ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানব রচিত আইন এ বাংলায় চলতে দেওয়া হবে না: চরমোনাইর পীর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আগামী বছরের মধ্যে গোটা রাখাইন দখলের ঘোষণা আরাকান আর্মির অবরোধ ভাঙতে চাইলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ নতুন সাংবিধানিক সংকটে পড়বে:শিশির মনির সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক খোলা চিঠিতে ‘বিদায়ের বার্তা’ দিলেন মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার

ছয় দেশের রাশিয়া বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

২০১৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপের ২১তম আসর বসবে রাশিয়াতে। সেই লক্ষ্যে রাশিয়ায় চলছে জোড় প্রস্তুতি। কিন্তু ইতিমধ্যেই রাশিয়া বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে ছয় দেশ। এই ছয়টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলে‌ও সেদেশের কর্মকর্তারা বিশ্বকাপে কর্মকর্তাদের পাঠাবে না বলে জানায়। সোজা ভাষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপ বয়কট করবে তারা। এই ছয়টি দেশ হলো- ব্রিটেন, আইসল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান।

যুক্তরাজ্য বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত কূটনৈতিক কারণে। আর বাকি দেশগুলো যুক্তরাজ্যের পাশে দাড়িয়েছে আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে। লন্ডনের পক্ষ নিয়ে দেশে দেশে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার চলতে থাকার মধ্যে একে একে আসছে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও।

ঘটনার শুরুটা চলতি মার্চ মাসের ৪ তারিখে স্যালিসবারিতে প্রাক্তন রাশিয়ান গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল ‌ও তার কন্যার উপর নার্ভ গ্যাস দিয়ে আক্রমণ হয়। আর অভিযোগ ওঠে রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিসের দিকে। এরপর থেকেই ব্রিটিশ কূটনীতিকরা কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।

এর অবশ্য অনেক কারণও আছে। সাবেক রাশিয়ান গোয়েন্দা ছিলেন সের্গেই স্ক্রিপাল। পরে তিনি পরিবারসহ পালিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং ইংল্যান্ড সরকারের ভকাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। এরপর রাশিয়ার গোয়েন্দা হওয়ার কারণে খুব সহজেই ব্রিটিশ ইনটেলিজেন্স এমআইফাইভের হয়ে ডাবল এজেন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বিষয়টি জানতে পারার পর তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিস।

এই ঘটনার পর থেকেই চলছে রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্য ও এর মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কূটনীতিককে বহিষ্কার যুদ্ধ। ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্য থেকে ২৩ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাজ্য সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া থেকেও ২৩ জন বৃটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে রুশ কর্তৃপক্ষ। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে একশোরও বেশী রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে সেসব দেশের সরকার। সবচেয়ে বেশী ৬০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র।শুক্রবার ১৭০ জন রুশ কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ওয়াশিংটন ছাড়েন।

আর তাই সব মিলিয়ে রাশিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অভিযোগ করেছেন। পশ্চিমারা চায়না রাশিয়া বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করুক। আর তাই বিশ্বকাপ বানচাল করতে চাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা।

একটি রুশ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, তাদের “মূল উদ্দেশ্য রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেয়া। জাখারোভা আরও বলেন, `আমার মনে হয় তারা রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নিতে চায়। রাশিয়া থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ অন্যত্র সরিয়ে নিতে তারা যে কোনো পন্থা অবলম্বন করবে ।`

অনেকেই মনে করছেন কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার বেড়া জালে আবদ্ধ থেকে দলগুলো অংশগ্রহন না করে, তাহলে সেটা হবে বিশ্বকাপের জন্য কলঙ্ক। সেটা হলে বিশ্বে ক্রমেই শক্তিশালী শক্তি হিসেবে পুনরায় মাথাচাড়া ওঠা রাশিয়া নিমিষেই মাটিতে পরবে।

