অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার গ্রেপ্তার করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান। শরণার্থীদের ফেরত নেবার বিষয়ে মিয়ানমারের ‘আন্তরিকতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷
একদিকে মিয়ানমার বলছে যে, গত আগস্ট থেকে সাত লাখ রোহিঙ্গা যারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়েছেন, তাদের ফেরত নেয়া হবে, অন্যদিকে যারা ফিরতে চাচ্ছেন তাদের গ্রেপ্তার করছে৷
জাতিসংঘে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন জানান, তার অফিস ৫৮ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়েছে৷ তারা দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু গ্রেপ্তারের জন্য কোনো কারণ দেখায়নি মিয়ানমার৷
উত্তর রাখাইন প্রদেশে এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও কম রোহিঙ্গা ফেরত যেতে পেরেছেন বলে জানাচ্ছে জেইদের অফিস৷
‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সাপেক্ষে এদের বুথিডং কারাগার থেকে তথাকথিত রিসেপশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ তবে শর্ত হলো, তাদের একই রকমভাবে আটক থাকতে হবে’। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেয়া প্রতিবেদনে মৌখিকভাবে জানান জেইদ রাদ আল হুসেইন৷
‘দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে৷ কিন্তু যারা ফেরত যাবার চেষ্টা করছে, সবাইকে না হলেও অনেককেই গ্রেপ্তার করছে’- তিনি যোগ করেন৷
মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার ব্যাপারে চুক্তি করেছে৷ অথচ রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ যেতে চাচ্ছেন না৷ এর কারণ হিসেবে সেখানকার পরিস্থিতি এখনো শঙ্কাজনক বলে মনে করছেন জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা৷
রোহিঙ্গারা গত বছর আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর দ্বারা কঠিন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন, যাকে জাতিসংঘ জাতি নিধন হিসেবে চিহ্নিত করেছে৷
জেইদ বলেন যে, এই নিপীড়ন বন্ধ হয়নি৷ এখনো ‘হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া’ অব্যাহত আছে৷
এ বছরও ১১ হাজার অধিবাসী রাখাইন থেকে পালিয়েছেন৷ জাতিসংঘ বলছে, এর অর্থ এখনো সেখানে সহিংসতা চলছে, যার ফলে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছেন৷
তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে উপস্থিত মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এখানে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে৷
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















