ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ ধর্মকে পুঁজি করে চালানো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: আমিনুল হক কেউ কেউ বসন্তকালে আইসা কুহু কুহু ডাক শুরু করে: জামায়াতের আমির ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পর এই নির্বাচন ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমতের জোয়ার : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ

কারাদণ্ড খালেদাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছে: মান্না

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বরং আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছে। এখন দেশের সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম।

শুক্রবার স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সাজা হওয়ার দিন থেকেই পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

মান্না বলেন, সরকার চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে জেলে পুরলে নেতাকর্মীরা আন্দোলন-ভাঙচুর করবে। সরকার তাদের জেলে পুরবে। আর বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করে সুন্দরভাবে ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে সে সুযোগ দেননি সরকারকে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘তখন সরকার বলেছিল বিএনপি ভোটের ট্রেন মিস করেছে, তাতে আমাদের কোনো দোষ নেই। কিন্তু এবার যখন বুঝতে পারল বিএনপি ভোটে যাবে, তখন বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলক সাজা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিল।’ বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যে আশায় ১৯৭১ সালে একটি পতাকা তুলে ধরেছিলাম, সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করেছে আজ যারা ক্ষমতায়।’ গণতন্ত্র ও মানুষের কথা বলার অধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছেন জানিয়ে সাবেক এই ডাকসু নেতা বলেন, ‘যে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, সে গণতন্ত্র আজ একটি কৌটার মাঝে বন্দি আছে। বর্তমানে এক নেত্রী আরেক নেত্রীকে যেভাবে অনিরাপদ করে তুলেছেন, তাতে এখন গণতন্ত্র কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।’

দেশে এখন একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সবচেয়ে বেশি দরকার বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের নেতা। তিনি বলেন, ‘গতবার নির্বাচনের নামে ফোরটুয়েন্টি করা হয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে দেয়া হয়নি। এবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে দেশের মানুষের নাগরিক, মৌলিক, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আজ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।’

সভাপতির বক্তব্যে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১মার্চ পাকিস্তান সরকার তৎকালীন সংসদের অধিবেশন বন্ধ করে দেয়ার পর জাতি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। তখন ২ মার্চ এক তরুণ (আ স ম আবদুর রব) জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এখনো জাতি বিভ্রান্তিতে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না সেই সংকট তৈরি হয়েছে।’ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, এম এ মান্নান, জেএসডি নেতা আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোটেক সুব্রত চৌধুরী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডের শতবর্ষের ইতিহাস ওলটপালট করে অস্কারে সিনার্সের ১৬ মনোনয়ন

কারাদণ্ড খালেদাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছে: মান্না

আপডেট সময় ০২:৩০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি বরং আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছে। এখন দেশের সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম।

শুক্রবার স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সাজা হওয়ার দিন থেকেই পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

মান্না বলেন, সরকার চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে জেলে পুরলে নেতাকর্মীরা আন্দোলন-ভাঙচুর করবে। সরকার তাদের জেলে পুরবে। আর বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করে সুন্দরভাবে ক্ষমতায় যাবে। কিন্তু খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে সে সুযোগ দেননি সরকারকে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘তখন সরকার বলেছিল বিএনপি ভোটের ট্রেন মিস করেছে, তাতে আমাদের কোনো দোষ নেই। কিন্তু এবার যখন বুঝতে পারল বিএনপি ভোটে যাবে, তখন বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলক সাজা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দিল।’ বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে না এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যে আশায় ১৯৭১ সালে একটি পতাকা তুলে ধরেছিলাম, সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করেছে আজ যারা ক্ষমতায়।’ গণতন্ত্র ও মানুষের কথা বলার অধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছেন জানিয়ে সাবেক এই ডাকসু নেতা বলেন, ‘যে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, সে গণতন্ত্র আজ একটি কৌটার মাঝে বন্দি আছে। বর্তমানে এক নেত্রী আরেক নেত্রীকে যেভাবে অনিরাপদ করে তুলেছেন, তাতে এখন গণতন্ত্র কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।’

দেশে এখন একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সবচেয়ে বেশি দরকার বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের নেতা। তিনি বলেন, ‘গতবার নির্বাচনের নামে ফোরটুয়েন্টি করা হয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে দেয়া হয়নি। এবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে দেশের মানুষের নাগরিক, মৌলিক, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আজ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।’

সভাপতির বক্তব্যে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ১মার্চ পাকিস্তান সরকার তৎকালীন সংসদের অধিবেশন বন্ধ করে দেয়ার পর জাতি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। তখন ২ মার্চ এক তরুণ (আ স ম আবদুর রব) জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এখনো জাতি বিভ্রান্তিতে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না সেই সংকট তৈরি হয়েছে।’ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, এম এ মান্নান, জেএসডি নেতা আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোটেক সুব্রত চৌধুরী।