কিন্তু এসব না হয় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়। খেলার মাধ্যমে দেশ-জাতি সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তাই ফুটবলের সঙ্গে এভাবে রাজনীতি মেশানো কতটা যৌক্তিক- এই প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমিদের মনে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বেলুনের ভেতরেই চলছে নির্মাণকাজ, ধুলা-শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন প্রযুক্তি

ছয় দেশের রাশিয়া বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি

আপডেট সময় ০৯:১৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

২০১৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপের ২১তম আসর বসবে রাশিয়াতে। সেই লক্ষ্যে রাশিয়ায় চলছে জোড় প্রস্তুতি। কিন্তু ইতিমধ্যেই রাশিয়া বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে ছয় দেশ। এই ছয়টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলে‌ও সেদেশের কর্মকর্তারা বিশ্বকাপে কর্মকর্তাদের পাঠাবে না বলে জানায়। সোজা ভাষায় রাষ্ট্রীয়ভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপ বয়কট করবে তারা। এই ছয়টি দেশ হলো- ব্রিটেন, আইসল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান।

যুক্তরাজ্য বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত কূটনৈতিক কারণে। আর বাকি দেশগুলো যুক্তরাজ্যের পাশে দাড়িয়েছে আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে। লন্ডনের পক্ষ নিয়ে দেশে দেশে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার চলতে থাকার মধ্যে একে একে আসছে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও।

ঘটনার শুরুটা চলতি মার্চ মাসের ৪ তারিখে স্যালিসবারিতে প্রাক্তন রাশিয়ান গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল ‌ও তার কন্যার উপর নার্ভ গ্যাস দিয়ে আক্রমণ হয়। আর অভিযোগ ওঠে রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিসের দিকে। এরপর থেকেই ব্রিটিশ কূটনীতিকরা কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে।

এর অবশ্য অনেক কারণও আছে। সাবেক রাশিয়ান গোয়েন্দা ছিলেন সের্গেই স্ক্রিপাল। পরে তিনি পরিবারসহ পালিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং ইংল্যান্ড সরকারের ভকাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। এরপর রাশিয়ার গোয়েন্দা হওয়ার কারণে খুব সহজেই ব্রিটিশ ইনটেলিজেন্স এমআইফাইভের হয়ে ডাবল এজেন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বিষয়টি জানতে পারার পর তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিস।

এই ঘটনার পর থেকেই চলছে রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্য ও এর মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কূটনীতিককে বহিষ্কার যুদ্ধ। ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্য থেকে ২৩ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাজ্য সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া থেকেও ২৩ জন বৃটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে রুশ কর্তৃপক্ষ। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে একশোরও বেশী রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে সেসব দেশের সরকার। সবচেয়ে বেশী ৬০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র।শুক্রবার ১৭০ জন রুশ কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ওয়াশিংটন ছাড়েন।

আর তাই সব মিলিয়ে রাশিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা অভিযোগ করেছেন। পশ্চিমারা চায়না রাশিয়া বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করুক। আর তাই বিশ্বকাপ বানচাল করতে চাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা।

একটি রুশ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, তাদের “মূল উদ্দেশ্য রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেয়া। জাখারোভা আরও বলেন, `আমার মনে হয় তারা রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নিতে চায়। রাশিয়া থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ অন্যত্র সরিয়ে নিতে তারা যে কোনো পন্থা অবলম্বন করবে ।`

অনেকেই মনে করছেন কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার বেড়া জালে আবদ্ধ থেকে দলগুলো অংশগ্রহন না করে, তাহলে সেটা হবে বিশ্বকাপের জন্য কলঙ্ক। সেটা হলে বিশ্বে ক্রমেই শক্তিশালী শক্তি হিসেবে পুনরায় মাথাচাড়া ওঠা রাশিয়া নিমিষেই মাটিতে পরবে।

কিন্তু এসব না হয় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়। খেলার মাধ্যমে দেশ-জাতি সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তাই ফুটবলের সঙ্গে এভাবে রাজনীতি মেশানো কতটা যৌক্তিক- এই প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমিদের মনে।