অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
খালেদা জিয়া চাইলে বিএনপি অফিসের সামনে দুটি বাক্স রাখলেই এক ঘণ্টায় দুই কোটি টাকার বেশি পেয়ে যেতেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তার দাবি, এই পরিমাণ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন, এটা কেউ বিশ্বাস করে না।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি বলতেন তার দুই কোটি টাকা লাগবে কোনো কাজে তাহলে বিএনপি অফিসের সামনে দুটি বাক্স রাখলে এক ঘন্টায় তার চেয়ে বেশি টাকা জমা হতো।’
দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক দল আয়োজিত মানববন্ধনে এ সব কথা বলেন নজরুল।
১৯৯১ সালে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর, তার ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে টাকায় এতিমখানা না করে পরে ট্রাস্টের হিসাব থেকে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে এফডিআর করে রাখার প্রমাণ মিলেছে আদালতে।
তবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামীর নামে গঠিত ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন, এটা দেশের কোনো মানুষ বিশ্বাস করে না। কারণ এ টাকা ব্যবহার বা ব্যাংক হিসেবে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনকি বাদীপক্ষ খালেদা জিয়া জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।’
এই মামলার রায়কে রাজনৈতিক দাবি করে নজরুল বলেন, ‘আসলে টাকা আত্মসাৎ কিছু নয় নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
আগামী নির্বাচনে বিএনপি জিতবে বলেও দাবি করেন নজরুল। বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী। তিনি মোট ২৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। কখনও পরাজিত হননি। তিনি আগামী দিনের নির্বাচনেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন জনগণের ভোটে।’
‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপি ও জনগণকে দুর্বল করা যাবে না। সামনের দিনে ভোটের ফলাফল পাল্টানো যাবে না। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছে আগামী দিনে খালেদা জিয়াকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানাবে। এখন সুযোগ শুধু ভোট দেয়ার।’
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলা নিয়েও কথা বলেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমরা এক এগারোতে শুনেছি বাক্সতে করে তিন কোটি টাকা আর চেকের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে।’
‘এ সব ঘটনায় মামলা হয়েছে, অথচ সে সব মামলায় রাজনৈতিক বিবেচনায় বাতিল করা হয়েছে। আবার কোনটা নিজেদের পছন্দের বিচারক নিয়োগ করে খারিজ করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে হওয়া মামলাগুলো চলমান রেখেছে।’
‘বর্তমান সরকারে মন্ত্রী ১৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েও পদে বহাল থাকেন। আর খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এমনকি এখন পর্যন্ত তার জামিন দেয়া হচ্ছে না।’
সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সাভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নাসিম প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















