অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশের গণমাধ্যম ‘মূল জায়গায়’ না গিয়ে অন্য বিষয় খুঁজে বেড়ায় বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিভিন্ন দোকানে লিফলেট বিতরণকালে এক প্রশ্নের জবাবে তার এই মনোভাব জানান ফখরুল।
সম্প্রতি রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব বলেছিলেন, জ্যেষ্ঠ নেতারা দল ছাড়তে পারেন কিন্তু মাঠের নেতাকর্মীরা দল ছাড়বে না। ফখরুলের কাছে এই বক্তব্যের মানে জানতে চেয়েছিলেন একজনগণমাধ্যম কর্মী। এরপর তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।
প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতির মাঠে রাজনৈতিক নেতারা অনেক কথাই বলেন। বাংলাদেশের মিডিয়ার একটি প্রবণতা রয়েছে, আমরা মূল জায়গায় না গিয়ে এসব বিষয় খুঁজে বেড়ায়। আর আজকে আমাদের মূল বিষয় দেশে গণতন্ত্র নাই। আমাদের অধিকার নেই। আপনাদের (মিডিয়ার) সবকিছু লেখার এবং বলার অধিকার নেই। সুতরাং, সেই জায়গাগুলোতে আমাদের যাওয়া উচিত। আমাদের সেই চেষ্টা করা উচিত।’
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের আগে থেকেই বিএনপিতে ভাঙনের আশঙ্কা নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে। দলের নেতারা অভিযোগ করছেন, সরকার দলের নেতাদের একাংশকে প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভাঙন ধরাতে চাইছে। রায়ের পাঁচ দিন আগে দলের নির্বাহী কমিটির সভায় খালেদা জিয়াও যে কোনো মূল্যে দল ঐক্যবদ্ধ রাখার তাগাদা দিয়ে বলেছিলেন ‘বেইমানদের’ ওপর নজর রাখছেন তিনি।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাদের দলে যোগ দিতে চায়। একই দিন ফখরুল এই কথার জবাব দেন ‘রাবিশ’বলে।
লিফলেট বিতরণ শেষে খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই মুক্ত করার প্রত্যয়ের কথা বলেন ফখরুল।বলেন, ‘আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আমরা সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’
‘গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে এই অবৈধ সরকারের যে নীল-নকশা এবং নীল প্রচেষ্টা করছে, সেটাও আমরা পরাস্ত করতে সক্ষম হব।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমাদের সিনিয়র নেতাদের যৌথসভা আছে, সেই সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিষয়ে মিডিয়ার আরও বেশি জানা দরকার বলে মনে করেন ফখরুল।সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, বিএনপি এ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। জাতি জেনেছে কী হচ্ছে।
নৌকায় ভোট চাওয়া রাজনৈতিক অধিকার— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাজনৈতিক অধিকার আমাদের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন আরপিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটা সব রাজনৈতিক দলের জন্য। কিন্তু বিষয়টা তো হচ্ছে, তাঁরা সরকারি টাকা খরচ করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আর কেউ করতে পারবে না, কাউকে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না, এটা কখনো মেনে নেওয়া যেতে পারে না।’
বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সারা দেশে কয়েক দিন ধরে চলবে বলে জানান ফখরুল। এরপরে তাঁরা অন্যান্য কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও জানান।
নয়াপল্টনে বিএনপি মহাসচিবের সাথে লিফলেট বিতরণে অংশ নেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।
লিফলেট বিতরণে ‘বাধার মুখে’ মোশাররফ
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মহাখালীতে লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতার।
মোশাররফ বলেন, ‘আমরা যখন মহাখালীতে লিফলেট বিতরণ শুরু করি, সেই সময় পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। ওই সময় আমাদের বেশ কয়েক জন নেতাকর্মীদের আটক করে পুলিশ। আর সেখান থেকে আমি চলে আসার পরে শুনেছি, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনারকে পুলিশ আটক করেছে।’
এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান উত্তরার আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট মিরপুরে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মিরপুর কাজীপাড়ায় এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পল্লবীতে জয়নাল আবদীন ফারুক লিফলেট বিতরণ করেন।
গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















