ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মোদির রাজ্যে আত্মহত্যার অনুমতি চায় ৫০০০ কৃষক

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটের পাঁচ হাজার কৃষক স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। রাজ্যসরকার কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় ভাবনগর জেলার কৃষকরা এ আবেদন করেছেন।

বুধবার স্থানীয় কৃষক নরসিংহ গোহিল বলেন, ‘এ রাজ্যের ১২ জেলার পাঁচ হাজার ২৫৯ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে; যদি জোর করে কৃষিজমি ছিনিয়ে নেয় রাজ্যসরকার এবং গুজরাট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড। তাই আমরা স্বেচ্ছামৃত্যুর রাস্তা বেছে নিয়েছি। এ বিষয়ে সব কৃষকের সই করা চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। গুজরাট খেতমজুর সমাজ সংগঠন কৃষকদের পাশে আছে।’

এ পরিস্থিতিতে এখন কৃষকদের স্বার্থ দেখা হবে নাকি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কৃষক পরিবারদের বলি দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভাবনগর জেলার কালেক্টর হর্ষদ প্যাটেল জানান, কৃষকদের পক্ষ থেকে কালেক্টরেট অফিসে চিঠি জমা দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি ইচ্ছামৃত্যু।

চিঠিতে রাজ্যসরকার ও গুজরাট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডকে দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া জমি থেকে কৃষকদের উচ্ছেদ করতে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, ২০ বছর ধরে যে জমিতে তারা চাষ করে আসছেন, তা অধিগ্রহণ করে নিতে চাইছে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা।

কৃষক নরসিংহ গোহিল জানান, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, যে জমি পাঁচ বছর ধরে অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে তা কোনো কোম্পানি অধিগ্রহণ করতে পারে না।

এ অবস্থায় অধিগ্রহণের জন্য নতুন জমি খুঁজতে হবে। কিন্তু তা না করে কৃষকদের শান্তিপূর্ণ জমায়েতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে বলে অভিযোগ করেন নরসিংহ।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে। যদি চাষ করে খেতে না পারি তার চেয়ে মৃত্যুই ভালো বলে কৃষকরা মনে করছেন। সে কথাই চিঠিতে লেখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে কৃষকরা সন্ত্রাসবাদী। তাই সেনাবাহিনীকে দিয়ে কৃষকদের ওপর গুলি চালানো হচ্ছে। এর থেকে ভালো ইচ্ছামৃত্যু। চিঠিতে সেই দাবিই করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মোদির রাজ্যে আত্মহত্যার অনুমতি চায় ৫০০০ কৃষক

আপডেট সময় ০১:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটের পাঁচ হাজার কৃষক স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। রাজ্যসরকার কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় ভাবনগর জেলার কৃষকরা এ আবেদন করেছেন।

বুধবার স্থানীয় কৃষক নরসিংহ গোহিল বলেন, ‘এ রাজ্যের ১২ জেলার পাঁচ হাজার ২৫৯ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে; যদি জোর করে কৃষিজমি ছিনিয়ে নেয় রাজ্যসরকার এবং গুজরাট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড। তাই আমরা স্বেচ্ছামৃত্যুর রাস্তা বেছে নিয়েছি। এ বিষয়ে সব কৃষকের সই করা চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। গুজরাট খেতমজুর সমাজ সংগঠন কৃষকদের পাশে আছে।’

এ পরিস্থিতিতে এখন কৃষকদের স্বার্থ দেখা হবে নাকি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কৃষক পরিবারদের বলি দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভাবনগর জেলার কালেক্টর হর্ষদ প্যাটেল জানান, কৃষকদের পক্ষ থেকে কালেক্টরেট অফিসে চিঠি জমা দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি ইচ্ছামৃত্যু।

চিঠিতে রাজ্যসরকার ও গুজরাট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডকে দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া জমি থেকে কৃষকদের উচ্ছেদ করতে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, ২০ বছর ধরে যে জমিতে তারা চাষ করে আসছেন, তা অধিগ্রহণ করে নিতে চাইছে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা।

কৃষক নরসিংহ গোহিল জানান, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, যে জমি পাঁচ বছর ধরে অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে তা কোনো কোম্পানি অধিগ্রহণ করতে পারে না।

এ অবস্থায় অধিগ্রহণের জন্য নতুন জমি খুঁজতে হবে। কিন্তু তা না করে কৃষকদের শান্তিপূর্ণ জমায়েতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে বলে অভিযোগ করেন নরসিংহ।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে। যদি চাষ করে খেতে না পারি তার চেয়ে মৃত্যুই ভালো বলে কৃষকরা মনে করছেন। সে কথাই চিঠিতে লেখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে কৃষকরা সন্ত্রাসবাদী। তাই সেনাবাহিনীকে দিয়ে কৃষকদের ওপর গুলি চালানো হচ্ছে। এর থেকে ভালো ইচ্ছামৃত্যু। চিঠিতে সেই দাবিই করা হয়েছে।