ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ফারিয়ার পটাকা ফাটল বলে!

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

রেডিও জকি, উপস্থাপনা, এরপর অভিনয়—মোটা দাগে সবখানেই সফল। তবে নিজের নামের সঙ্গে যেন আরো কিছু যুক্ত করতে মরিয়া ফারিয়া। তাই ফের বাঁকবদল, এবার নায়িকা থেকে গায়িকা। ঘটনাটা অবশ্য হালে জেনেছে মানুষ। ‘এপ্রিলে মুক্তি পাচ্ছে আমার গাওয়া প্রথম গানের ভিডিও। কাজটা কিন্তু গোপনে গোপনে করছিলাম। সবাই জেনেছে অল্প কিছুদিন হলো। তার পর থেকেই অনেক ফোন পাচ্ছি। এটা ভালো লাগছে যে সবাই অপেক্ষা করছে ফারিয়া কেমন গাইবে সেটা শুনতে। একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে সবার জন্য,’ বললেন তিনি। কিন্তু সবার চোখ-কান ফাঁকি দিয়ে এত দূর! ‘গায়িকা’ বললেন, ‘ছয় মাস ধরেই কাজ চলছিল। এরই মধ্যে গানটির রেকর্ড করে ফেলেছি। ভিডিওর শুট শেষ। এত দিন যে কথাটা চেপে রেখেছি, এতে কিন্তু আমারও বেশ কষ্ট হয়েছে।’ সে না হয় বোঝা গেল, কিন্তু গায়িকা বনে যাওয়াটা তো মুখের কথা না! কত দিন ধরে চলছিল প্রস্তুতি? ‘গানটা যে আমাকে দিয়ে সম্ভব, সেটা প্রথম বুঝতে পারি উপস্থাপনায় গিয়ে। যখন উপস্থাপনা করতাম, তখন মাঝেমধ্যে দু-এক লাইন গাইতাম। কোনো একটা গানের সুর যখন নিজের মধ্যে নিতে পারতাম, ভালোই লাগত। মনে হতো, তৃপ্তি পাচ্ছি।’

গান নিয়ে কতটা সিরিয়াস সেটা বোঝাতে একটা উদাহরণও দিলেন, “দেখা যেত কোন একটা জনপ্রিয় গান গুনগুন করছি, কিন্তু দুই লাইনের পর আর পারছি না। খুব খারাপ লাগত। তখন নিজে নিজে আবার সেটা শিখতে চাইতাম। এভাবে কিছু গান শেখাও হয়েছে। ২০১২ সালে কণা আপুর (গায়িকা) সঙ্গে প্রথম দেখা। আপুর সামনে সেদিন ‘অনেক সাধনার পরে’ গেয়েছিলাম। তিনি বেশ প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, একটু ঘষামাজা করলে বেশ হবে। এর পর তো কথায় কথায়, উপস্থাপনায়, সিনেমার প্রমোশনে দু-চার লাইন গেয়েছি, কেউ খারাপ বলেনি। সেখান থেকেই সাহসটা পেয়েছি।”

ফারিয়ার গানটির নাম ‘পটাকা’। লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল। সংগীত পরিচালনায় প্রীতম হাসান। কোরিওগ্রাফার টালিগঞ্জ ও বলিউডে কাজ করা বাবা যাদব। শুটিং হয়েছে মুম্বাইয়ের ফোগা এলাকায়, যেখানে বলিউড সিনেমার শুটিংও হয়।

