ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ইতিবাচক বক্তব্যে’ অপেক্ষায় বিএনপি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পুলিশের কাছ থেকে তিন দফা অনুমতি না পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছ থেকেও অনুমতি নিয়ে নিশ্চয়তা ছাড়াই ফিরেছেন বিএনপির তিন নেতা।

তারপরও মন্ত্রী যা বলেছেন, তাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিএনপি নেতারা। বলেছেন, এখন তারা অপেক্ষা করবেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বিএনপি নেতাদেরকে বলেন, কেন অনুমতি দিচ্ছে না, সেই বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলবেন কমিশনারের সঙ্গে। আর ২৯ মার্চ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ঢাকার পুলিশ কমিশনার।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথমে গত ২২ ফেব্রুয়ারি, এরপর ১২ মার্চ এবং সবশেষে ১৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দীকে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি বিএনপি। আগামী ২৯ মার্চও সেখানে সমাবেশ করার আবেদন জানিয়েছে দলটি।

এ নিয়ে আলোচনা করতেই মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে যান বিএনপির তিন নেতা নজরুল ইসলাম খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং হাফিজউদ্দিন আহমেদ। তারা ৪০ মিনিটের মতো ছিলেন মন্ত্রীর দপ্তরে। আর ফিরে যাওয়ার সময় প্রথমে বিএনপির নেতারা এবং পরে মন্ত্রী কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

‘মন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক’

বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ব্যাপারে আমাদের দলের সিদ্ধান্ত আছে। আমরা কয়েকবার এটার তারিখ ঘোষণা করেছিলাম, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় আমরা করতে পারিনি। আগামী ২৯ তারিখ ও সভাটা করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য আসলাম।’

মন্ত্রী কী বলেছেন- জানতে চাইলে বিএনপি নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সভা করার ব্যাপারে সাধারণভাবে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আজকেই কথা বলবেন। কথা বলে উনি আমাদেরকে জানাবেন। আমরাও তার কথার জন্য অপেক্ষা করব।’

মন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়ার কথাও জানান নজরুল। বলেন, ‘আমাদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। তবে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

‘উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এটা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন। উনি বলেছেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

আপনারা অনুমতি পেতে আশাবাদী কি না, এমন প্রশ্নে ‘আশাবাদী তো সব মানুষেরই হওয়া উচিত’ এমন মন্তব্য করেও বিএনপি নেতা বলেন, ‘যে পর্যন্ত না আমরা ইতিবাচক ফল না পাই, সে পর্যন্ত খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

সমাবেশের বিষয়টি ছাড়াও বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে ঢালাও গ্রেপ্তারের অভিযোগ এবং নারী কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান নজরুল ইসলাম খান।

বিএনপির সমাবেশ করার অধিকার আছে: মন্ত্রী

সাংবাদিকদেরকে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদেরকে (বিএনপি নেতা) বলেছি ডিএমপি তাদের হয়তো সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যের কারণে বা নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে যে দিন চাইছে সে দিন অনুমতি দিচ্ছে না।’

বিএনপি সময় এবং স্থান পরিবর্তন করে সভা-সমাবেশ করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে ডিএমপি অনুমতি দিতে পারে বলেও ধারণার কথা বলেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সভা সমাবেশের অধিকার আছে জানিয়ে মন্ত্রী বিএনপি নেতাদেরকে বলেন, ‘ঢাকার যেকোন জায়গায় মিটিং করেন, তার পারমিশনটা আমাদের ঢাকার পুলিশ কমিশনার দিয়ে থাকেন।’

‘তারা বলছেন তাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আমি বললাম, কী কারণে দেয়া হচ্ছে না। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে যে কারণে দেয়া হচ্ছে না।’

‘তবে যেদিন চেয়েছেন, সেদিন না দিলে তার পারের দিন বা তার পরের দিন আপনারা করতে পারেন। যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা না থাকে সেরকম দিনে আপনাদের দিতে পারে। এমন তো নয় যে আপনাদের দেবে না। আপনারা তো সভা-সমাবেশ করছেন।’

বিএনপি খুলনাতে সমাবেশ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব থাকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।…আমরা প্রটেকশনের বাইরে কিছু করি না।’

