ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জোটে হোন্ডা পার্টি, টেম্পু পার্টি কেন: বিএনপিকে এলডিপি নেতা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যেনতেন দল নিয়ে জোট করায় আর জোটে নতুন দল যুক্ত করার উদ্যোগে বিএনপির তীব্র সমালোচনা করলেন শরিক দল এলডিপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। ‘হোন্ডা পার্টি’ আর ‘টেম্পো পার্টি’র আধুলি ও সিকি নেতার সঙ্গে বসতে হয় বলেও ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীতে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর) সম্মেলনে এই ক্ষোভ ঝাড়েন এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপির শরিক কল্যাণ পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম, এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ এবং বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফাও বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, বিএনিপ তাদেরকে ‘যথাযথ সম্মান’ এবং ‘মূল্যায়ন’ করছে না। তবে সেলিমের বক্তব্য ছিল বেশি ঝাঁঝাল।

১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্যজোটকে নিয়ে গঠন করা হয় চারদলীয় জোট। পরে ২০১২ সালে জোটের আকার বেড়ে প্রথমে হয় ১৮ এবং সবশেষে শরিক দলের সংখ্যা হয় ২০টি।

তবে ২০ দলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন আছে কেবল আটটির। আর এসব আটটি দলের মধ্যে এলডিপি ও হাতে গোনা দুই একটির কার্যক্রম আছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলায়। আর একাধিক আসনে এককভাবে ভোটে লড়ে বলার মতো মতো ভোট আছে কেবল এলডিপির।

এর মধ্যে বিএনপি আরও নতুন দল অন্তর্ভুক্ত করে জোটের আবার আবারও বাড়াতে চাইছে। কিন্তু এলডিপি নেতা সেলিম সরাসরিই তার আপত্তি জানিয়ে দিলেন। আর জোট বৃদ্ধির এই উদ্যোগকে পাগলামো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বরং অনিবন্ধিত দলকে ছেঁটে ফেলার দাবি জানান সেলিম। ২০ দলকে সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আগাছা, পরগাছাকে উপড়ে ফেলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে নিলে আপত্তি নেই। তবে কয়েকটি দল আছে যাদের সভাপতি, মহাসচিব ওই একই নেতা। কর্মিসভার মিটিং ডাকলেও এক নেতা। এভাবে জোটের সংখ্যা বাড়াতে বাড়াতে কখন ৩০, ৩৩ দল হবে এটা মনে করে আমরা পাগলামি।’

এসব ছোটখাটো দলের নেতাদের সঙ্গে এলডিপি নেতা অলি আহমেদকে বসতে হয় বলেও নাখোশ এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। বলেন, ‘হোন্ডা পার্টি, টেম্পু পার্টি, আধুলি নেতা, সিকি নেতা- এদেরকে এনে আপনারা কর্নেল অলির (এলডিপি চেয়ারম্যান) পাশে বসাবেন, এসব পাগলামি ছাড়েন।’

চলতি এপ্রিলের মধ্যে জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টনের দাবি জানিয়ে এই আলোচনায় অনিবন্ধিত এসব দলকে না রাখারও দাবি জানান সেলিম। বলেন, ‘আলোচনায় ছয়বারের সংসদ সদস্য থাকবেন, আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য নন তিনিও থাকবেন, এভাবে নির্বাচনী আলোচনা হবে না।’

বিএনপি তিনশ আসনে নয়শ প্রার্থী দেয়ার ক্ষমতা রাখলে এলডিপি তিনশ আসনে ছয়শ প্রার্থী দেয়ার ক্ষমতা রাখে বলেও জানিয়ে দেন সেলিম।

জোটে যেসব নিবন্ধিত দল আছে সেগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলডিপির মূল্যায়নেরও দাবি জানান সেলিম। বলেন,

‘আমরা এও মনে করি, জোটের মধ্যে নিবন্ধিত দল আটটি। বাকিরা অনিবন্ধিত। আবার এই আটটির মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা গত পাঁচ বছরে একটি মানববন্ধনও করেনি।’

