ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আদালতের আদেশ মানছে না গ্রামীণফোন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে নানান ইস্যুতে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। এবার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় শ্রম আদালতে গিয়ে পুনরায় চাকরি ফেরত পাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন একজন কর্মী। তবে গ্রামীণফোন এই নির্দেশনা মানতে নারাজ।

জানা গেছে, তিনবারের নির্বাচিত গ্রামীণফোন পিপল কাউন্সিলের বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি, গ্রামীণফোন প্রোভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাস্টি এবং গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতা বিএম জাহিদুর রহমানকে সম্প্রতি চাকরি থেকে অব্যাহতি দিলে এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণফোন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে শ্রম আদালত অন্যায়ভাবে গ্রামীণফোনের এককর্মীকে চাকরিচুত করার আদেশকে উভয় পক্ষের আইনজীবির উপস্থিতিতে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং আদেশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্বপদে পূনর্বহাল করার আদেশ দেন।

গত ৯ মে সকালে বিএম জাহিদ আদালতের আদেশসহ একটি দরখাস্ত স্বশরীরে হাজির হয়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেন এবং ১০ মে ইমেইলের মাধ্যমেও জানান।

সর্বশেষ সোমবার পুনরায় তিনি আদালতের আদেশসহ আরেকটি দরখাস্ত জমা দেন। কিন্তু গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে তাল বাহানা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফলি গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের (জিপিইইউ) প্রচার সম্পাদক মো. রফিকুল কবির।

তিনি দৈনিক আকাশকে বলেন, একে তো দেশের আইন না মেনে চাকরিচ্যুত করেছে এখন আদালতের আদেশও মানছে না যা আদালত অবমাননার সামিল।

তিনি জানান, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফলি গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ) অসন্তুষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে এক টাউন হলে সবার সামনে আদালত আদেশ দিলে তা মেনে নিয়ে বিএম জাহিদকে তাঁর পদে পুণর্বহালের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন তাও ভঙ্গ করছেন।

বিএম জাহিদকে একটা ভিত্তিহীন অভিযোগের উপর ভিত্তি করে হয়রানি শুরু করলে, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধি ২৯(খ) এর বিধান লংঘন করায়, বিএম জাহিদ শ্রম আদালত-১, ঢাকায় বিএলএ (আইআর) ১১০৪/২০১৭ মামলাটি দায়ের করেন।

উক্ত মামলায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১৬ (১) (ছ) ধারার নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত পেন্ডিং থাকাবস্থায় সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে সাবজুডিস বিষয়ে আবারও ১২ এপ্রিল বেআইনী তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য ৫ এপ্রিল ইমেইল মারফত আরও একটি নোটিশ দেন।

১২ এপ্রিল বিএম জাহিদ কর্তৃপক্ষকে টাইম পিটিশন দেন এবং ছুটি প্রার্থনা করেন। কারণ ওইদিন বিএম জাহিদ শ্রম আদালতে হাজির হন এবং দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৭ বিধিএবং ১৫১ মোতাবেক মোট তিনটি দরখাস্ত দায়ের করেন আর্জি ও নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত সংশোধন করার নিমিত্তে এবং অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেন।

কোম্পানির নিয়োজিত আইনজীবীরা কপি রিসিভ করে শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন। আদালত প্রথমে ১৯ এপ্রিল এবং পরে ১৭ মে আদেশের জন্য দিনধার্য্য করেন।

জিপিইইউ-এর প্রচার সম্পাদক মো. রফিকুল কবির বলছেন, একটি সাবজুডিস বিষয়ে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে আমাদেরকে অবাক করে দিয়ে গ্রামীণফোন বিগত ১৬ এপ্রিল রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে বিএম জাহিদকে চাকরি হতে ডিসমিস করেন।

যা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২২৮ ধারার সম্পূর্ন লংঘন। অতপর বিএম জাহিদ ১৭ এপ্রিল নথী উপস্থাপনসহ চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য একটি দরখাস্ত দায়ের করেন।

ওইদিন আদালত ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত আদালত নথী উপস্থাপনের দরখাস্ত নামঞ্জুর করেন। পুনরায় ৩০ এপ্রিল নথী উপস্থাপনের দরখাস্ত করলে আদালত ৩ মে শুনানীর দিনধার্য্য করেন।

ওইদিন উভয় পক্ষকে শুনানীর পর আদালত বিএম জাহিদুর রহমানকে তার স্বপদে বহালের আদেশ দান করেন। এই আদেশের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের কর্তাব্যক্তিদের দ্বারা বেআইনী ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে বিএম জাহিদ ন্যায় বিচার পান।

উল্লেখ্য বিএম জাহিদ যৌক্তিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী বোনাস, জিপিসির ৪০ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানসহ আইনানুগ দাবিগুলো সব সময় আইন সঙ্গতভাবেই কোম্পানির নিকট তুলে ধরতেন।

এছাড়া কোন অন্যায় হলে আইন সঙ্গতভাবে প্রতিবাদ করতেন এবং কাস্টমার সার্ভিসের কর্মচারীদের প্লেসমেন্ট, ব্রিজসহ অন্যান্য প্রজেক্টের মাধ্যেমে কর্মচারি ছাঁটায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করতেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আদালতের আদেশ মানছে না গ্রামীণফোন

