অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সব ধরনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীও চূড়ান্ত করেছে দলটি। এক্ষেত্রে খুলনায় বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির ওপর আস্থা রাখলেও গাজীপুরে বেছে নেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারকে। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
যদিও এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি আগামী ২৭ মার্চ দলের যৌথসভার পরই জানা যাবে। ওই বৈঠকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’
বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গণতন্ত্র উদ্ধার ও আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায় কিনা, এমন চিন্তা করার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বেছে নিলো বিএনপি।
সূত্রের খবর, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনেই অংশ নিয়েছে বিএনপি। যদিও গত ১৭ মার্চ মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর মানিকগঞ্জে গিয়ে বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না হলে আসন্ন ৫সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, ভেবে দেখবে বিএনপি। এরইমধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ঠিক করেছেন, আগামী সিটি নির্বাচনগুলোয় অংশ নেওয়ার। এক্ষেত্রে নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের সর্বশেষ আচরণও পরীক্ষা করে দেখতে চায় বিএনপি।
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী পরিষদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সিটি নির্বাচনগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আশাবাদী হয়ে উঠেছে বিএনপি। বিশেষ করে খালেদা জিয়া জেলে থাকায় তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিটি নির্বাচনগুলোয়ও ভালো ফল আনতে প্রত্যাশী দলটির নেতারা।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য ও জাসাস সহ-সভাপতি শায়রুল কবির খান বলেন, ‘আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিজয় আসার পেছনে একমাত্র কারণ চেয়ারপারসনের জনপ্রিয়তা। তার জেলে থাকার বিষয়টি আইনজীবীদের কাছে সরল বিষয় নয়। তাকে কারাগারে রাখায় সাধারণ মানুষ ফুঁসে আছে। আর এর প্রমাণ পাওয়া যাবে সিটি নির্বাচনেও। যদি বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা কতটা সেটাও টের পাওয়া যাবে বলে আশা করি।’
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য, গাজীপুরে এম এ মান্নান শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাকে আগামীতে চাইছে না বিএনপির হাইকমান্ড। যদিও তার ছেলে প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেও নীতি-নির্ধারকরা বেছে নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারকেই। সাবেক সংসদ সদস্য এবং গাজীপুরেই তার বসবাস বলে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। আর খুলনায় বর্তমান মনিরুজ্জামান মনিকে আবারও প্রার্থী করার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।
এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বিএনপি নেতারা এখনই কিছু বলতে নারাজ। তবে প্রার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, যে নির্বাচনে অংশ নিলেও তারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘এখনও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আলোচনা করে ঢাকায় জানিয়েছি। কেন্দ্র ঠিক করবে, নির্বাচনে যাবে কিনা। আর খালেদা জিয়ারে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাবে কিনা, এটাও প্রশ্ন রয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান মনিও কোনও উত্তর দিতে রাজি হননি। তার ভাষ্য, ‘পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবে।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে হাসান উদ্দিন সরকারকেই মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় নতুন প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ হাসান উদ্দিন সরকারকেই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দল নির্বাচনে অংশ নিলে মনোনয়নের প্রত্যাশা করি। আশা করি, দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমি গাজীপুরে বেড়ে উঠেছি, এখানেই থাকি, এখানকার মানুষের সঙ্গেই সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেবো। ঢাকায় আমার কোনও বাড়ি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান মেয়র শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ। তিনিও আমাকে সহযোগিতা করবেন বলে আশা করি।’
তবে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বললেন, ‘নির্বাচনে যাব কি যাবো না, এটা তো এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আরও দুয়েকদিন পর আমরা বসে ঠিক করতে পারবো আশা করছি। আর তফসিল ঘোষণা হলেই বোঝা যাবে প্রার্থী কে হবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাধারণত আমরা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। তবে এইগুলোতে করব কিনা, তা তফসিল ঘোষণা হলে বলা যাবে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















