ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

অসুস্থতার বিবেচনায় খালেদাকে জামিন দেয়ার আর্জি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী তার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে জানিয়েছেন আইনজীবী। এর পাশাপাশি তার ৭৩ বছর বয়সের কথাটিও তুলে ধরেছেন তিনি।

হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আপিলের শুনানির দ্বিতীয় দিন বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন জয়নুল আবেদিন।

বুধবার সকালে প্রথান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়। আর দুই দিনের শুনানি শেষে ১৫ মে আদেশের জন্য দিন ঠিক করা হয়।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন তার নেত্রীর অসুস্থতার বিষয়টিই বেশি করে তুলে ধরেন।

জয়নুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর। জেলখানায় চিকিৎসা হচ্ছে না। আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁর হাত ফুলে উঠেছে। ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। কথাও বলতে পারছেন না। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, খালেদা জিয়া বিশ্রামে আছেন। মানুষের জন্য আদালত, আদালত সবকিছুই দেখবেন।’

সেই সঙ্গে বিএনপি নেত্রীর বয়সের কথাও বিবেচনায় রাখার আর্জি জানান তার আইনজীবী।

জয়নুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৩ বছর। আদালতের চোখ আছে, মন আছে, বিবেক আছে। পাবলিক পারসেপশন আছে। এই কোর্ট ছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।’

এ সময় বিভিন্ন মামলায় সাজার পর উচ্চ আদালতের আসামিদের জামিন দেয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন জয়নুল আবেদিন।

‘অনেক মামলায় জামিন হয়ে গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তো আপিল করে না।’

এ সময় দুইজন রাজনীতিকের মামলায় জামিন ও খালাসের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল না করার বিষয়টি আদালতের কাছে তুলে ধরেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের অংশগ্রহণের কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেন জয়নুল। বলেন, ‘এই মামলায় কোন অথোরিটি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন?’

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, ‘আপনারাই তো রাষ্ট্রপক্ষকে সংযুক্ত করেছেন।’

জয়নুল বলেন, ‘দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ যখন এক হয়, তখন ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমাদের সংশয় দেখা দিয়েছে।’

খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডকে লঘু দণ্ড দাবি করে তার আইনজীবী এও বলেন, ‘লঘু দণ্ডের যেসব মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত সাধারণত হস্তক্ষেপ করেন না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে আপিল করেন ১৯ মার্চ। ২২ মার্চ শুনানিতে আপিল গৃহীত হলে ২৫ ফেব্রুয়ারি হয় জামিন শুনানি। ১২ মার্চ বিএনপি নেত্রীকে চার মাসের জামিন দেয় হাইকোর্ট। আর এর বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদক।

আর কারাগারে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা শোনা যায় ২৮ মার্চ। ১ এপ্রিল তার চিকিৎসায় গঠন করা হয় চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার দাবি তুলে বিএনপি।

তখন এ নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন ছড়ালে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দেশেই বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তির পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করার দাবি করে তার দল।

এর মধ্যে গত ২৮ এপ্রিল বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া মুক্ত থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসায় নিয়োজিত কয়েকজন ডাক্তার তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এদের মধ্যে নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) কোমরের হাড়ও ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

চক্ষু বিশেষজ্ঞ আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) সুচিকিৎসা করানো না হলে চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।’

অন্য একজন চিকিৎসক বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) প্রস্রাব, পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

আপিল শুনানির তিন দিন আগে ৫ মে খালেদা জিয়ার পাঁচজন আইনজীবী কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদেরকে তার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেন।

কারাগার থেকে বের হয়ে এসে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান সাংবাদিকদের বলেন, “ম্যাডাম বলেছেন, ‘আমি অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ- এটা কোর্টকে জানাবেন’।”

আগের দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অবশ্য বিএনপির নেত্রীর অসুস্থতার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বক্তব্যকে জামিন পেতে কৌশল হিসেবে আদালতে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, একজন চিকিৎসক খালেদা জিয়াকে নাপা ছাড়া কোনো ওষুধ দেননি। কাজেই গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি সত্য নয়।

মাহবুবে আলম সেদিন আদালতকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আবার বাইরে এসে প্রেস কনফারেন্স করেছেন। যেটা উদ্দেশ্যমূলক করেছেন। জামিন পাওয়ার জন্য এটা করেছেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

