ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্মকে পুঁজি করে চালানো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: আমিনুল হক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর এই নির্বাচন ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে: প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে আইসিসিকে ফের চিঠি বিসিবির আজাদীর বাংলাদেশ গড়তে শাপলা কলিতে ভোট দিন: হাসনাত আবদুল্লাহ প্রচারের প্রথম দিনেই বিভিন্ন স্থানে হামলা সংঘর্ষ, আহত ২০ সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনকে বাধগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না: মির্জা ফখরুল

আন্তঃনগর ট্রেন, আইটি পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও সফরে ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৩৩টির ভিত্তি স্থাপন করেছেন। তবে এর বাইরেও নানা ঘোষণা দিয়ে জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সেগুলো আগেই জানানো হয়েছিল। আর এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী যখন জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দেন তখন জনসভায় আসা মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনা যোগ দেন বেলা পৌনে তিনটায়। এসেই তিনি প্রকল্পগুলো উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। বলেন, এর বাইরেও উন্নয়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার ৪০ মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ বক্তব্যে বিএনপি সরকারের ‘ব্যর্থতা’র পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সরকারের নানা চেষ্টা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য তার বিশেষ চিন্তাও তুলে ধরেন।

উদ্বোধন করা ও ভিত্তি স্থাপন করা প্রকল্পগুলোর উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এগুলো চলতে থাকবে। আর এর বাইরেও অনেক কিছু করা হবে।

‘ঠাকুরগাঁওয়ে যেসব কলেজে একাডেমিক ভবন নেই, আমরা তা করে দেব। প্রত্যেকটা উপজেলায় যেখানে সরকারি স্কুল নাই, কলেজ নাই, সেখানে আমরা একটা করে স্কুল বা কলেজ সরকারি করে দিচ্ছি।’

‘ঠাকুরগাঁওয়ে যাতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।’

‘ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থানের জন্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল যাতে গড়ে উঠে, তার ব্যবস্থা আমরা করব এবং স্পেশাল বিশেষ ইকোনোমিক জোন আমরা করে দেব।’

ভুল্লী থানা তৈরি করে দেয়ার ঘোষণাও আসে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ-রাণীশংকৈল-হরিপুর পাকা রাস্তা যেন প্রশস্ত হয়, তার ব্যবস্থা আমরা করে দেব।’

‘ঠাকুরগাঁও থেকে যেন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়, সে ব্যবস্থাও আমরা করে দেব।’

ঠাকুরগাঁওবাসীর আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা আসার পর তুমুল করতালি শুরু হয় জনসভায়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সমগ্র বাংলাদেশেই রেলের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। অল্প পয়সায় যাতে মালপত্র নেয়া যায়, অল্প পয়সায় যাতে যাতায়াত করা যায়, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। নদীগুলোও ডেজিং করে দিচ্ছি। নৌপথও যেন ব্যবহার করা যায়, তার ব্যবস্থা আমরা করব।’

‘অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে শিল্প কল কারখানা গড়ে উঠবে। এই সমস্ত মালামাল বিদেশে রপ্তানি, আর দেশের ভেতরেও যেন এখান থেকে ওখানে নেয়া যায়, সে ব্যবস্থা ও আমরা করে দেব।’

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে যাত একটি আইটি পার্ক হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি, যাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার তারা করতে পারে।’

নারীদের কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেল আমরা নির্মাণ করে দেব যাতে মহিলারা সেখানে থেকে কাজ করতে পারে।’

সরকার রাস্তাঘাট চার লেনে উন্নীত করে দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে কম ট্রাফিক সেখানে যেটা এক লেন, সেটা বদলে দুই লেনের করে দিচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার যত ড্রেন, রাস্তা, সেগুলো যেন উন্নত হয়, সে ব্যবস্থা করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পায়, তার জন্য ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক যাতে হয়, তার ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও আসে জনসভায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক উপজেলায় একটি মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার করে দেব। ইসলাম ধর্মের নামে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করুক, আমরা তা আমরা চাই না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।’

