ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘দক্ষ নেতৃত্ব ও সমান সুযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করা হবে’ সংসদ হুটহাট কথা বলার জায়গা নয়, নিয়ম মেনে চলতে হবে : স্পিকার মোহাম্মদপুরে অভিযানকালে হামলায় ওসি-এসআই আহত, ২ ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ ১০০ উপজেলায় হবে একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ দীপু মনির জামিন নামঞ্জুর লালমনিরহাটে শিশুর লাশ উদ্ধার: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর,এসপিসহ আহত ৩০ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : মির্জা ফখরুল আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকতো না: ট্রাম্প বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলমান: উপদেষ্টা জাহেদ পরীমনিকাণ্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে সেই এডিসি সাকলায়েনকে :স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সুলতানা কামালের অভিযোগ হাস্যকর: আইন মন্ত্রণালয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের বক্তব্যকে অবাস্তব ও হাস্যকর অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আজ রবিবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভূমিকা নিয়ে যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তার প্রতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। সুলতানা কামালের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

তাতে বলা হয়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীর বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর আওতায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিধান রয়েছে। মামলার সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে ওই আইনের ১৮(১) ও (২) উপধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার বিধান রয়েছে। উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী আইনটি সফলভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। আইনমন্ত্রীর এ ক্ষেত্রে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার কোনো কারণ নেই।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার জন্য আইনমন্ত্রীকে দায়ী করে সুলতানা কামাল প্রকৃত তথ্য না জেনে মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এটি অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য, দুঃখজনক এবং ভিত্তিহীন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর ১৯ ধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দায়িত্ব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত বলে জানানো হয় ব্যাখ্যায়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বাধা থাকলে তা দূরীকরণে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এই ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রী অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনটির প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া কিংবা বাস্তবায়নে বাহানা তৈরি করার কোনো কারণ নেই। কাজেই সুলতানা কামালের অভিযোগ শুধু অবাস্তবই নয় হাস্যকরও বটে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, যারা ভূমিদস্যু তারা অন্যদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে অভ্যস্ত হয়ে যান। একসময়ে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করা শেষ হলে তারা অন্যদের সম্পত্তিতে হাত বাড়ায়। শাস্তি না দেয়া হলে তাদের থামানো সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন সৈনিক আমরা মন্ত্রিসভায় পেয়েছি। কিন্তু তিনি রিট করা, আপিল করার নাম করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দক্ষ নেতৃত্ব ও সমান সুযোগের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল করা হবে’

সুলতানা কামালের অভিযোগ হাস্যকর: আইন মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় ১১:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের বক্তব্যকে অবাস্তব ও হাস্যকর অভিহিত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আজ রবিবার বিকালে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ বাস্তবায়নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভূমিকা নিয়ে যে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন তার প্রতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। সুলতানা কামালের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

তাতে বলা হয়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীর বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর আওতায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিধান রয়েছে। মামলার সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে ওই আইনের ১৮(১) ও (২) উপধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করার বিধান রয়েছে। উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী আইনটি সফলভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। আইনমন্ত্রীর এ ক্ষেত্রে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার কোনো কারণ নেই।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করার জন্য আইনমন্ত্রীকে দায়ী করে সুলতানা কামাল প্রকৃত তথ্য না জেনে মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এটি অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য, দুঃখজনক এবং ভিত্তিহীন।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এর ১৯ ধারার বিধানমতে আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দায়িত্ব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত বলে জানানো হয় ব্যাখ্যায়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বাধা থাকলে তা দূরীকরণে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এই ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রী অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনটির প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া কিংবা বাস্তবায়নে বাহানা তৈরি করার কোনো কারণ নেই। কাজেই সুলতানা কামালের অভিযোগ শুধু অবাস্তবই নয় হাস্যকরও বটে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, যারা ভূমিদস্যু তারা অন্যদের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে অভ্যস্ত হয়ে যান। একসময়ে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করা শেষ হলে তারা অন্যদের সম্পত্তিতে হাত বাড়ায়। শাস্তি না দেয়া হলে তাদের থামানো সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন সৈনিক আমরা মন্ত্রিসভায় পেয়েছি। কিন্তু তিনি রিট করা, আপিল করার নাম করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।’