ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী এবার ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বিদেশ পাচার হয়েছে: মঈন খান দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রমাণ ছাড়া প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার: শিক্ষামন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে চীন ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে থাকবে : হুমায়ুন কবির গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল নারী ও শিশু নির্যাতনকারী ‘সমাজের শত্রু’: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ব্যাংক চোরদের বিচার হয় না কেন: এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট হয়ে গেলেও এর কোনো বিচার হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বলেছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা যারা ব্যাংক থেকে লুটে নিচ্ছে তাদের বিচার হচ্ছে না, অথচ সামান্য টাকার জন্য কৃষকদের হয়রানি করা হয়।

বর্তমান সরকারের আমলে আর্থিক খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত বলেন, ‘মানুষের নিঃশ্বাস আজ বন্ধ হয়ে আসছেন। শেয়ার বাজার নাই। শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। আরেকটি ঘটনা, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হয়ে গেছে, পৃথিবীতে আর কোথাও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে না। মানুষ আমাকে স্বৈরাচার বলে না। স্বৈরাচার বলেন আপনারা (আওয়ামী লীগ-বিএনপি)।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন তো আর নির্বাচন হয় না, হয় সিলমারা। আমরা তো আর সিল মারতে পারি না। তাই সিলমারা বন্ধ করার জন্য শক্তি অর্জন করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সরব থাকতে হবে সিলমারা বন্ধ করার জন্য।’

শিক্ষাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে এরশাদ বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা নাই, শিক্ষাব্যবস্থা পচে গেছে। একজন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভালোভাবে নিজের নামও লিখতে পারবে না। তাহলে এই জিপিএ-৫ দিয়ে কী হবে।’

ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামের মতো দেশের আরও ছয়টি বিভাগকে প্রদেশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

প্রদেশ ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ ১৬ কোটি মানুষকে শাসন করবে তা হবে না। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন রীতি নেই। আমি ক্ষমতায় গেলে সাতটি প্রদেশ করে দেশ পরিচালনা করবো।’ এছাড়া তিনি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী করবেন বলেও ঘোষণা দেন।

সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের বেশির ভাগ উন্নয়ন আমার আমলে হয়েছে। চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ আমি নির্মাণ করেছি। শিপিং করপোরেশন আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু আমার আমলে হয়েছে।

চট্টগ্রামে চা বোর্ড আমি এনেছি। রাউজানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছি। সিইউএফএল আমি নির্মাণ করি। কাফকো আমার আমলে হয়েছে।’

চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি নিবেদিত প্রাণ উল্লেখ করে আাগামীতে লাঙ্গল ও মোমবাতিতে ভোট দিতে আহ্বান জানান জোট প্রধান।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব ও জোটের শীর্ষনেতা মাওলানা এমএ মতিন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

এছাড়াও মহাসমাবেশের আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সউম আবদুস সামাদ, ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লাম মছিহুদ্দৌলা, মুফতি ছাদেকুর রহমান, আহমদ হোসাইন আলকাদেরী, আবু সুফিয়ান আল কাদেরী, এমপি মাহজাবিন মোরশেদ, সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম, মাস্টার শামসুল আলম, নুরুচ্ছফা সরকার, এয়াকুব হোসেন, ইসলামী ফ্রন্ট নেতা অধ্যক্ষ তৈয়ব আলী, মাস্টার আবুল হোসেন প্রমূখ বক্তব্য দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান

ব্যাংক চোরদের বিচার হয় না কেন: এরশাদ

আপডেট সময় ০৯:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট হয়ে গেলেও এর কোনো বিচার হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বলেছেন, হাজার হাজার কোটি টাকা যারা ব্যাংক থেকে লুটে নিচ্ছে তাদের বিচার হচ্ছে না, অথচ সামান্য টাকার জন্য কৃষকদের হয়রানি করা হয়।

বর্তমান সরকারের আমলে আর্থিক খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত বলেন, ‘মানুষের নিঃশ্বাস আজ বন্ধ হয়ে আসছেন। শেয়ার বাজার নাই। শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। আরেকটি ঘটনা, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হয়ে গেছে, পৃথিবীতে আর কোথাও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। এভাবে মানুষ বাঁচতে পারে না। মানুষ আমাকে স্বৈরাচার বলে না। স্বৈরাচার বলেন আপনারা (আওয়ামী লীগ-বিএনপি)।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন তো আর নির্বাচন হয় না, হয় সিলমারা। আমরা তো আর সিল মারতে পারি না। তাই সিলমারা বন্ধ করার জন্য শক্তি অর্জন করতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সরব থাকতে হবে সিলমারা বন্ধ করার জন্য।’

শিক্ষাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে এরশাদ বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা নাই, শিক্ষাব্যবস্থা পচে গেছে। একজন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভালোভাবে নিজের নামও লিখতে পারবে না। তাহলে এই জিপিএ-৫ দিয়ে কী হবে।’

ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামের মতো দেশের আরও ছয়টি বিভাগকে প্রদেশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

প্রদেশ ঘোষণার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ ১৬ কোটি মানুষকে শাসন করবে তা হবে না। পৃথিবীর কোনো দেশে এমন রীতি নেই। আমি ক্ষমতায় গেলে সাতটি প্রদেশ করে দেশ পরিচালনা করবো।’ এছাড়া তিনি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী করবেন বলেও ঘোষণা দেন।

সমাবেশে চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের বেশির ভাগ উন্নয়ন আমার আমলে হয়েছে। চট্টগ্রামে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ আমি নির্মাণ করেছি। শিপিং করপোরেশন আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। দ্বিতীয় কর্ণফুলী সেতু আমার আমলে হয়েছে।

চট্টগ্রামে চা বোর্ড আমি এনেছি। রাউজানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছি। সিইউএফএল আমি নির্মাণ করি। কাফকো আমার আমলে হয়েছে।’

চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি নিবেদিত প্রাণ উল্লেখ করে আাগামীতে লাঙ্গল ও মোমবাতিতে ভোট দিতে আহ্বান জানান জোট প্রধান।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব ও জোটের শীর্ষনেতা মাওলানা এমএ মতিন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

এছাড়াও মহাসমাবেশের আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সউম আবদুস সামাদ, ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লাম মছিহুদ্দৌলা, মুফতি ছাদেকুর রহমান, আহমদ হোসাইন আলকাদেরী, আবু সুফিয়ান আল কাদেরী, এমপি মাহজাবিন মোরশেদ, সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম, মাস্টার শামসুল আলম, নুরুচ্ছফা সরকার, এয়াকুব হোসেন, ইসলামী ফ্রন্ট নেতা অধ্যক্ষ তৈয়ব আলী, মাস্টার আবুল হোসেন প্রমূখ বক্তব্য দেন।