বিএনপি সমাবেশের অনুমতি না পেলেও এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে। তাহলে বিএনপি কেন করতে পারবে না-এমন প্রশ্ন ছিল সাংবাদিকদের।

জবাবে প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর তো তারা করেছে। এ বছর তারা পাননি এর কারণ হতে পারে কোনো গোয়েন্দা তথ্য থাকতে পারে যে সেখানে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিতে পারে। সেকারণেই হয়তো দেয়া হয়নি। কিন্তু তারা তো করছে। হয়তো স্থান এবং সময় পরিবর্তন হচ্ছে।’

পুলিশ কমিশনার কেন অনুমতি দিচ্ছেন না সে বিষয়ে নিজের ধারণার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘তারা যাতে সভাটি সুন্দরভাবে সেইফলি করতে পারে সেজন্য তো আমাদের কমিশনারের কিছু দায়িত্ব আছে। দায়িত্ববোধের জন্যই তিনি সময় এবং স্থান পরিবর্তনের কথা বলেন।’

‘আমি আগেই বলেছি, পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। কোনো আশঙ্কা থাকলেই কেবল পুলিশ কমিশনার স্থান বা তারিখ পরিবর্তনের কথা বলেন।’

বিনা দোষে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগের পর এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।

‘সাক্ষাতে তাদের প্রশ্ন ছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা তাদেরকে বলেছি, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধী ধরছি। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিংবা কোনো অবস্থায় তাদের পাওয়া গেছে তাদের ধরা হচ্ছে। কোনো অভিযোগ নেই এমন কাউকে সাধারণত গ্রেপ্তার করি না।’

নারী কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে বিএনপি নেতাদের অনুরোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি- এ বিষয়ে আমি পুলিশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব, যাতে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।’

কারাবন্দী নেতাদের মুক্তির দাবিও ছিল বিএনপির। তবে মন্ত্রী তাদেরকে বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। এটি আদালতের বিষয়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ইতিবাচক বক্তব্যে’ অপেক্ষায় বিএনপি

আপডেট সময় ০৩:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পুলিশের কাছ থেকে তিন দফা অনুমতি না পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছ থেকেও অনুমতি নিয়ে নিশ্চয়তা ছাড়াই ফিরেছেন বিএনপির তিন নেতা।

তারপরও মন্ত্রী যা বলেছেন, তাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিএনপি নেতারা। বলেছেন, এখন তারা অপেক্ষা করবেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বিএনপি নেতাদেরকে বলেন, কেন অনুমতি দিচ্ছে না, সেই বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলবেন কমিশনারের সঙ্গে। আর ২৯ মার্চ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ঢাকার পুলিশ কমিশনার।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথমে গত ২২ ফেব্রুয়ারি, এরপর ১২ মার্চ এবং সবশেষে ১৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দীকে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি বিএনপি। আগামী ২৯ মার্চও সেখানে সমাবেশ করার আবেদন জানিয়েছে দলটি।

এ নিয়ে আলোচনা করতেই মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে যান বিএনপির তিন নেতা নজরুল ইসলাম খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং হাফিজউদ্দিন আহমেদ। তারা ৪০ মিনিটের মতো ছিলেন মন্ত্রীর দপ্তরে। আর ফিরে যাওয়ার সময় প্রথমে বিএনপির নেতারা এবং পরে মন্ত্রী কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

‘মন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক’

বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ব্যাপারে আমাদের দলের সিদ্ধান্ত আছে। আমরা কয়েকবার এটার তারিখ ঘোষণা করেছিলাম, কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় আমরা করতে পারিনি। আগামী ২৯ তারিখ ও সভাটা করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য আসলাম।’

মন্ত্রী কী বলেছেন- জানতে চাইলে বিএনপি নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সভা করার ব্যাপারে সাধারণভাবে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আজকেই কথা বলবেন। কথা বলে উনি আমাদেরকে জানাবেন। আমরাও তার কথার জন্য অপেক্ষা করব।’

মন্ত্রীর বক্তব্যে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়ার কথাও জানান নজরুল। বলেন, ‘আমাদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। তবে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

‘উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এটা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন। উনি বলেছেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

