অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে যে সাম্প্রদায়িক শক্তি হত্যার চেষ্টা করেছে, তাদেরকে ‘পৃষ্ঠপোষকতা’ বন্ধ করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘হামলাকারীদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে। এরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কিলিং গ্রুপের সদস্য। আর এই অপশক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বিএনপি নামক একটি দল।’
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে আগামী বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখছিলেন কাদের। সোমবার বিকালে এই প্রস্তুতি সভা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মিলনায়তনে।
জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টায় গত শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা করেন ‘জঙ্গিবাদী’ যুবক ফয়জুর। তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে হস্তান্তর করেছে ছাত্ররা। র্যাব জানিয়েছে, উগ্রবাদে দীক্ষিত হয়ে জাফর ইকবালকে ইসলামবিরোধী ভেবে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন ফয়জুর।
তবে অতীতের নানা ধারাবাহিকতায় এই হামলার পরও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একে অপরকে ঘায়েলের চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতারা।
সকালে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডকে আড়াল করতে সরকার ইচ্ছা করেই জাফর ইকবালের ওপর হামলা করিয়েছে।
তবে কাদের জেনেছেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। সে কথা উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘সেই দলের (বিএনপি) মহাসচিব বলছেন খালেদা জিয়ার ঘটনাকে আড়াল করার জন্য জাফর ইকবালের উপর হামলা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের সাথে সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাফর ইকবালকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এর মাধ্যমে ঢাকায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং তিনি আজকে জাফর ইকবালকে দেখতে গিয়েছেন।’
কাদের বলেন, ‘মায়ের চেয়ে ফখরুল সাহেবের মাসির দরদ বেশি। তার বক্তব্য শুনে এটাই বুঝা যাচ্ছে। ফখরুল সাহেব এসব না করে এই অপশক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করুন।’
‘২০১৪ সালে যে ভুল করেছেন (নির্বাচন বর্জন) সেই ভুলের মাশুলে এখনও আপনাদের দিতে হচ্ছে। এই অপশক্তিকে যদি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখেন তাহলে আগামী নির্বাচনে জনগণ সমুচিত জবাব দেবে।’
‘একটি দলের পক্ষে আদাজল খেয়ে নেমেছে মিডিয়া’
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন ওবায়দুল কাদের। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু কিছু গণমাধ্যম ‘আদাজল খেয়ে’ নেমেছে বলেও অভিযোগ তার।
চার বিভাগীয় শহরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা নিয়ে প্রতিবেদন ভালো হয়নি অভিযোগ করে কাদের বলেন, প্রতিটি জনসভায় লোক হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম সেগুলো এড়িয়ে গেছে।
‘কিন্তু কেউ কেউ সত্যকে বিকৃত করে কোনো রকম সাদামাটা করে ছাপাচ্ছে। বিশাল জনসভা বলতে তাদের লজ্জা লাগে।’
গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকার ঝগড়া করতে চায় না মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনা করুক। কিন্তু একটা দলের পক্ষে হয়ে তারা আদাজল খেয়ে লেগেছে।’
‘মিডিয়া আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। সমালোচনা থেকে আমরা শুনব, সেটা যদি গঠনমূলক সমালোচনা হয়।’
কাদের বলেন, ‘আমি মিডিয়ার সাথে বৈঠক করেছি তখন বলেছি আমাদের যা প্রাপ্য তা আমাদের দিতে হবে। এ বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ও ছিলেন।’
৭ মার্চ জনসভা নিয়ে নেতাকর্মীদের ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘মার্কেট বন্ধ করে, রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশে যেতে হবে এটা আমরা বলিনি। জনসভার দিন রাস্তার একপাশ খোলা থাকবে। যেন জনগণের দুর্ভোগ না হয়।’
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির, মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