‘এলডিপি নিবন্ধিত দলের মধ্যে এক নম্বর দল। ৪০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে একমাত্র এলডিপির সভাপতি ও মহাসচিব রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা। অন্য কোনো দলে নেই।’

‘জোটের শরিক হিসেবে আমরা যে ভাষায় টকশোতে কথা বলি, বিএনপির অনেক নেতাও সেই ভাষায় কথা বলেন না। আমরা আন্দোলনের পরীক্ষায়ও পাস করেছি।’

নামকওয়াস্তে দলকে জোটে রেখে কোনো ফায়দা হচ্ছে না বলেও মনে করেন সেলিম। বলেন. ‘যখন যেসব দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে ভুলে যায় তাদের মতামতে কর্মসূচি ঠিক করা হলে এই জোট কতটা কার্যকর হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নমনীয় কর্মসূচি দেয়ার জন্যও বিএনপির সমালোচনা করেন এলডিপি নেতা। বলেন, ‘আমরা মনে করি বর্তমানে যে সহনীয় আন্দোলন করা হচ্ছে এটাকে দুর্বার আন্দোলনে পরিণত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

বেগম খালেদা জিয়া ‘মিথ্যা মামলায়’ কারাগারে আছেন দাবি করে সেলিম বলেন, ‘এটাও মনে করি, এর জন্য বিএনপির ব্যর্থতা দায়ী। তার মুক্তির জন্য বিএনপি এবং তাদের নেতারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি।’

ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়াও বিএনপির ‘অহিংস’ আন্দোলনের সমালোচনা করেন। বলেন, ‘যে অহিংস গান্ধিবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা করছি, এটা সম্ভব হবে, এটা অন্য কেউ বিশ্বাস করলেও আমি বিশ্বাস করি না। তাকে মুক্ত করতে হলে জোটকে কার্যকর করতে হবে।’

এই আলোচনায় এলডিপি নেতা অলি আহমেদ বক্তব্য রাখলেও তিনি ২০ দলীয় জোট নিয়ে অন্য নেতাদের মতো কোনো ক্ষোভ ঝাড়েননি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

জোটে হোন্ডা পার্টি, টেম্পু পার্টি কেন: বিএনপিকে এলডিপি নেতা

আপডেট সময় ০৯:৪০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যেনতেন দল নিয়ে জোট করায় আর জোটে নতুন দল যুক্ত করার উদ্যোগে বিএনপির তীব্র সমালোচনা করলেন শরিক দল এলডিপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। ‘হোন্ডা পার্টি’ আর ‘টেম্পো পার্টি’র আধুলি ও সিকি নেতার সঙ্গে বসতে হয় বলেও ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীতে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর) সম্মেলনে এই ক্ষোভ ঝাড়েন এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপির শরিক কল্যাণ পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম, এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ এবং বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফাও বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, বিএনিপ তাদেরকে ‘যথাযথ সম্মান’ এবং ‘মূল্যায়ন’ করছে না। তবে সেলিমের বক্তব্য ছিল বেশি ঝাঁঝাল।

১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি এবং ইসলামী ঐক্যজোটকে নিয়ে গঠন করা হয় চারদলীয় জোট। পরে ২০১২ সালে জোটের আকার বেড়ে প্রথমে হয় ১৮ এবং সবশেষে শরিক দলের সংখ্যা হয় ২০টি।

তবে ২০ দলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন আছে কেবল আটটির। আর এসব আটটি দলের মধ্যে এলডিপি ও হাতে গোনা দুই একটির কার্যক্রম আছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলায়। আর একাধিক আসনে এককভাবে ভোটে লড়ে বলার মতো মতো ভোট আছে কেবল এলডিপির।

এর মধ্যে বিএনপি আরও নতুন দল অন্তর্ভুক্ত করে জোটের আবার আবারও বাড়াতে চাইছে। কিন্তু এলডিপি নেতা সেলিম সরাসরিই তার আপত্তি জানিয়ে দিলেন। আর জোট বৃদ্ধির এই উদ্যোগকে পাগলামো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বরং অনিবন্ধিত দলকে ছেঁটে ফেলার দাবি জানান সেলিম। ২০ দলকে সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আগাছা, পরগাছাকে উপড়ে ফেলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে নিলে আপত্তি নেই। তবে কয়েকটি দল আছে যাদের সভাপতি, মহাসচিব ওই একই নেতা। কর্মিসভার মিটিং ডাকলেও এক নেতা। এভাবে জোটের সংখ্যা বাড়াতে বাড়াতে কখন ৩০, ৩৩ দল হবে এটা মনে করে আমরা পাগলামি।’

