অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কুলসুম বেগম (১৯)। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার বাদাতেঘরিয়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার মেয়ে। গত আট মাস আগে ভালবেসে ঝিনাইগাতী উপজেলার কসাইপাড়া গ্রামের মৃত কুদরত আলীর ছেলে লিটন মিয়াকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। লিটন পেশায় একজন কসাই।
ভালবেসে বিয়ে করায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন কুলসুমকে মেনে নিতে পারেনি। বিয়ের আট মাস না যেতেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নববধূ কুলসুমের কাছে। কিন্তু অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান কুলসুম এত টাকা পাবেন কোথায়? আর তাইতো যৌতুকলোভী কসাই স্বামীর দায়ের কোপে নিজের ডান হাতটি বিসর্জন দিয়ে এর মাশুল দিলেন কুলসুম।
১৩ জুন উপজেলার কসাইপাড়াস্থ স্বামীর বাড়িতে মধ্যযুগীয় কায়দায় কুলসুমের ওপর এ নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে।
এর আগেও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা এই নববধূ। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন তার বাবার বাড়িতে।
শেরপুরের মানবাধিকারকর্মী আইনজীবী আলমগীর কিবরিয়ার সহযোগিতায় এ ঘটনায় কুলসুম বাদী হয়ে স্বামী লিটনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ৩ জুলাই মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।
আদালতের হাকিম (জেলা জজ) আখতারুজ্জামান মর্মন্তুদ এ ঘটনা শুনে মামলাটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আট মাস আগে সদর উপজেলার বাদাতেঘরিয়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার মেয়ে কুলসুম বেগমের সঙ্গে ঝিনাইগাতী বাজারের কুদরত আলীর ছেলে লিটন মিয়ার বিয়ে হয়। লিটন পেশায় একজন কসাই। কুলসুম বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের পর থেকেই লিটন তার অন্য ভাই ও স্বজনদের প্ররোচনায় এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে কুলসুমের ওপর অসহনীয় অত্যাচার ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। কুলসুম যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বামী ও অন্যরা তাকে (কুলসুম) অনৈতিক ও অসামাজিক (দেহ ব্যবসা) করে অর্থ উপার্জন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু কুলসুম এ ধরনের অসামাজিক কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৩ জুন বিকাল তিনটার দিকে স্বামী লিটন, তার চার ভাই রিপন, উজ্জ্বল, নূর ইসলাম ও রবি এবং আত্মীয় শফিকুল ইসলাম পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে অসহায় কুলসুমের ওপর আক্রমণ চালান। তারা দা, ছুরি ও ডেগার নিয়ে কুলসুমের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে জখম করেন। এক পর্যায়ে লিটন তার হাতে থাকা মাংস কাটার কোপা দা দিয়ে স্ত্রী কুলসুমের ডান হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে তিনি (কুলসুম) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করান।
নৃশংস নির্যাতনের শিকার কুলসুম বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি ভালবেসে লিটনকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু এর জন্য এত বড় মাশুল দিতে হবে- তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি। তার স্বামী মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকেই তার (কুলসুম) ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানান।
এ সম্পর্কে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, আদালতের আদেশটি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মামলার সকল আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং তাদের বাড়িতেও না পাওয়া যাওয়ায় কুলসুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে কারো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























