ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

পাকিস্তান আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতিস্বীকার করবে না: আসিফ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের অতীত ঘনিষ্ঠতাকে তার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাকিস্তানের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাকিস্তানের আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসলামাবাদ আর কখনো হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সহযোগিতার মতো ভুল করবে না এবং মার্কিন দাবির কাছে নতিস্বীকার করে নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেবে না।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় এ অনুতাপ প্রকাশ করলেন যখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারে ইসলামাবাদকে সতর্ক করে দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপড়েন দেখা দিয়েছে এবং মার্কিন সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে। এ হুমকির কারণে পাকিস্তানের জনমত তীব্রভাবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ফুঁসে রয়েছে। ঠিক এ রকম একটি পরিস্থিতিতে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেন।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লীগ (নওয়াজ) মার্কিনবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, সরকার জনগণের সঙ্গে রয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিল তখন খাজা আসিফ নিজেদের জনসমর্থন ধরে রাখার জন্য এ বক্তব্য দিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

তবে পাকিস্তান যদি সত্যি সত্যি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে চায় তাহলে চিরশত্রু ভারতের মোকাবিলায় তাকে অন্য কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক শক্তির শরণাপন্ন হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ধরে রাখতে সাবেক পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুশাররফ ২০০১ সালে আফগানিস্তানে ইঙ্গো-মার্কিন হামলায় সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন

খাজা আসিফ তার বক্তব্যে আরো বলেন, আফগানিস্তানের ওপর ইঙ্গো-মার্কিন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা ছিল ইসলামাবাদের ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি এ বক্তব্য দিয়ে জনগণকে পক্ষে আনার প্রচেষ্টার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রাচ্যের দুই শক্তিকে এ নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছেন যে, ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের পরিবর্তে প্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

পাকিস্তান দাবি করছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে গিয়ে ইসলামাবাদের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাজেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ আফগানিস্তানে পাক সহযোগিতা গ্রহণের সময় যে পাকিস্তানকে ন্যাটোবহির্ভূত মিত্র বলে উল্লেখ করেছিলেন ইসলামাবাদের দৃষ্টিতে বতর্মান মার্কিন সরকার সেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিতে পারে না।

অবশ্য পর্যবেক্ষকরা পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বলছেন, মার্কিন সরকার যদি আবার ইসলামাবাদের ব্যাপারে নিজের সুর নরম করে তাহলে পাকিস্তান যে আবার ওয়াশিংটনের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতিস্বীকার করবে না: আসিফ

আপডেট সময় ০৮:৪৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের অতীত ঘনিষ্ঠতাকে তার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পাকিস্তানের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাকিস্তানের আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইসলামাবাদ আর কখনো হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সহযোগিতার মতো ভুল করবে না এবং মার্কিন দাবির কাছে নতিস্বীকার করে নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেবে না।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন সময় এ অনুতাপ প্রকাশ করলেন যখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারে ইসলামাবাদকে সতর্ক করে দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপড়েন দেখা দিয়েছে এবং মার্কিন সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে। এ হুমকির কারণে পাকিস্তানের জনমত তীব্রভাবে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ফুঁসে রয়েছে। ঠিক এ রকম একটি পরিস্থিতিতে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেন।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লীগ (নওয়াজ) মার্কিনবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, সরকার জনগণের সঙ্গে রয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিল তখন খাজা আসিফ নিজেদের জনসমর্থন ধরে রাখার জন্য এ বক্তব্য দিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

তবে পাকিস্তান যদি সত্যি সত্যি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে চায় তাহলে চিরশত্রু ভারতের মোকাবিলায় তাকে অন্য কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক শক্তির শরণাপন্ন হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ধরে রাখতে সাবেক পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুশাররফ ২০০১ সালে আফগানিস্তানে ইঙ্গো-মার্কিন হামলায় সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন

খাজা আসিফ তার বক্তব্যে আরো বলেন, আফগানিস্তানের ওপর ইঙ্গো-মার্কিন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা ছিল ইসলামাবাদের ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি এ বক্তব্য দিয়ে জনগণকে পক্ষে আনার প্রচেষ্টার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রাচ্যের দুই শক্তিকে এ নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছেন যে, ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের পরিবর্তে প্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

পাকিস্তান দাবি করছে, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে গিয়ে ইসলামাবাদের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাজেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ আফগানিস্তানে পাক সহযোগিতা গ্রহণের সময় যে পাকিস্তানকে ন্যাটোবহির্ভূত মিত্র বলে উল্লেখ করেছিলেন ইসলামাবাদের দৃষ্টিতে বতর্মান মার্কিন সরকার সেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিতে পারে না।

অবশ্য পর্যবেক্ষকরা পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বলছেন, মার্কিন সরকার যদি আবার ইসলামাবাদের ব্যাপারে নিজের সুর নরম করে তাহলে পাকিস্তান যে আবার ওয়াশিংটনের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই।