ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

এক ছাত্রকে পড়াতে শিক্ষকের দৈনিক ৫০ কিমি পাড়ি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রুক্ষ পাহাড়ের গা দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে ৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ রাস্তা। দুপাশে ৪০০ফুট গভীর খাদ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এসব পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণ সাপের বাস। যে কোনো সময় গর্ত থেকে ফনা তোলে সাপ।

সারাবছরই এই দীর্ঘ রাস্তা মোটরসাইকেলে করে দুইবেলা পাড়ি দেন রজনীকান্ত মেন্ডে নামের এক স্কুল শিক্ষক। ভারতের পুনে শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ভোর জেলার ছান্দার গ্রামের সরকারী স্কুলের শিক্ষক তিনি।

দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যে স্কুলে যান, সে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র এক জন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আট বছরের যুবরাজ সাঙ্গালে নামের ওই একজন শিক্ষার্থীকে পড়াতেই রোজ এতোটা পথ পাড়ি দেন রজনীকান্ত।

ক্লাস ফাঁকা, খেলার মাঠে কেউ নেই, সঙ্গীর অভাবে স্কুলে যেতে মন চায় না যুবরাজের। কিন্তু রজনী স্যারের জন্যই তাকে স্কুলে যেতে হয়। কারণ, বাড়ির পেছনে বা গাছের ডালে লুকিয়ে থাকলেও তাকে খুজে বের করেন শিক্ষক রজনী।

আধুনিক সমাজের কিছুই সেখানে পৌঁছেনি এখনো। তবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে সেখানে একটি টিভি চালানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কিনেছেনেএকটি ট্যাবও। বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকা তার ছাত্রকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ডাউনলোড করে দেখান তিনি। এত কষ্ট করে যে তিনি একজন ছাত্রকে পড়াতে যান তা রজনীর বাড়িতেও কেউ জানে না।

ওই গ্রামে মোট ১৫টি বাড়ি রয়েছে। সেখানে বাস করেন মোট ৬০ জনের মতো বাসিন্দা। মানুষ এত অল্প হলেও সাপের সংখ্যা ভয়ানক সেখানে। কখনো স্কুলে জানালায় কিংবা চালে আবার কখনো রজনীর মোটরসাইকেলের ওপর উঠে বসে থাকে সাপ।

এ অবস্থায় নিজের জীবন নিয়েও সংশয়ে থাকেন রজনী। কিন্তু চাকরি তো আর ছেড়ে দিতে পারবেন না। আর এখানে দেখা মেলে না সরকারি লোকেরও।

তবে শুরুতে এমন অবস্থা ছিলো না স্কুলের। তখন ১১জন শিক্ষার্থী ছিলো। কিন্তু অসহায় এসব পরিবার তাদেরকে কাজ করতে পাঠিয়ে দিয়েছে শহরে। ফলে এখন একজন ছাত্র নিয়েই চলছে রজনীর শিক্ষকতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক ছাত্রকে পড়াতে শিক্ষকের দৈনিক ৫০ কিমি পাড়ি

আপডেট সময় ১১:৫৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রুক্ষ পাহাড়ের গা দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে ৫০ কিলোমিটারের দীর্ঘ রাস্তা। দুপাশে ৪০০ফুট গভীর খাদ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এসব পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণ সাপের বাস। যে কোনো সময় গর্ত থেকে ফনা তোলে সাপ।

সারাবছরই এই দীর্ঘ রাস্তা মোটরসাইকেলে করে দুইবেলা পাড়ি দেন রজনীকান্ত মেন্ডে নামের এক স্কুল শিক্ষক। ভারতের পুনে শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের ভোর জেলার ছান্দার গ্রামের সরকারী স্কুলের শিক্ষক তিনি।

দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি যে স্কুলে যান, সে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র এক জন! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য আট বছরের যুবরাজ সাঙ্গালে নামের ওই একজন শিক্ষার্থীকে পড়াতেই রোজ এতোটা পথ পাড়ি দেন রজনীকান্ত।

ক্লাস ফাঁকা, খেলার মাঠে কেউ নেই, সঙ্গীর অভাবে স্কুলে যেতে মন চায় না যুবরাজের। কিন্তু রজনী স্যারের জন্যই তাকে স্কুলে যেতে হয়। কারণ, বাড়ির পেছনে বা গাছের ডালে লুকিয়ে থাকলেও তাকে খুজে বের করেন শিক্ষক রজনী।

আধুনিক সমাজের কিছুই সেখানে পৌঁছেনি এখনো। তবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে সেখানে একটি টিভি চালানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কিনেছেনেএকটি ট্যাবও। বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকা তার ছাত্রকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ডাউনলোড করে দেখান তিনি। এত কষ্ট করে যে তিনি একজন ছাত্রকে পড়াতে যান তা রজনীর বাড়িতেও কেউ জানে না।

ওই গ্রামে মোট ১৫টি বাড়ি রয়েছে। সেখানে বাস করেন মোট ৬০ জনের মতো বাসিন্দা। মানুষ এত অল্প হলেও সাপের সংখ্যা ভয়ানক সেখানে। কখনো স্কুলে জানালায় কিংবা চালে আবার কখনো রজনীর মোটরসাইকেলের ওপর উঠে বসে থাকে সাপ।

এ অবস্থায় নিজের জীবন নিয়েও সংশয়ে থাকেন রজনী। কিন্তু চাকরি তো আর ছেড়ে দিতে পারবেন না। আর এখানে দেখা মেলে না সরকারি লোকেরও।

তবে শুরুতে এমন অবস্থা ছিলো না স্কুলের। তখন ১১জন শিক্ষার্থী ছিলো। কিন্তু অসহায় এসব পরিবার তাদেরকে কাজ করতে পাঠিয়ে দিয়েছে শহরে। ফলে এখন একজন ছাত্র নিয়েই চলছে রজনীর শিক্ষকতা।