ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

জাফর ইকবালের ওপর হামলার পেছনে ধর্মব্যবসায়ীরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খ্যাতিমান লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার পেছনে ধর্মব্যবসায়ীদের হাত দেখছেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। বলেছেন, ‘যে ছেলেটি জাফর ইকবালের ওপর হামলা করেছে তার তার মস্তিষ্ক ধোলাই করা হয়েছে। তার মাথার মধ্যে কতগুলো চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই কাজটি করলে পরে সে সওয়াব পাবে। ধর্মের উপকার হবে। ইসলামের উপকার হবে। ধর্মকে সামনে রেখে, ধর্মকে ঢাল তৈরি করে ধর্মব্যবসায়ী কিছু মানুষ কিন্তু এই কাজটি করিয়েছে।’

শনিবার মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আজকের সংবাদপত্র’ নামের অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

শনিবার বিকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাত করে এক যুবক। তার মাথার পেছন দিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়। এতে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বিকালে ছুরিকাঘাতের পরপর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলা চলে না। কারণ তাকে বহুবার হুমকি দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের বিবেকবান মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যারা জনগণকে নিয়ে চিন্তা করেন তাদের মধ্যে অন্যতম জাফর ইকবাল। মু্ক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারবাহিকতায় যে মানুষগুলো সোচ্চার ছিলেন এবং আছেন তাদের প্রতি এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।’

জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই ঘটনা পর্যালোচনা করি, তবে যেটুকু তথ্য আমাদের কাছে আছে সেটা হলো যে ছেলেটি জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করেছে সে একটি মাদ্রাসা ছাত্র। তার বাবাও মাদ্রাসার শিক্ষক। এই তথ্যগুলো আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে জেনেছি। যদি এই ঘটনা সত্যি হয় তবে প্রথমে যদি আমি ব্যাখ্যা এভাবে করি তবে বলা যায় এই ছেলেটির সঙ্গে জাফর ইকবালের কোনোভাবেই সংঘাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, আত্মীয়ের সম্পর্ক নেই। কোনো মারামারিও নেই। জমিজমা নিয়েও দুর্ঘটনা নেই। তাহলে এই ছেলেটি জাফর ইকবালকে কেন মারতে এলো।’

রাজনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, ‘এই কেনোর উত্তরটি আমরা যদি খুঁজতে যাই তাহলে আমরা দেখবে হি ওয়াজ ব্রেন ওয়াশড। তার মস্তিষ্ক ধোলাই করা হয়েছে। তার মাথার মধ্যে কতগুলো চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। কিসের মাধ্যমে? ধর্মের নামে। অর্থাৎ এই কাজটি করলে পরে সে সওয়াব পাবে। ধর্মের উপকার হবে। ইসলামের উপকার হবে। ধর্মকে সামনে রেখে, ধর্মকে ঢাল তৈরি করে ধর্মব্যবসায়ী কিছু মানুষ কিন্তু এই কাজ করেছে।’

মোবাশ্বের বলেন, ‘এখন আপনি বলতে পারেন আমি কিসের ভিত্তিতে এই কথা বলছি। আমি আপনাকে জাস্ট পবিত্র কোরআন থেকে কয়েকটি পড়ে শোনাই তাহলেই বুঝতে পারবেন। সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কেউ কোনো ব্যক্তিকে হত্যার বদলা ব্যতিরেকে অথবা দেশে কলহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ ব্যতিরেকে হত্যা করলে সে যেন সমগ্র মানবমণ্ডলীকে হত্যা করলো।’অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো ধর্মের মানুষকে কারণ ছাড়া হত্যা করার বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘যে কেউ একটি জীবনকে বাঁচাল সে যেন সমগ্র মানবমণ্ডলীকে বাঁচাল।’ অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের ধর্মাবলম্বীসহ, মুসলমানসহ সব মানুষকে বাঁচালো।’

কোরআন সহিংসতার পক্ষ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সুরা কাফ এর আয়াত ৪৫ পাঠ করি তবে সেখানে দেখতে পাবো আল্লাহ তায়ালা রাসুল সা.কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ওরা যা বলে আমি তা ভালোভাবেই জানি তোমাকে ওদের উপর জবরদস্তি করার জন্য পাঠানো হয়নি। সুতরাং আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে কোরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও।’এখানে আল্লাহ কোরআনের সাহায্যে উপদেশ দিতে বলেছেন। চাকু দিয়ে উপদেশ দিতে বলেননি।