তা কেমন গান এই ‘পটাকা’? ‘নারীদের নিয়ে গান। জীবনে আমি যে বাধাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি এবং যেভাবে বাধা পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছি, তা-ই বলার চেষ্টা করেছি গানে। আমি চাই আমার গান নিপীড়িত, পিছিয়ে থাকা নারীদের সাহসী করে তুলুক।’ ফারিয়া চাইলে তো সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিতে পারতেন। আলিয়া ভাট থেকে শ্রদ্ধা কাপুর—আজকাল নায়িকাদের তো হামেশাই নিজেদের ছবিতে গাইতে দেখা যায়। ‘সিনেমায় গাওয়ার সুযোগ নিতে চাইনি। চাওয়া ছিল নিজের মতো করে একটা গান করা। সিনেমার গানে তো সেই চরিত্রের কথা বলতে হয়। চিত্রনাট্য অনুযায়ী সংলাপ বলতে হয়; নিজের কোনো কথা চাইলেই বলা যায় না,’ বললেন ফারিয়া।

গানের নাম ‘পটাকা’ কেন? ব্যাখ্যা দিলেন সেটারও, ‘পটাকার মানে এর মধ্যে আগুন আছে। কখন বিস্ফোরিত হবে কেউ জানে না। আমার মনে হয়, প্রত্যেক মেয়ের মধ্যে এমন কিছু বিষয় আছে।’ এই গান থেকে পাওয়া লাভের একটা বড় অংশ মেয়েদের স্কুলে দেবেন বলেও জানালেন অভিনেত্রী।

গায়িকা ফারিয়ার যাত্রা কি এক ‘পটাকা’ দিয়েই শেষ? নাকি সামনেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে? ‘আগেই বলেছি, আমি যে প্ল্যাটফর্মে কাজ করি, সেখানে আসলে স্ক্রিপ্টের ওপর চলতে হয়। কিন্তু স্বাধীনভাবে একটা গানে অনেক কিছুই প্রকাশ করা সম্ভব। গানটা কতটা ভালো হয়েছে বা কী হয়েছে তার গ্যারান্টি দেব না, তবে বলব, আমি চেষ্টা করেছি। এভাবে সামনে আরো কিছু হবে,’ আত্মবিশ্বাসী শোনাল ফারিয়ার কণ্ঠ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফারিয়ার পটাকা ফাটল বলে!

আপডেট সময় ১০:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

রেডিও জকি, উপস্থাপনা, এরপর অভিনয়—মোটা দাগে সবখানেই সফল। তবে নিজের নামের সঙ্গে যেন আরো কিছু যুক্ত করতে মরিয়া ফারিয়া। তাই ফের বাঁকবদল, এবার নায়িকা থেকে গায়িকা। ঘটনাটা অবশ্য হালে জেনেছে মানুষ। ‘এপ্রিলে মুক্তি পাচ্ছে আমার গাওয়া প্রথম গানের ভিডিও। কাজটা কিন্তু গোপনে গোপনে করছিলাম। সবাই জেনেছে অল্প কিছুদিন হলো। তার পর থেকেই অনেক ফোন পাচ্ছি। এটা ভালো লাগছে যে সবাই অপেক্ষা করছে ফারিয়া কেমন গাইবে সেটা শুনতে। একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে সবার জন্য,’ বললেন তিনি। কিন্তু সবার চোখ-কান ফাঁকি দিয়ে এত দূর! ‘গায়িকা’ বললেন, ‘ছয় মাস ধরেই কাজ চলছিল। এরই মধ্যে গানটির রেকর্ড করে ফেলেছি। ভিডিওর শুট শেষ। এত দিন যে কথাটা চেপে রেখেছি, এতে কিন্তু আমারও বেশ কষ্ট হয়েছে।’ সে না হয় বোঝা গেল, কিন্তু গায়িকা বনে যাওয়াটা তো মুখের কথা না! কত দিন ধরে চলছিল প্রস্তুতি? ‘গানটা যে আমাকে দিয়ে সম্ভব, সেটা প্রথম বুঝতে পারি উপস্থাপনায় গিয়ে। যখন উপস্থাপনা করতাম, তখন মাঝেমধ্যে দু-এক লাইন গাইতাম। কোনো একটা গানের সুর যখন নিজের মধ্যে নিতে পারতাম, ভালোই লাগত। মনে হতো, তৃপ্তি পাচ্ছি।’

