক্রি হলেও শুক্রবার বাজার ভেদে ৪৫-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহে মান ও আকার ভেদে পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছ। শুক্রবার সেই পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্যতালিকায়ও দেখা গেছে।

শুক্রবার সবজির বাজার ছিল স্থিতিশীল। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটোল ৪০-৪৫ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫-৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০-৪০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকা, গাজর ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শান্তিনগর কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সুমন যুগান্তরকে বলেন, বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল আছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে এক কেজি কাঁচামরিচ ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। তা এখন বিক্রি করছি ৫৫ টাকায়। দাম কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। চাষীরা একসঙ্গে মরিচ উত্তোলন করায় এবং সরাসরি ঢাকার বাজারে আসায় দাম হাতের নাগালে আসতে শুরু করেছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার ১২৫-১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে গরুর মাংস গত সপ্তাহের মতো কেজিপ্রতি ৪৮০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।