মোবাশ্বের হোসেন আরও বলেন, ‘রাসুল সা. এর সামনে যদি কেউ ইসলাম নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই চাকু নিয়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গে মারতে যেতেন না। তার মানে আমরা যে হাদিস পড়ি সেই হাদিসের মধ্যে সবচেয়ে বড় জিনিস হলো রাসুল সা. এর জীবনকে নিজের জীবনের ধারণ করার চেষ্টা করা, তার মত নিজের জীবনকে পরিচালিত করার চেষ্টা করা। রাসুল সা. যে কাজগুলো কখনোই করতেন না, করতে বাধা দিতেন, সেগুলো কখনোই ইসলামের অঙ্গ হতে পারে না। কোরআনের আয়াতেও এই জিনিসগুলো নেই।’

প্রবীণ এই স্থপতি বলেন, ‘আজকে মুদ্ধিযুদ্ধের মাসে, স্বাধীনতার মাসে যে কথাটি বলতে চাচ্ছি সেটা হলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধংস করার পরিপ্রেক্ষিতে এই অবস্থার সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মকে সামনে রেখে যে অকাজগুলো করছে তেমনি বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশ মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল করে যত রকমের অকাজগুলো করছে এবং সেটা দৃশ্যমান হচ্ছে শিক্ষিত সন্তানদের মধ্যে।’

এই বিশ্লেষক বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে জাফর ইকবালকে যখন হামলা করা হয় তখন কিন্তু তিনি পুলিশি প্রটেকশনে ছিলেন না। হামলাকারী দীর্ঘক্ষণ জাফর ইকবালের সঙ্গে ছিলেন। এই ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেয়ার দরকার ছিল। পুলিশ এই ঘটনা ঘটবে সে চিন্তাও করতে পারেনি। তার দায়িত্বে সজাগ ছিল না। এই দায়িত্বহীনতায় আমার মনে দুঃখ আসে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

জাফর ইকবালের ওপর হামলার পেছনে ধর্মব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় ১২:৩২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খ্যাতিমান লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার পেছনে ধর্মব্যবসায়ীদের হাত দেখছেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। বলেছেন, ‘যে ছেলেটি জাফর ইকবালের ওপর হামলা করেছে তার তার মস্তিষ্ক ধোলাই করা হয়েছে। তার মাথার মধ্যে কতগুলো চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই কাজটি করলে পরে সে সওয়াব পাবে। ধর্মের উপকার হবে। ইসলামের উপকার হবে। ধর্মকে সামনে রেখে, ধর্মকে ঢাল তৈরি করে ধর্মব্যবসায়ী কিছু মানুষ কিন্তু এই কাজটি করিয়েছে।’

শনিবার মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আজকের সংবাদপত্র’ নামের অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

শনিবার বিকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাত করে এক যুবক। তার মাথার পেছন দিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়। এতে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বিকালে ছুরিকাঘাতের পরপর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘এই ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত বলা চলে না। কারণ তাকে বহুবার হুমকি দেয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের বিবেকবান মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যারা জনগণকে নিয়ে চিন্তা করেন তাদের মধ্যে অন্যতম জাফর ইকবাল। মু্ক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারবাহিকতায় যে মানুষগুলো সোচ্চার ছিলেন এবং আছেন তাদের প্রতি এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।’

জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই ঘটনা পর্যালোচনা করি, তবে যেটুকু তথ্য আমাদের কাছে আছে সেটা হলো যে ছেলেটি জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করেছে সে একটি মাদ্রাসা ছাত্র। তার বাবাও মাদ্রাসার শিক্ষক। এই তথ্যগুলো আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে জেনেছি। যদি এই ঘটনা সত্যি হয় তবে প্রথমে যদি আমি ব্যাখ্যা এভাবে করি তবে বলা যায় এই ছেলেটির সঙ্গে জাফর ইকবালের কোনোভাবেই সংঘাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, আত্মীয়ের সম্পর্ক নেই। কোনো মারামারিও নেই। জমিজমা নিয়েও দুর্ঘটনা নেই। তাহলে এই ছেলেটি জাফর ইকবালকে কেন মারতে এলো।’