গান নিয়ে কতটা সিরিয়াস সেটা বোঝাতে একটা উদাহরণও দিলেন, “দেখা যেত কোন একটা জনপ্রিয় গান গুনগুন করছি, কিন্তু দুই লাইনের পর আর পারছি না। খুব খারাপ লাগত। তখন নিজে নিজে আবার সেটা শিখতে চাইতাম। এভাবে কিছু গান শেখাও হয়েছে। ২০১২ সালে কণা আপুর (গায়িকা) সঙ্গে প্রথম দেখা। আপুর সামনে সেদিন ‘অনেক সাধনার পরে’ গেয়েছিলাম। তিনি বেশ প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, একটু ঘষামাজা করলে বেশ হবে। এর পর তো কথায় কথায়, উপস্থাপনায়, সিনেমার প্রমোশনে দু-চার লাইন গেয়েছি, কেউ খারাপ বলেনি। সেখান থেকেই সাহসটা পেয়েছি।”

ফারিয়ার গানটির নাম ‘পটাকা’। লিখেছেন রাকিব হাসান রাহুল। সংগীত পরিচালনায় প্রীতম হাসান। কোরিওগ্রাফার টালিগঞ্জ ও বলিউডে কাজ করা বাবা যাদব। শুটিং হয়েছে মুম্বাইয়ের ফোগা এলাকায়, যেখানে বলিউড সিনেমার শুটিংও হয়।

তা কেমন গান এই ‘পটাকা’? ‘নারীদের নিয়ে গান। জীবনে আমি যে বাধাগুলোর মুখোমুখি হয়েছি এবং যেভাবে বাধা পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছি, তা-ই বলার চেষ্টা করেছি গানে। আমি চাই আমার গান নিপীড়িত, পিছিয়ে থাকা নারীদের সাহসী করে তুলুক।’ ফারিয়া চাইলে তো সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিতে পারতেন। আলিয়া ভাট থেকে শ্রদ্ধা কাপুর—আজকাল নায়িকাদের তো হামেশাই নিজেদের ছবিতে গাইতে দেখা যায়। ‘সিনেমায় গাওয়ার সুযোগ নিতে চাইনি। চাওয়া ছিল নিজের মতো করে একটা গান করা। সিনেমার গানে তো সেই চরিত্রের কথা বলতে হয়। চিত্রনাট্য অনুযায়ী সংলাপ বলতে হয়; নিজের কোনো কথা চাইলেই বলা যায় না,’ বললেন ফারিয়া।

গানের নাম ‘পটাকা’ কেন? ব্যাখ্যা দিলেন সেটারও, ‘পটাকার মানে এর মধ্যে আগুন আছে। কখন বিস্ফোরিত হবে কেউ জানে না। আমার মনে হয়, প্রত্যেক মেয়ের মধ্যে এমন কিছু বিষয় আছে।’ এই গান থেকে পাওয়া লাভের একটা বড় অংশ মেয়েদের স্কুলে দেবেন বলেও জানালেন অভিনেত্রী।

গায়িকা ফারিয়ার যাত্রা কি এক ‘পটাকা’ দিয়েই শেষ? নাকি সামনেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে? ‘আগেই বলেছি, আমি যে প্ল্যাটফর্মে কাজ করি, সেখানে আসলে স্ক্রিপ্টের ওপর চলতে হয়। কিন্তু স্বাধীনভাবে একটা গানে অনেক কিছুই প্রকাশ করা সম্ভব। গানটা কতটা ভালো হয়েছে বা কী হয়েছে তার গ্যারান্টি দেব না, তবে বলব, আমি চেষ্টা করেছি। এভাবে সামনে আরো কিছু হবে,’ আত্মবিশ্বাসী শোনাল ফারিয়ার কণ্ঠ।