‘এই প্রজন্মই তো আগামী দিনে দেশ চালাবে। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। মাদক, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ থেকে ‍দূরে থাকবে। বাংলাদেশ হবে একটি শান্তির দেশ, উন্নয়নের দেশ।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন রূপে তাক লাগালেন জয়া আহসান

আন্তঃনগর ট্রেন, আইটি পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও

আপডেট সময় ১০:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও সফরে ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৩৩টির ভিত্তি স্থাপন করেছেন। তবে এর বাইরেও নানা ঘোষণা দিয়ে জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সেগুলো আগেই জানানো হয়েছিল। আর এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী যখন জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর ঘোষণা দেন তখন জনসভায় আসা মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনা যোগ দেন বেলা পৌনে তিনটায়। এসেই তিনি প্রকল্পগুলো উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। বলেন, এর বাইরেও উন্নয়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার ৪০ মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ বক্তব্যে বিএনপি সরকারের ‘ব্যর্থতা’র পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সরকারের নানা চেষ্টা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য তার বিশেষ চিন্তাও তুলে ধরেন।

উদ্বোধন করা ও ভিত্তি স্থাপন করা প্রকল্পগুলোর উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এগুলো চলতে থাকবে। আর এর বাইরেও অনেক কিছু করা হবে।

‘ঠাকুরগাঁওয়ে যেসব কলেজে একাডেমিক ভবন নেই, আমরা তা করে দেব। প্রত্যেকটা উপজেলায় যেখানে সরকারি স্কুল নাই, কলেজ নাই, সেখানে আমরা একটা করে স্কুল বা কলেজ সরকারি করে দিচ্ছি।’

‘ঠাকুরগাঁওয়ে যাতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।’

‘ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মসংস্থানের জন্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল যাতে গড়ে উঠে, তার ব্যবস্থা আমরা করব এবং স্পেশাল বিশেষ ইকোনোমিক জোন আমরা করে দেব।’

ভুল্লী থানা তৈরি করে দেয়ার ঘোষণাও আসে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ-রাণীশংকৈল-হরিপুর পাকা রাস্তা যেন প্রশস্ত হয়, তার ব্যবস্থা আমরা করে দেব।’

‘ঠাকুরগাঁও থেকে যেন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়, সে ব্যবস্থাও আমরা করে দেব।’

ঠাকুরগাঁওবাসীর আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা আসার পর তুমুল করতালি শুরু হয় জনসভায়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সমগ্র বাংলাদেশেই রেলের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। অল্প পয়সায় যাতে মালপত্র নেয়া যায়, অল্প পয়সায় যাতে যাতায়াত করা যায়, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। নদীগুলোও ডেজিং করে দিচ্ছি। নৌপথও যেন ব্যবহার করা যায়, তার ব্যবস্থা আমরা করব।’

‘অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে শিল্প কল কারখানা গড়ে উঠবে। এই সমস্ত মালামাল বিদেশে রপ্তানি, আর দেশের ভেতরেও যেন এখান থেকে ওখানে নেয়া যায়, সে ব্যবস্থা ও আমরা করে দেব।’

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে যাত একটি আইটি পার্ক হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি, যাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার তারা করতে পারে।’

নারীদের কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কর্মজীবী মহিলাদের হোস্টেল আমরা নির্মাণ করে দেব যাতে মহিলারা সেখানে থেকে কাজ করতে পারে।’

সরকার রাস্তাঘাট চার লেনে উন্নীত করে দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে কম ট্রাফিক সেখানে যেটা এক লেন, সেটা বদলে দুই লেনের করে দিচ্ছি।’

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার যত ড্রেন, রাস্তা, সেগুলো যেন উন্নত হয়, সে ব্যবস্থা করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় মানুষ যাতে বিশুদ্ধ পানি পায়, তার জন্য ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক যাতে হয়, তার ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও আসে জনসভায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক উপজেলায় একটি মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার করে দেব। ইসলাম ধর্মের নামে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করুক, আমরা তা আমরা চাই না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।’

‘এই প্রজন্মই তো আগামী দিনে দেশ চালাবে। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হবে। মাদক, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ থেকে ‍দূরে থাকবে। বাংলাদেশ হবে একটি শান্তির দেশ, উন্নয়নের দেশ।’