ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

সিনহার হিসাবে জমা চার কোটি টাকা বাড়ি বিক্রির

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন সাহা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে জমা পড়া চার কোটি টাকা বাড়ি বিক্রির অর্থ বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে জানিয়েছেন দুই ব্যবসায়ী।

রবিবার দুদক কার্যালয়ে এসে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সিনহার হিসাবে টাকা জমার বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই ব্যবসায়ী নিয়ে আসেন তাদের আইনজীবীদেরও। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে এই দুই ব্যবসায়ীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ওই দুই ব্যবসায়ীর ঢাকার উত্তরায় তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানে হয়। দুদক ওই নোটিশের সময় সাংবাদিকদের কাছে এস কে সিনহার নাম উল্লেখ না করলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির হিসাবে টাকা জমা হয়েছে এটা কথা বলা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুই ব্যবসায়ীর আইনজীবী আফাজ মাহমুদ রুবেল এবং নাজমুল আলম কথা বলেন। একজন বলেন, ‘প্রাক্তন বিচারপতির একাউন্টে জমা হওয়া চার কোটি টাকা তার বাড়ি বিক্রির অর্থ বাবদ পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।’

দুদকে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন ঋণ নেন। এরপর একই বছরের ১৬ নভেম্বর সেই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।

ওই বিষয়ে সম্প্রতি দুদকে এক ব্যক্তি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে দুদক তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

দুই ব্যবসায়ী দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় প্রায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার ছয় তলা বাড়ি ছিল। ২০১৬ সালের শুরু দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্ত্রি রায় ছয় কোটি টাকায় বাড়িটি কেনেন।

দুই আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী বায়না করার সময় সিনহাকে দুই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য শান্ত্রি সহযোগিতা নেন নিরঞ্জন ও শাহজাহানের। শান্ত্রির স্বামী রনজিতের চাচা শশুর। আর শাহজাহান রনজিতের বন্ধু।

আইনজীবীদের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালি ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার মাধ্যমে চার কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পে-অর্ডারের পরে ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শান্ত্রি রায়কে বুঝিয়ে দেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায়ে সংসদ, সংবিধান এবং শাসন ব্যবস্থা নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্যের পর সে সময়ের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে বিতর্ক উঠে।

এর মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর সিনহা এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে যান। আর পরদিন তার বিরুদ্ধে ১১টি গুরুতর অভিযোগের কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

এরপর তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো দুদক অনুসন্ধান করবে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত ১০ নভেম্বর সিনহার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

সিনহার হিসাবে জমা চার কোটি টাকা বাড়ি বিক্রির

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে জমা পড়া চার কোটি টাকা বাড়ি বিক্রির অর্থ বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে জানিয়েছেন দুই ব্যবসায়ী।

রবিবার দুদক কার্যালয়ে এসে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সিনহার হিসাবে টাকা জমার বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই ব্যবসায়ী নিয়ে আসেন তাদের আইনজীবীদেরও। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে এই দুই ব্যবসায়ীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ওই দুই ব্যবসায়ীর ঢাকার উত্তরায় তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানে হয়। দুদক ওই নোটিশের সময় সাংবাদিকদের কাছে এস কে সিনহার নাম উল্লেখ না করলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির হিসাবে টাকা জমা হয়েছে এটা কথা বলা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুই ব্যবসায়ীর আইনজীবী আফাজ মাহমুদ রুবেল এবং নাজমুল আলম কথা বলেন। একজন বলেন, ‘প্রাক্তন বিচারপতির একাউন্টে জমা হওয়া চার কোটি টাকা তার বাড়ি বিক্রির অর্থ বাবদ পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।’

দুদকে আসা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন ঋণ নেন। এরপর একই বছরের ১৬ নভেম্বর সেই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।

ওই বিষয়ে সম্প্রতি দুদকে এক ব্যক্তি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে দুদক তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

দুই ব্যবসায়ী দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় প্রায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার ছয় তলা বাড়ি ছিল। ২০১৬ সালের শুরু দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্ত্রি রায় ছয় কোটি টাকায় বাড়িটি কেনেন।

দুই আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী বায়না করার সময় সিনহাকে দুই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য শান্ত্রি সহযোগিতা নেন নিরঞ্জন ও শাহজাহানের। শান্ত্রির স্বামী রনজিতের চাচা শশুর। আর শাহজাহান রনজিতের বন্ধু।

আইনজীবীদের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালি ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার মাধ্যমে চার কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পে-অর্ডারের পরে ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শান্ত্রি রায়কে বুঝিয়ে দেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায়ে সংসদ, সংবিধান এবং শাসন ব্যবস্থা নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্যের পর সে সময়ের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে বিতর্ক উঠে।

এর মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর সিনহা এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে যান। আর পরদিন তার বিরুদ্ধে ১১টি গুরুতর অভিযোগের কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

এরপর তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো দুদক অনুসন্ধান করবে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত ১০ নভেম্বর সিনহার দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।