আপনারা অনুমতি পেতে আশাবাদী কি না, এমন প্রশ্নে ‘আশাবাদী তো সব মানুষেরই হওয়া উচিত’ এমন মন্তব্য করেও বিএনপি নেতা বলেন, ‘যে পর্যন্ত না আমরা ইতিবাচক ফল না পাই, সে পর্যন্ত খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

সমাবেশের বিষয়টি ছাড়াও বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে ঢালাও গ্রেপ্তারের অভিযোগ এবং নারী কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান নজরুল ইসলাম খান।

বিএনপির সমাবেশ করার অধিকার আছে: মন্ত্রী

সাংবাদিকদেরকে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদেরকে (বিএনপি নেতা) বলেছি ডিএমপি তাদের হয়তো সুনির্দিষ্ট কোন তথ্যের কারণে বা নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে যে দিন চাইছে সে দিন অনুমতি দিচ্ছে না।’

বিএনপি সময় এবং স্থান পরিবর্তন করে সভা-সমাবেশ করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে ডিএমপি অনুমতি দিতে পারে বলেও ধারণার কথা বলেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সভা সমাবেশের অধিকার আছে জানিয়ে মন্ত্রী বিএনপি নেতাদেরকে বলেন, ‘ঢাকার যেকোন জায়গায় মিটিং করেন, তার পারমিশনটা আমাদের ঢাকার পুলিশ কমিশনার দিয়ে থাকেন।’

‘তারা বলছেন তাদের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। আমি বললাম, কী কারণে দেয়া হচ্ছে না। নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে যে কারণে দেয়া হচ্ছে না।’

‘তবে যেদিন চেয়েছেন, সেদিন না দিলে তার পারের দিন বা তার পরের দিন আপনারা করতে পারেন। যদি কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা না থাকে সেরকম দিনে আপনাদের দিতে পারে। এমন তো নয় যে আপনাদের দেবে না। আপনারা তো সভা-সমাবেশ করছেন।’

বিএনপি খুলনাতে সমাবেশ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব থাকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।…আমরা প্রটেকশনের বাইরে কিছু করি না।’

বিএনপি সমাবেশের অনুমতি না পেলেও এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, মাদ্রাসা শিক্ষকদের সংগঠন, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে। তাহলে বিএনপি কেন করতে পারবে না-এমন প্রশ্ন ছিল সাংবাদিকদের।

জবাবে প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর তো তারা করেছে। এ বছর তারা পাননি এর কারণ হতে পারে কোনো গোয়েন্দা তথ্য থাকতে পারে যে সেখানে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিতে পারে। সেকারণেই হয়তো দেয়া হয়নি। কিন্তু তারা তো করছে। হয়তো স্থান এবং সময় পরিবর্তন হচ্ছে।’

পুলিশ কমিশনার কেন অনুমতি দিচ্ছেন না সে বিষয়ে নিজের ধারণার কথাও বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘তারা যাতে সভাটি সুন্দরভাবে সেইফলি করতে পারে সেজন্য তো আমাদের কমিশনারের কিছু দায়িত্ব আছে। দায়িত্ববোধের জন্যই তিনি সময় এবং স্থান পরিবর্তনের কথা বলেন।’

‘আমি আগেই বলেছি, পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। কোনো আশঙ্কা থাকলেই কেবল পুলিশ কমিশনার স্থান বা তারিখ পরিবর্তনের কথা বলেন।’

বিনা দোষে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিএনপি নেতাদের অভিযোগের পর এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।

‘সাক্ষাতে তাদের প্রশ্ন ছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা তাদেরকে বলেছি, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধী ধরছি। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিংবা কোনো অবস্থায় তাদের পাওয়া গেছে তাদের ধরা হচ্ছে। কোনো অভিযোগ নেই এমন কাউকে সাধারণত গ্রেপ্তার করি না।’

নারী কর্মীদেরকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে বিএনপি নেতাদের অনুরোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি- এ বিষয়ে আমি পুলিশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব, যাতে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।’

কারাবন্দী নেতাদের মুক্তির দাবিও ছিল বিএনপির। তবে মন্ত্রী তাদেরকে বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। এটি আদালতের বিষয়।’