অসুস্থতার বিবেচনায় খালেদাকে জামিন দেয়ার আর্জি

আপডেট সময় ০১:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী তার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে জানিয়েছেন আইনজীবী। এর পাশাপাশি তার ৭৩ বছর বয়সের কথাটিও তুলে ধরেছেন তিনি।

হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আপিলের শুনানির দ্বিতীয় দিন বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন জয়নুল আবেদিন।

বুধবার সকালে প্রথান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়। আর দুই দিনের শুনানি শেষে ১৫ মে আদেশের জন্য দিন ঠিক করা হয়।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদিন তার নেত্রীর অসুস্থতার বিষয়টিই বেশি করে তুলে ধরেন।

জয়নুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর। জেলখানায় চিকিৎসা হচ্ছে না। আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁর হাত ফুলে উঠেছে। ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। কথাও বলতে পারছেন না। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, খালেদা জিয়া বিশ্রামে আছেন। মানুষের জন্য আদালত, আদালত সবকিছুই দেখবেন।’

সেই সঙ্গে বিএনপি নেত্রীর বয়সের কথাও বিবেচনায় রাখার আর্জি জানান তার আইনজীবী।

জয়নুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৩ বছর। আদালতের চোখ আছে, মন আছে, বিবেক আছে। পাবলিক পারসেপশন আছে। এই কোর্ট ছাড়া আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।’

এ সময় বিভিন্ন মামলায় সাজার পর উচ্চ আদালতের আসামিদের জামিন দেয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন জয়নুল আবেদিন।

‘অনেক মামলায় জামিন হয়ে গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তো আপিল করে না।’

এ সময় দুইজন রাজনীতিকের মামলায় জামিন ও খালাসের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল না করার বিষয়টি আদালতের কাছে তুলে ধরেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের অংশগ্রহণের কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেন জয়নুল। বলেন, ‘এই মামলায় কোন অথোরিটি নিয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন?’

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, ‘আপনারাই তো রাষ্ট্রপক্ষকে সংযুক্ত করেছেন।’

জয়নুল বলেন, ‘দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ যখন এক হয়, তখন ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমাদের সংশয় দেখা দিয়েছে।’

খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডকে লঘু দণ্ড দাবি করে তার আইনজীবী এও বলেন, ‘লঘু দণ্ডের যেসব মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত সাধারণত হস্তক্ষেপ করেন না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে আপিল করেন ১৯ মার্চ। ২২ মার্চ শুনানিতে আপিল গৃহীত হলে ২৫ ফেব্রুয়ারি হয় জামিন শুনানি। ১২ মার্চ বিএনপি নেত্রীকে চার মাসের জামিন দেয় হাইকোর্ট। আর এর বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদক।

আর কারাগারে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা শোনা যায় ২৮ মার্চ। ১ এপ্রিল তার চিকিৎসায় গঠন করা হয় চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার দাবি তুলে বিএনপি।

তখন এ নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন ছড়ালে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দেশেই বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তির পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করার দাবি করে তার দল।

এর মধ্যে গত ২৮ এপ্রিল বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া মুক্ত থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসায় নিয়োজিত কয়েকজন ডাক্তার তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এদের মধ্যে নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) কোমরের হাড়ও ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

চক্ষু বিশেষজ্ঞ আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) সুচিকিৎসা করানো না হলে চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।’

অন্য একজন চিকিৎসক বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) প্রস্রাব, পায়খানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

আপিল শুনানির তিন দিন আগে ৫ মে খালেদা জিয়ার পাঁচজন আইনজীবী কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদেরকে তার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেন।

কারাগার থেকে বের হয়ে এসে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান সাংবাদিকদের বলেন, “ম্যাডাম বলেছেন, ‘আমি অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ- এটা কোর্টকে জানাবেন’।”

আগের দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অবশ্য বিএনপির নেত্রীর অসুস্থতার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বক্তব্যকে জামিন পেতে কৌশল হিসেবে আদালতে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, একজন চিকিৎসক খালেদা জিয়াকে নাপা ছাড়া কোনো ওষুধ দেননি। কাজেই গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি সত্য নয়।

মাহবুবে আলম সেদিন আদালতকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আবার বাইরে এসে প্রেস কনফারেন্স করেছেন। যেটা উদ্দেশ্যমূলক করেছেন। জামিন পাওয়ার জন্য এটা করেছেন।’