ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

এক ছাত্রকে পড়াতে শিক্ষকের দৈনিক ৫০ কিমি পাড়ি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রুক্ষ পাহাড়ের গা দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে ৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ রাস্তা। দুপাশে ৪০০ফুট গভীর খাদ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এসব পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণ সাপের বাস। যে কোনো সময় গর্ত থেকে ফনা তোলে সাপ।

সারাবছরই এই দীর্ঘ রাস্তা মোটরসাইকেলে করে দুইবেলা পাড়ি দেন রজনীকান্ত মেন্ডে নামের এক স্কুল শিক্ষক। ভারতের পুনে শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ভোর জেলার ছান্দার গ্রামের সরকারী স্কুলের শিক্ষক তিনি।

দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যে স্কুলে যান, সে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র এক জন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আট বছরের যুবরাজ সাঙ্গালে নামের ওই একজন শিক্ষার্থীকে পড়াতেই রোজ এতোটা পথ পাড়ি দেন রজনীকান্ত।

ক্লাস ফাঁকা, খেলার মাঠে কেউ নেই, সঙ্গীর অভাবে স্কুলে যেতে মন চায় না যুবরাজের। কিন্তু রজনী স্যারের জন্যই তাকে স্কুলে যেতে হয়। কারণ, বাড়ির পেছনে বা গাছের ডালে লুকিয়ে থাকলেও তাকে খুজে বের করেন শিক্ষক রজনী।

আধুনিক সমাজের কিছুই সেখানে পৌঁছেনি এখনো। তবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে সেখানে একটি টিভি চালানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কিনেছেনেএকটি ট্যাবও। বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকা তার ছাত্রকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ডাউনলোড করে দেখান তিনি। এত কষ্ট করে যে তিনি একজন ছাত্রকে পড়াতে যান তা রজনীর বাড়িতেও কেউ জানে না।

ওই গ্রামে মোট ১৫টি বাড়ি রয়েছে। সেখানে বাস করেন মোট ৬০ জনের মতো বাসিন্দা। মানুষ এত অল্প হলেও সাপের সংখ্যা ভয়ানক সেখানে। কখনো স্কুলে জানালায় কিংবা চালে আবার কখনো রজনীর মোটরসাইকেলের ওপর উঠে বসে থাকে সাপ।

এ অবস্থায় নিজের জীবন নিয়েও সংশয়ে থাকেন রজনী। কিন্তু চাকরি তো আর ছেড়ে দিতে পারবেন না। আর এখানে দেখা মেলে না সরকারি লোকেরও।

তবে শুরুতে এমন অবস্থা ছিলো না স্কুলের। তখন ১১জন শিক্ষার্থী ছিলো। কিন্তু অসহায় এসব পরিবার তাদেরকে কাজ করতে পাঠিয়ে দিয়েছে শহরে। ফলে এখন একজন ছাত্র নিয়েই চলছে রজনীর শিক্ষকতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

এক ছাত্রকে পড়াতে শিক্ষকের দৈনিক ৫০ কিমি পাড়ি

আপডেট সময় ১১:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রুক্ষ পাহাড়ের গা দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে ৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ রাস্তা। দুপাশে ৪০০ফুট গভীর খাদ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এসব পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণ সাপের বাস। যে কোনো সময় গর্ত থেকে ফনা তোলে সাপ।

সারাবছরই এই দীর্ঘ রাস্তা মোটরসাইকেলে করে দুইবেলা পাড়ি দেন রজনীকান্ত মেন্ডে নামের এক স্কুল শিক্ষক। ভারতের পুনে শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ভোর জেলার ছান্দার গ্রামের সরকারী স্কুলের শিক্ষক তিনি।

দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যে স্কুলে যান, সে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র এক জন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আট বছরের যুবরাজ সাঙ্গালে নামের ওই একজন শিক্ষার্থীকে পড়াতেই রোজ এতোটা পথ পাড়ি দেন রজনীকান্ত।

ক্লাস ফাঁকা, খেলার মাঠে কেউ নেই, সঙ্গীর অভাবে স্কুলে যেতে মন চায় না যুবরাজের। কিন্তু রজনী স্যারের জন্যই তাকে স্কুলে যেতে হয়। কারণ, বাড়ির পেছনে বা গাছের ডালে লুকিয়ে থাকলেও তাকে খুজে বের করেন শিক্ষক রজনী।

আধুনিক সমাজের কিছুই সেখানে পৌঁছেনি এখনো। তবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে সেখানে একটি টিভি চালানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কিনেছেনেএকটি ট্যাবও। বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকা তার ছাত্রকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ডাউনলোড করে দেখান তিনি। এত কষ্ট করে যে তিনি একজন ছাত্রকে পড়াতে যান তা রজনীর বাড়িতেও কেউ জানে না।

ওই গ্রামে মোট ১৫টি বাড়ি রয়েছে। সেখানে বাস করেন মোট ৬০ জনের মতো বাসিন্দা। মানুষ এত অল্প হলেও সাপের সংখ্যা ভয়ানক সেখানে। কখনো স্কুলে জানালায় কিংবা চালে আবার কখনো রজনীর মোটরসাইকেলের ওপর উঠে বসে থাকে সাপ।

এ অবস্থায় নিজের জীবন নিয়েও সংশয়ে থাকেন রজনী। কিন্তু চাকরি তো আর ছেড়ে দিতে পারবেন না। আর এখানে দেখা মেলে না সরকারি লোকেরও।

তবে শুরুতে এমন অবস্থা ছিলো না স্কুলের। তখন ১১জন শিক্ষার্থী ছিলো। কিন্তু অসহায় এসব পরিবার তাদেরকে কাজ করতে পাঠিয়ে দিয়েছে শহরে। ফলে এখন একজন ছাত্র নিয়েই চলছে রজনীর শিক্ষকতা।