এসব ছোটখাটো দলের নেতাদের সঙ্গে এলডিপি নেতা অলি আহমেদকে বসতে হয় বলেও নাখোশ এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। বলেন, ‘হোন্ডা পার্টি, টেম্পু পার্টি, আধুলি নেতা, সিকি নেতা- এদেরকে এনে আপনারা কর্নেল অলির (এলডিপি চেয়ারম্যান) পাশে বসাবেন, এসব পাগলামি ছাড়েন।’

চলতি এপ্রিলের মধ্যে জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টনের দাবি জানিয়ে এই আলোচনায় অনিবন্ধিত এসব দলকে না রাখারও দাবি জানান সেলিম। বলেন, ‘আলোচনায় ছয়বারের সংসদ সদস্য থাকবেন, আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্য নন তিনিও থাকবেন, এভাবে নির্বাচনী আলোচনা হবে না।’

বিএনপি তিনশ আসনে নয়শ প্রার্থী দেয়ার ক্ষমতা রাখলে এলডিপি তিনশ আসনে ছয়শ প্রার্থী দেয়ার ক্ষমতা রাখে বলেও জানিয়ে দেন সেলিম।

জোটে যেসব নিবন্ধিত দল আছে সেগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলডিপির মূল্যায়নেরও দাবি জানান সেলিম। বলেন,

‘আমরা এও মনে করি, জোটের মধ্যে নিবন্ধিত দল আটটি। বাকিরা অনিবন্ধিত। আবার এই আটটির মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা গত পাঁচ বছরে একটি মানববন্ধনও করেনি।’

‘এলডিপি নিবন্ধিত দলের মধ্যে এক নম্বর দল। ৪০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে একমাত্র এলডিপির সভাপতি ও মহাসচিব রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা। অন্য কোনো দলে নেই।’

‘জোটের শরিক হিসেবে আমরা যে ভাষায় টকশোতে কথা বলি, বিএনপির অনেক নেতাও সেই ভাষায় কথা বলেন না। আমরা আন্দোলনের পরীক্ষায়ও পাস করেছি।’

নামকওয়াস্তে দলকে জোটে রেখে কোনো ফায়দা হচ্ছে না বলেও মনে করেন সেলিম। বলেন. ‘যখন যেসব দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে ভুলে যায় তাদের মতামতে কর্মসূচি ঠিক করা হলে এই জোট কতটা কার্যকর হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নমনীয় কর্মসূচি দেয়ার জন্যও বিএনপির সমালোচনা করেন এলডিপি নেতা। বলেন, ‘আমরা মনে করি বর্তমানে যে সহনীয় আন্দোলন করা হচ্ছে এটাকে দুর্বার আন্দোলনে পরিণত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

বেগম খালেদা জিয়া ‘মিথ্যা মামলায়’ কারাগারে আছেন দাবি করে সেলিম বলেন, ‘এটাও মনে করি, এর জন্য বিএনপির ব্যর্থতা দায়ী। তার মুক্তির জন্য বিএনপি এবং তাদের নেতারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি।’

ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়াও বিএনপির ‘অহিংস’ আন্দোলনের সমালোচনা করেন। বলেন, ‘যে অহিংস গান্ধিবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা করছি, এটা সম্ভব হবে, এটা অন্য কেউ বিশ্বাস করলেও আমি বিশ্বাস করি না। তাকে মুক্ত করতে হলে জোটকে কার্যকর করতে হবে।’

এই আলোচনায় এলডিপি নেতা অলি আহমেদ বক্তব্য রাখলেও তিনি ২০ দলীয় জোট নিয়ে অন্য নেতাদের মতো কোনো ক্ষোভ ঝাড়েননি।