রাজনীতির এই বিশ্লেষক বলেন, ‘এই কেনোর উত্তরটি আমরা যদি খুঁজতে যাই তাহলে আমরা দেখবে হি ওয়াজ ব্রেন ওয়াশড। তার মস্তিষ্ক ধোলাই করা হয়েছে। তার মাথার মধ্যে কতগুলো চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। কিসের মাধ্যমে? ধর্মের নামে। অর্থাৎ এই কাজটি করলে পরে সে সওয়াব পাবে। ধর্মের উপকার হবে। ইসলামের উপকার হবে। ধর্মকে সামনে রেখে, ধর্মকে ঢাল তৈরি করে ধর্মব্যবসায়ী কিছু মানুষ কিন্তু এই কাজ করেছে।’

মোবাশ্বের বলেন, ‘এখন আপনি বলতে পারেন আমি কিসের ভিত্তিতে এই কথা বলছি। আমি আপনাকে জাস্ট পবিত্র কোরআন থেকে কয়েকটি পড়ে শোনাই তাহলেই বুঝতে পারবেন। সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কেউ কোনো ব্যক্তিকে হত্যার বদলা ব্যতিরেকে অথবা দেশে কলহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ ব্যতিরেকে হত্যা করলে সে যেন সমগ্র মানবমণ্ডলীকে হত্যা করলো।’অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো ধর্মের মানুষকে কারণ ছাড়া হত্যা করার বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘যে কেউ একটি জীবনকে বাঁচাল সে যেন সমগ্র মানবমণ্ডলীকে বাঁচাল।’ অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের ধর্মাবলম্বীসহ, মুসলমানসহ সব মানুষকে বাঁচালো।’

কোরআন সহিংসতার পক্ষ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সুরা কাফ এর আয়াত ৪৫ পাঠ করি তবে সেখানে দেখতে পাবো আল্লাহ তায়ালা রাসুল সা.কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ওরা যা বলে আমি তা ভালোভাবেই জানি তোমাকে ওদের উপর জবরদস্তি করার জন্য পাঠানো হয়নি। সুতরাং আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে কোরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও।’এখানে আল্লাহ কোরআনের সাহায্যে উপদেশ দিতে বলেছেন। চাকু দিয়ে উপদেশ দিতে বলেননি।

মোবাশ্বের হোসেন আরও বলেন, ‘রাসুল সা. এর সামনে যদি কেউ ইসলাম নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই চাকু নিয়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গে মারতে যেতেন না। তার মানে আমরা যে হাদিস পড়ি সেই হাদিসের মধ্যে সবচেয়ে বড় জিনিস হলো রাসুল সা. এর জীবনকে নিজের জীবনের ধারণ করার চেষ্টা করা, তার মত নিজের জীবনকে পরিচালিত করার চেষ্টা করা। রাসুল সা. যে কাজগুলো কখনোই করতেন না, করতে বাধা দিতেন, সেগুলো কখনোই ইসলামের অঙ্গ হতে পারে না। কোরআনের আয়াতেও এই জিনিসগুলো নেই।’

প্রবীণ এই স্থপতি বলেন, ‘আজকে মুদ্ধিযুদ্ধের মাসে, স্বাধীনতার মাসে যে কথাটি বলতে চাচ্ছি সেটা হলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধংস করার পরিপ্রেক্ষিতে এই অবস্থার সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মকে সামনে রেখে যে অকাজগুলো করছে তেমনি বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশ মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল করে যত রকমের অকাজগুলো করছে এবং সেটা দৃশ্যমান হচ্ছে শিক্ষিত সন্তানদের মধ্যে।’

এই বিশ্লেষক বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে জাফর ইকবালকে যখন হামলা করা হয় তখন কিন্তু তিনি পুলিশি প্রটেকশনে ছিলেন না। হামলাকারী দীর্ঘক্ষণ জাফর ইকবালের সঙ্গে ছিলেন। এই ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেয়ার দরকার ছিল। পুলিশ এই ঘটনা ঘটবে সে চিন্তাও করতে পারেনি। তার দায়িত্বে সজাগ ছিল না। এই দায়িত্বহীনতায় আমার মনে দুঃখ আসে।’