ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

হিন্দু-শিখ মিলে তৈরি করল মসজিদ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এতটাই চরমে উঠেছে যে সেখানে বেশ কবার তা সহিংস রূপ নিয়েছে। কিন্তু পাঞ্জাবে মুম নামের এক প্রত্যন্ত গ্রামে দেখা গেছে ভিন্ন কিছু। নাজিম রাজা খান নামে একজন মুসলিম রাজমিস্ত্রি সেখানে একটি শিবের মন্দির নির্মাণে কাজ করছিলেন।

একটা কথা তিনি প্রায়ই ভাবতেন। আর তা হল, তিনি একজন মুসলিম হয়ে হিন্দুদের জন্য মন্দির বানাচ্ছেন। অথচ তার জন্য নামাজ পড়ার কোন মসজিদ ধারে কাছে নেই। খবর বিবিসির।

৪০ বছর বয়সী নাজিম বলছিলেন, আত্মীয়রা বেড়াতে এলে তাদের জন্য বিষয়টা খুব একটা আনন্দের ছিল না। সেখানে চারশো ঘর মুসলিমের বাস। একদিন কথাটা তিনি তাদের কাছে তুললেন।

কিন্তু অর্থের অভাবে মসজিদ বানানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের বেশিরভাগই মজুর শ্রেণির। অন্যদিকে সেখানকার চার হাজার মতো শিখ ও হিন্দুদের অবস্থা তাদের চেয়ে ভালো। মন্দিরের কাজ যখন শেষ হয়ে আসছে এরকম সময়ে একদিন নাজিম হঠাৎ এক কাজ করে বসলেন।

মন্দিরের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বলে বসলেন, আপনারা হিন্দুরা শীঘ্রই একটা নতুন মন্দির পাবেন। পুরনো একটা মন্দিরও আপনাদের আছে। কিন্তু আমাদের মুসলিমদের জন্য প্রার্থনার কোন জায়গা নেই। একটা মসজিদ বানানোর টাকা বা জমি কিছুই আমাদের নেই। কিছু জমি কি আমাদের দেবেন?

সপ্তাহ-খানেক পর এই প্রশ্নের জবাব পেলেন নাজিম রাজা খান। মন্দির কর্তৃপক্ষ মসজিদের জন্য নয়শ স্কয়ার ফিট জমি দিয়ে দিলো। নাজিম রাজা বলছেন, আমি আনন্দে আত্মহারা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মুম নামের গ্রামটিতে চার হাজারের মতো শিখ রয়েছে, বাকি আটশ হিন্দু ও মুসলমান। দু ‘মাস ধরে নাজিম রাজা ও অন্য শ্রমিকরা মিলে বানালেন মসজিদ।

হিন্দু ও শিখরাও তাতে যোগ দিলেন। অর্থ দিয়ে সহায়তায় এগিয়ে এলো শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন। মসজিদ বানাতে হিন্দুদের জমি আর শিখদের টাকা দেয়া নিয়ে কোন ধর্মের কারো কোন ক্ষোভ নেই সেখানে। ভারতে হিন্দু উগ্রবাদীদের প্রসারে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সেখানে হিন্দু মুসলিম সম্পর্কে আস্থার খুব অভাব দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক দারুণ নিদর্শন হয়ে উঠেছে মুম নামের গ্রামটি। সেখানে মসজিদের গা ঘেঁষে রয়েছে হিন্দুদের শিব মন্দির আর শিখদের গুরুদুয়ারা। নাজিমের বন্ধু ভারত শর্মা নামের এক স্কুল শিক্ষক বলছেন, ভাগ্যিস আমাদের এখানে কোন রাজনীতিবিদ নেই যারা আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

হিন্দু-শিখ মিলে তৈরি করল মসজিদ

আপডেট সময় ০৬:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এতটাই চরমে উঠেছে যে সেখানে বেশ কবার তা সহিংস রূপ নিয়েছে। কিন্তু পাঞ্জাবে মুম নামের এক প্রত্যন্ত গ্রামে দেখা গেছে ভিন্ন কিছু। নাজিম রাজা খান নামে একজন মুসলিম রাজমিস্ত্রি সেখানে একটি শিবের মন্দির নির্মাণে কাজ করছিলেন।

একটা কথা তিনি প্রায়ই ভাবতেন। আর তা হল, তিনি একজন মুসলিম হয়ে হিন্দুদের জন্য মন্দির বানাচ্ছেন। অথচ তার জন্য নামাজ পড়ার কোন মসজিদ ধারে কাছে নেই। খবর বিবিসির।

৪০ বছর বয়সী নাজিম বলছিলেন, আত্মীয়রা বেড়াতে এলে তাদের জন্য বিষয়টা খুব একটা আনন্দের ছিল না। সেখানে চারশো ঘর মুসলিমের বাস। একদিন কথাটা তিনি তাদের কাছে তুললেন।

কিন্তু অর্থের অভাবে মসজিদ বানানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের বেশিরভাগই মজুর শ্রেণির। অন্যদিকে সেখানকার চার হাজার মতো শিখ ও হিন্দুদের অবস্থা তাদের চেয়ে ভালো। মন্দিরের কাজ যখন শেষ হয়ে আসছে এরকম সময়ে একদিন নাজিম হঠাৎ এক কাজ করে বসলেন।

মন্দিরের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বলে বসলেন, আপনারা হিন্দুরা শীঘ্রই একটা নতুন মন্দির পাবেন। পুরনো একটা মন্দিরও আপনাদের আছে। কিন্তু আমাদের মুসলিমদের জন্য প্রার্থনার কোন জায়গা নেই। একটা মসজিদ বানানোর টাকা বা জমি কিছুই আমাদের নেই। কিছু জমি কি আমাদের দেবেন?

সপ্তাহ-খানেক পর এই প্রশ্নের জবাব পেলেন নাজিম রাজা খান। মন্দির কর্তৃপক্ষ মসজিদের জন্য নয়শ স্কয়ার ফিট জমি দিয়ে দিলো। নাজিম রাজা বলছেন, আমি আনন্দে আত্মহারা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। মুম নামের গ্রামটিতে চার হাজারের মতো শিখ রয়েছে, বাকি আটশ হিন্দু ও মুসলমান। দু ‘মাস ধরে নাজিম রাজা ও অন্য শ্রমিকরা মিলে বানালেন মসজিদ।

হিন্দু ও শিখরাও তাতে যোগ দিলেন। অর্থ দিয়ে সহায়তায় এগিয়ে এলো শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন। মসজিদ বানাতে হিন্দুদের জমি আর শিখদের টাকা দেয়া নিয়ে কোন ধর্মের কারো কোন ক্ষোভ নেই সেখানে। ভারতে হিন্দু উগ্রবাদীদের প্রসারে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সেখানে হিন্দু মুসলিম সম্পর্কে আস্থার খুব অভাব দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক দারুণ নিদর্শন হয়ে উঠেছে মুম নামের গ্রামটি। সেখানে মসজিদের গা ঘেঁষে রয়েছে হিন্দুদের শিব মন্দির আর শিখদের গুরুদুয়ারা। নাজিমের বন্ধু ভারত শর্মা নামের এক স্কুল শিক্ষক বলছেন, ভাগ্যিস আমাদের এখানে কোন রাজনীতিবিদ নেই যারা আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করবে।