ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আইনজীবীদের পরামর্শেই আদালতে আসেন না খালেদা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের পরামর্শে আদালতে আসেন না বলে অভিযোগ করেছেন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে তিনি এই দাবি করেন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এজলাসে উঠলে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, খালেদা জিয়া অসুস্থ জানিয়ে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী রমজানের পর ধার্যেরও আবেদন করেন।

এরপর দুদকের প্রসিকিউটর কাজল বলেন, ‘মামলাটিতে আজ (বৃহস্পতিবার) যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য আছে। মামলার প্রধান আসামি কারাগার। তিনি আদালতে আসেননি। এর আগের চারটি ধার্য তারিখে একই অবস্থা। তিনি অসুস্থার কথা বলে আদালতে আসতে চান না। অথচ তিনি একই অবস্থায় গত ১০ বছর আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কারাগার থেকে গাড়িতে ওঠার পথ পর্যন্ত হাঁটতে চান না। হুইল চেয়ার দিলেও নিতে চান না। আমার লার্নেড ফ্রেন্ডরা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) ঘনঘন তার সঙ্গে দেখা করে যেভাবে তাকে পরামর্শ দেন সেভাবেই তিনি চলছেন। মামলার বিচার যাতে এগিয়ে যেতে না পারে এজন্যই তিনি মূলত আদালতে আসছেন না। তিনি সম্মানিত মানুষ, তাই তাকে আদালতে আনতে জোর করাও যাচ্ছে না।’

দুদক প্রসিকিউটরের এসব অভিযোগের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে পাল্টা কোনো বক্তব্য দেননি এবং তাকে হাজির করার বিষয়েও কোনো বক্তব্য দেননি। শুনানি শেষে বিচারক রমজান মাসের মধ্যেই আগামী ৬ জুন পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় একই আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি অব্যাহত রয়েছে এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি আছে। একই বিচারক অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠান।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আইনজীবীদের পরামর্শেই আদালতে আসেন না খালেদা

আপডেট সময় ০২:০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের পরামর্শে আদালতে আসেন না বলে অভিযোগ করেছেন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে তিনি এই দাবি করেন।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান এজলাসে উঠলে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, খালেদা জিয়া অসুস্থ জানিয়ে তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী রমজানের পর ধার্যেরও আবেদন করেন।

এরপর দুদকের প্রসিকিউটর কাজল বলেন, ‘মামলাটিতে আজ (বৃহস্পতিবার) যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য আছে। মামলার প্রধান আসামি কারাগার। তিনি আদালতে আসেননি। এর আগের চারটি ধার্য তারিখে একই অবস্থা। তিনি অসুস্থার কথা বলে আদালতে আসতে চান না। অথচ তিনি একই অবস্থায় গত ১০ বছর আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কারাগার থেকে গাড়িতে ওঠার পথ পর্যন্ত হাঁটতে চান না। হুইল চেয়ার দিলেও নিতে চান না। আমার লার্নেড ফ্রেন্ডরা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) ঘনঘন তার সঙ্গে দেখা করে যেভাবে তাকে পরামর্শ দেন সেভাবেই তিনি চলছেন। মামলার বিচার যাতে এগিয়ে যেতে না পারে এজন্যই তিনি মূলত আদালতে আসছেন না। তিনি সম্মানিত মানুষ, তাই তাকে আদালতে আনতে জোর করাও যাচ্ছে না।’

দুদক প্রসিকিউটরের এসব অভিযোগের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে পাল্টা কোনো বক্তব্য দেননি এবং তাকে হাজির করার বিষয়েও কোনো বক্তব্য দেননি। শুনানি শেষে বিচারক রমজান মাসের মধ্যেই আগামী ৬ জুন পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় একই আদালত। এরপর থেকে তিনি নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি অব্যাহত রয়েছে এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি আছে। একই বিচারক অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন এবং ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠান।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিুউটিএ এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।