ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

খালেদা ভালো আছেন, উস্কানি এড়াতে বিএনপিকে নির্দেশ: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া ভালো আছেন এবং তার মনোবলও অটুট আছে বলে তার সঙ্গে দেখা করে এসে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি সব ধরনের উস্কানি এড়িয়ে চলারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বুধবার বিকালে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির আট নেতা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর এই প্রথম নেত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল। তিনি ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও দেখা করেন নেত্রীর সঙ্গে।

এদের মধ্যে মওদুদ আহমদ এবং জমির উদ্দিন সরকার আইনজীবী হিসেবে এর আগেও দেখা করেছেন দলীয় প্রধানের সঙ্গে। তবে অন্যরা ফখরুলের মতোই প্রথমবারের মতো এই সুযোগ পেয়েছেন। এই আট নেতা বেলা সোয়া তিনটায় কারাগারে ঢুকেন। বের হন সাড়ে চারটায়। আর এই সোয়া এক ঘণ্টা সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিকদেরকে জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব জানান, কারো উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেমন আছেন-এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মনোবল অত্যন্ত উঁচু। খালেদা জিয়া সাহসিকতার সঙ্গে সব প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করছেন। কারারুদ্ধ অবস্থায় তিনি দেশের কথাই চিন্তা করছেন।’

‘তিনি আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে বলেছেন যে, তিনি অটুট আছে। তার শরীর ভালো আছে। দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য তিনি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে আলোচনা করে এইটুকু বুঝতে পেরেছি যে, তার মনোবল অত্যন্ত উঁচু এবং সত্যের পথে। সত্য প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করেন তিনি।’

খালেদা জিয়া কোনো বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী সুনির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছেন কারও উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে যেতে।’

গত ২৫ জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কিছু হলে দেশে আগুন জ্বালানোর হুমকি এসেছিল। তবে সাজা ঘোষণার পর বিএনপি কর্মসূচি দিয়েছে নমনীয়। কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া তাদেরকে হঠকারিতা করতে নিষেধ করেছেন।

আবার নমনীয় কর্মসূচি দেয়ায় আওয়ামী লীগ কটাক্ষ করছে বিএনপিকে। যদিও এসব বক্তব্যকে ‍উস্কানি হিসেবে দেখে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিয়ে যাওয়ার কথাই জানিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়াও নেতাদের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকে আমরা যৌথ প্রচেষ্টায় আন্দোলন পরিচালনা করছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা সবকিছু পরিচালনা করছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে রাখা হয়েছে। সরকার বিভিন্ন কারচুপির মধ্য দিয়ে কারাবাসকে দীর্ঘ করার চেষ্টা করছে। তবে সবকিছু দূরীভূত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে যে সংগ্রাম তা চলবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা ভালো আছেন, উস্কানি এড়াতে বিএনপিকে নির্দেশ: ফখরুল

আপডেট সময় ০৬:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া ভালো আছেন এবং তার মনোবলও অটুট আছে বলে তার সঙ্গে দেখা করে এসে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি সব ধরনের উস্কানি এড়িয়ে চলারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বুধবার বিকালে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির আট নেতা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর এই প্রথম নেত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন মির্জা ফখরুল। তিনি ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও দেখা করেন নেত্রীর সঙ্গে।

এদের মধ্যে মওদুদ আহমদ এবং জমির উদ্দিন সরকার আইনজীবী হিসেবে এর আগেও দেখা করেছেন দলীয় প্রধানের সঙ্গে। তবে অন্যরা ফখরুলের মতোই প্রথমবারের মতো এই সুযোগ পেয়েছেন। এই আট নেতা বেলা সোয়া তিনটায় কারাগারে ঢুকেন। বের হন সাড়ে চারটায়। আর এই সোয়া এক ঘণ্টা সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিকদেরকে জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব জানান, কারো উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেমন আছেন-এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মনোবল অত্যন্ত উঁচু। খালেদা জিয়া সাহসিকতার সঙ্গে সব প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করছেন। কারারুদ্ধ অবস্থায় তিনি দেশের কথাই চিন্তা করছেন।’

‘তিনি আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতে বলেছেন যে, তিনি অটুট আছে। তার শরীর ভালো আছে। দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য তিনি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে আলোচনা করে এইটুকু বুঝতে পেরেছি যে, তার মনোবল অত্যন্ত উঁচু এবং সত্যের পথে। সত্য প্রতিষ্ঠা হবে বলে মনে করেন তিনি।’

খালেদা জিয়া কোনো বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী সুনির্দিষ্ট করে বলে দিয়েছেন কারও উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে যেতে।’

গত ২৫ জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কিছু হলে দেশে আগুন জ্বালানোর হুমকি এসেছিল। তবে সাজা ঘোষণার পর বিএনপি কর্মসূচি দিয়েছে নমনীয়। কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া তাদেরকে হঠকারিতা করতে নিষেধ করেছেন।

আবার নমনীয় কর্মসূচি দেয়ায় আওয়ামী লীগ কটাক্ষ করছে বিএনপিকে। যদিও এসব বক্তব্যকে ‍উস্কানি হিসেবে দেখে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিয়ে যাওয়ার কথাই জানিয়েছে বিএনপি। খালেদা জিয়াও নেতাদের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকে আমরা যৌথ প্রচেষ্টায় আন্দোলন পরিচালনা করছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা সবকিছু পরিচালনা করছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে রাখা হয়েছে। সরকার বিভিন্ন কারচুপির মধ্য দিয়ে কারাবাসকে দীর্ঘ করার চেষ্টা করছে। তবে সবকিছু দূরীভূত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে যে সংগ্রাম তা চলবে।’