আপডেট সময় ০৮:২০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে নানান ইস্যুতে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। এবার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় শ্রম আদালতে গিয়ে পুনরায় চাকরি ফেরত পাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন একজন কর্মী। তবে গ্রামীণফোন এই নির্দেশনা মানতে নারাজ।

জানা গেছে, তিনবারের নির্বাচিত গ্রামীণফোন পিপল কাউন্সিলের বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি, গ্রামীণফোন প্রোভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাস্টি এবং গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতা বিএম জাহিদুর রহমানকে সম্প্রতি চাকরি থেকে অব্যাহতি দিলে এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গ্রামীণফোন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে শ্রম আদালত অন্যায়ভাবে গ্রামীণফোনের এককর্মীকে চাকরিচুত করার আদেশকে উভয় পক্ষের আইনজীবির উপস্থিতিতে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং আদেশ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্বপদে পূনর্বহাল করার আদেশ দেন।

গত ৯ মে সকালে বিএম জাহিদ আদালতের আদেশসহ একটি দরখাস্ত স্বশরীরে হাজির হয়ে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেন এবং ১০ মে ইমেইলের মাধ্যমেও জানান।

সর্বশেষ সোমবার পুনরায় তিনি আদালতের আদেশসহ আরেকটি দরখাস্ত জমা দেন। কিন্তু গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে তাল বাহানা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফলি গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের (জিপিইইউ) প্রচার সম্পাদক মো. রফিকুল কবির।

তিনি দৈনিক আকাশকে বলেন, একে তো দেশের আইন না মেনে চাকরিচ্যুত করেছে এখন আদালতের আদেশও মানছে না যা আদালত অবমাননার সামিল।

তিনি জানান, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফলি গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ) অসন্তুষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে এক টাউন হলে সবার সামনে আদালত আদেশ দিলে তা মেনে নিয়ে বিএম জাহিদকে তাঁর পদে পুণর্বহালের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন তাও ভঙ্গ করছেন।

বিএম জাহিদকে একটা ভিত্তিহীন অভিযোগের উপর ভিত্তি করে হয়রানি শুরু করলে, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধি ২৯(খ) এর বিধান লংঘন করায়, বিএম জাহিদ শ্রম আদালত-১, ঢাকায় বিএলএ (আইআর) ১১০৪/২০১৭ মামলাটি দায়ের করেন।

উক্ত মামলায় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১৬ (১) (ছ) ধারার নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত পেন্ডিং থাকাবস্থায় সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে সাবজুডিস বিষয়ে আবারও ১২ এপ্রিল বেআইনী তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য ৫ এপ্রিল ইমেইল মারফত আরও একটি নোটিশ দেন।

১২ এপ্রিল বিএম জাহিদ কর্তৃপক্ষকে টাইম পিটিশন দেন এবং ছুটি প্রার্থনা করেন। কারণ ওইদিন বিএম জাহিদ শ্রম আদালতে হাজির হন এবং দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৭ বিধিএবং ১৫১ মোতাবেক মোট তিনটি দরখাস্ত দায়ের করেন আর্জি ও নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত সংশোধন করার নিমিত্তে এবং অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেন।

কোম্পানির নিয়োজিত আইনজীবীরা কপি রিসিভ করে শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন। আদালত প্রথমে ১৯ এপ্রিল এবং পরে ১৭ মে আদেশের জন্য দিনধার্য্য করেন।

জিপিইইউ-এর প্রচার সম্পাদক মো. রফিকুল কবির বলছেন, একটি সাবজুডিস বিষয়ে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে আমাদেরকে অবাক করে দিয়ে গ্রামীণফোন বিগত ১৬ এপ্রিল রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে বিএম জাহিদকে চাকরি হতে ডিসমিস করেন।

যা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২২৮ ধারার সম্পূর্ন লংঘন। অতপর বিএম জাহিদ ১৭ এপ্রিল নথী উপস্থাপনসহ চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য একটি দরখাস্ত দায়ের করেন।

ওইদিন আদালত ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত আদালত নথী উপস্থাপনের দরখাস্ত নামঞ্জুর করেন। পুনরায় ৩০ এপ্রিল নথী উপস্থাপনের দরখাস্ত করলে আদালত ৩ মে শুনানীর দিনধার্য্য করেন।

ওইদিন উভয় পক্ষকে শুনানীর পর আদালত বিএম জাহিদুর রহমানকে তার স্বপদে বহালের আদেশ দান করেন। এই আদেশের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের কর্তাব্যক্তিদের দ্বারা বেআইনী ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে বিএম জাহিদ ন্যায় বিচার পান।

উল্লেখ্য বিএম জাহিদ যৌক্তিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী বোনাস, জিপিসির ৪০ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানসহ আইনানুগ দাবিগুলো সব সময় আইন সঙ্গতভাবেই কোম্পানির নিকট তুলে ধরতেন।

এছাড়া কোন অন্যায় হলে আইন সঙ্গতভাবে প্রতিবাদ করতেন এবং কাস্টমার সার্ভিসের কর্মচারীদের প্লেসমেন্ট, ব্রিজসহ অন্যান্য প্রজেক্টের মাধ্যেমে কর্মচারি ছাঁটায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করতেন।