ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

ব্রিটিশ নারী গুপ্তচর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোপন খবর বয়ে বেড়াচ্ছেন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় দখলকৃত ফ্রান্স থেকে কোড করা গোপন বার্তা পাঠাতেন হেলেন টেইলর থম্পসন। সেখানে ছোটখাটো কোনো ভুল হলেই হয়তো সেটি কারও জীবনকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

যুদ্ধের এতকাল পরও সেই সময়ের সব কথাই এখনও গোপনে নিজের মধ্যে বয়ে বেড়াচ্ছেন এক সময়কার গুপ্তচর ৯৩ বছরের এই ব্রিটিশ নারী।-খবর বিবিসি অনলাইন।

টেইলর থম্পসন বলেন, আপনি যা দেখেছেন বা যা করেছেন, সেটি নিয়ে যদি কখনও কারও কাছে কিছু বলেন, সেটি দেশদ্রোহিতা বলে বিবেচিত হবে। হয়তো আপনাকে তার জীবন দিয়েই মূল্য দিতে হবে।

তখনকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের গোপন আর্মি বলে পরিচিত বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন তিনি।

টেইলর বলেন, সত্যি কথা বলতে কী- আমি তাদের সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমি তাদের পোশাকও পছন্দ করতাম না। আমি জানতাম না যে ফ্রান্সে তারা কী ধরনের স্যাবোটাজের কাজকর্ম করছেন।

স্পেশাল অপারেশন এক্সিকিউটিভ নামে একটি গোপন বাহিনী তৈরি করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, যাদের কাজ ছিল গোপনে জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা আর ধ্বংসাত্মক অভিযান চালানো।

তিনি বলেন, আমার কাজ ঠিক বিপজ্জনক ছিল না, কিন্তু আমাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হতো। কারণ আমার সামান্য একটি ভুলে কারও জীবন বিপদে পড়তে পারত।

হেলেন চান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীরা যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা যেন স্মরণীয় করে রাখা হয়।

তিনি বলেন, যারা সেখানে গেছে, তাদের অনেককে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকে আর কখনও ফিরে আসেননি। সাহসিকতার জন্য নূর ইনায়েত খান আর ওডেট্টা স্যানসশ সাহসিকতার জন্য জর্জ ক্রস পদক পেয়েছেন।

জার্মান দখলকৃত ফ্রান্স গুপ্তচরদের কাছে গোপন বার্তা পাঠাতেন হেলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন ছিলেন নারী, যারা শত্রু এলাকায় গোপনে কাজ করতেন।

তিনি বলেন, তারা চাইতেন, আমরা জার্মান লাইন অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকি। আমরা রাজি হয়েছিলাম। এর পর আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কিছুই ঘটেনি। পরে শুধু পুরুষদেরই সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হয়, কিন্তু আমরাও লড়াই করতে চেয়েছিলাম।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পূর্ব লন্ডনে একটি ছোট হাসপাতাল চালাতেন হেলেন টেইলর। কিন্তু সরকারের ব্যয় সংকোচনে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

এর পর জীবনের প্রান্তসীমায় থাকা মানুষজনের জীবন আরেকটু আরামদায়ক করতে ইউরোপের প্রথম দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি তিনি চালু করেন। এখনও তিনি সেখানেই কাজ করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ব্রিটিশ নারী গুপ্তচর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোপন খবর বয়ে বেড়াচ্ছেন

আপডেট সময় ০৩:২৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় দখলকৃত ফ্রান্স থেকে কোড করা গোপন বার্তা পাঠাতেন হেলেন টেইলর থম্পসন। সেখানে ছোটখাটো কোনো ভুল হলেই হয়তো সেটি কারও জীবনকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

যুদ্ধের এতকাল পরও সেই সময়ের সব কথাই এখনও গোপনে নিজের মধ্যে বয়ে বেড়াচ্ছেন এক সময়কার গুপ্তচর ৯৩ বছরের এই ব্রিটিশ নারী।-খবর বিবিসি অনলাইন।

টেইলর থম্পসন বলেন, আপনি যা দেখেছেন বা যা করেছেন, সেটি নিয়ে যদি কখনও কারও কাছে কিছু বলেন, সেটি দেশদ্রোহিতা বলে বিবেচিত হবে। হয়তো আপনাকে তার জীবন দিয়েই মূল্য দিতে হবে।

তখনকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের গোপন আর্মি বলে পরিচিত বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন তিনি।

টেইলর বলেন, সত্যি কথা বলতে কী- আমি তাদের সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমি তাদের পোশাকও পছন্দ করতাম না। আমি জানতাম না যে ফ্রান্সে তারা কী ধরনের স্যাবোটাজের কাজকর্ম করছেন।

স্পেশাল অপারেশন এক্সিকিউটিভ নামে একটি গোপন বাহিনী তৈরি করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, যাদের কাজ ছিল গোপনে জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা আর ধ্বংসাত্মক অভিযান চালানো।

তিনি বলেন, আমার কাজ ঠিক বিপজ্জনক ছিল না, কিন্তু আমাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হতো। কারণ আমার সামান্য একটি ভুলে কারও জীবন বিপদে পড়তে পারত।

হেলেন চান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নারীরা যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা যেন স্মরণীয় করে রাখা হয়।

তিনি বলেন, যারা সেখানে গেছে, তাদের অনেককে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেকে আর কখনও ফিরে আসেননি। সাহসিকতার জন্য নূর ইনায়েত খান আর ওডেট্টা স্যানসশ সাহসিকতার জন্য জর্জ ক্রস পদক পেয়েছেন।

জার্মান দখলকৃত ফ্রান্স গুপ্তচরদের কাছে গোপন বার্তা পাঠাতেন হেলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন ছিলেন নারী, যারা শত্রু এলাকায় গোপনে কাজ করতেন।

তিনি বলেন, তারা চাইতেন, আমরা জার্মান লাইন অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকি। আমরা রাজি হয়েছিলাম। এর পর আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কিছুই ঘটেনি। পরে শুধু পুরুষদেরই সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হয়, কিন্তু আমরাও লড়াই করতে চেয়েছিলাম।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পূর্ব লন্ডনে একটি ছোট হাসপাতাল চালাতেন হেলেন টেইলর। কিন্তু সরকারের ব্যয় সংকোচনে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

এর পর জীবনের প্রান্তসীমায় থাকা মানুষজনের জীবন আরেকটু আরামদায়ক করতে ইউরোপের প্রথম দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি তিনি চালু করেন। এখনও তিনি সেখানেই কাজ করছেন।