ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করব : মির্জা আব্বাস ইমান এনে কোনো লাভ নেই, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা ‘ভারতের চাপে আইসিসি কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানবো না’:আসিফ নজরুল

আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমিও কোটা সংস্কার চাই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার ও পরিবর্তনে দুই ঘণ্টা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দাবি জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে পর্যন্ত এই কর্মসুচিতে আট শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এ সময় ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ মো. সাদ্দাম হোসেন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে বলেন, ‘আমার বাবা কোনও ধরনের উপরি সুযোগ-সুবিধা নিতে মুক্তিযুদ্ধ করেননি। আমি নিজেও বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেশ করিনি। তাই আমি চাই মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটা পদ্ধতি শিথিল করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭২ সালে এক আদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এই কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্যও দেয়া হয়।

সেই থেকে প্রতি সরকারের শেষ বছরে এসে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। শুরুতে তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি জানালেও ২০১৩ সালের পর এবার আন্দোলনে এসে তা সংস্কারের দাবি তুলছে।

রবিবার রাজধানী ঢাকায় শিক্ষার্থীদের একটি কর্মসূচি পালন হয়েছে রাজধানীর শাহবাগে। একই সময় কোটা অক্ষুন্ন রাখার জন্য আরেকটি কর্মসূচি পালিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢাকার কর্মসূচির মতোই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনেও শিক্ষার্থীরা তাদের মূল ৫টি দাবি পেশ করেন। সেগুলো হলো: কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা; কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, কোটাধারীদের নিয়ে বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ এবং নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা।

মানববন্ধন শেষে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

মানববন্ধনে আগামী ৩ মার্চের মধ্যে কোটা পদ্ধতি সংস্কার না করা হলে পরদিন কালো ব্যাজ ধারণ ও ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমিও কোটা সংস্কার চাই

আপডেট সময় ০১:১৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার ও পরিবর্তনে দুই ঘণ্টা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দাবি জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে পর্যন্ত এই কর্মসুচিতে আট শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

এ সময় ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ মো. সাদ্দাম হোসেন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে বলেন, ‘আমার বাবা কোনও ধরনের উপরি সুযোগ-সুবিধা নিতে মুক্তিযুদ্ধ করেননি। আমি নিজেও বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেশ করিনি। তাই আমি চাই মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটা পদ্ধতি শিথিল করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭২ সালে এক আদেশে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এই কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্যও দেয়া হয়।

সেই থেকে প্রতি সরকারের শেষ বছরে এসে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। শুরুতে তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি জানালেও ২০১৩ সালের পর এবার আন্দোলনে এসে তা সংস্কারের দাবি তুলছে।

রবিবার রাজধানী ঢাকায় শিক্ষার্থীদের একটি কর্মসূচি পালন হয়েছে রাজধানীর শাহবাগে। একই সময় কোটা অক্ষুন্ন রাখার জন্য আরেকটি কর্মসূচি পালিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ঢাকার কর্মসূচির মতোই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনেও শিক্ষার্থীরা তাদের মূল ৫টি দাবি পেশ করেন। সেগুলো হলো: কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা; কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, কোটাধারীদের নিয়ে বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ এবং নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা।

মানববন্ধন শেষে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

মানববন্ধনে আগামী ৩ মার্চের মধ্যে কোটা পদ্ধতি সংস্কার না করা হলে পরদিন কালো ব্যাজ ধারণ ও ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।