ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ষক তুফানের স্ত্রী আশাসহ আরও ৩ জন গ্রেফতার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মাসহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তুফানের স্ত্রী আশাসহ তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ জুলাই)রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতার কৃতরা হলেন- রনু মিয়ার মেয়ে ও তুফানের স্ত্রী আশা (২০), শহিদুল ইসলামের ছেলে ও তুফানের গাড়িচালক জিতু (২৩), আব্দুল বাছেদের ছেলে ও তুফানের সহযোগী মুন্না (২৫)।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম বলেন, বগুড়া থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে তুফানের স্ত্রী,গাড়িচালক ও তুফানের সহযোগী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এসে পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে সিলভার কালারের একটি প্রাইভেটকার আটক করে। এসময় ওই গাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে তুফানের স্ত্রী ও সহযোগীদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

বগুড়ার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, বগুড়া পুলিশ সাভার থানায় যাচ্ছে আসামিদেরকে নিয়ে আসার জন্য। এর আগে, বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রবিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় পাবনা শহর থেকে তুফানের স্ত্রী আশা খাতুনের বড় বোন রুমকি ও তুফানের শাশুড়ি রুমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাতে ঘটনার মূল হোতা তুফান সরকারসহ তার তিন সহযোগী কসাইপাড়ার দুলু আকন্দের ছেলে আলী আজম দিপু (২৫), খান্দার সোনারপাড়ার মোখলেসার রহমানের ছেলে আতিক (২৫) ও কালিতলার জহুরুল হকের ছেলে রুপমকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, বগুড়ার এক কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করানোর নামে গত ১৭ জুলাই তাকে নিজ বাড়িতে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তুফান সরকারের বিরুদ্ধে।

তুফানের স্ত্রী এ ঘটনা জানতে পেরে স্বামীকে দায়ী না করে কিশোরীটিকেই ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মর্জিয়া হাসান রুমকির মাধ্যমে শুক্রবার (২৮ জুলাই) শালিস সভা বসিয়ে নির্যাতিতা ও তার মায়ের চুল কেটে দেয়। পরে নাপিত ডেকে তাদের ন্যাড়া করিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করালে সে রাতেই তুফানসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই শনিবার তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতিতা কিশোরী। এ ঘটনার পর রবিবার তুফানকে শ্রমিকলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

ধর্ষক তুফানের স্ত্রী আশাসহ আরও ৩ জন গ্রেফতার

আপডেট সময় ০২:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও মাসহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তুফানের স্ত্রী আশাসহ তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ জুলাই)রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতার কৃতরা হলেন- রনু মিয়ার মেয়ে ও তুফানের স্ত্রী আশা (২০), শহিদুল ইসলামের ছেলে ও তুফানের গাড়িচালক জিতু (২৩), আব্দুল বাছেদের ছেলে ও তুফানের সহযোগী মুন্না (২৫)।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম বলেন, বগুড়া থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে তুফানের স্ত্রী,গাড়িচালক ও তুফানের সহযোগী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এসে পৌঁছালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে সিলভার কালারের একটি প্রাইভেটকার আটক করে। এসময় ওই গাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে তুফানের স্ত্রী ও সহযোগীদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

বগুড়ার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, বগুড়া পুলিশ সাভার থানায় যাচ্ছে আসামিদেরকে নিয়ে আসার জন্য। এর আগে, বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রবিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় পাবনা শহর থেকে তুফানের স্ত্রী আশা খাতুনের বড় বোন রুমকি ও তুফানের শাশুড়ি রুমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া শুক্রবার (২৮ জুলাই) রাতে ঘটনার মূল হোতা তুফান সরকারসহ তার তিন সহযোগী কসাইপাড়ার দুলু আকন্দের ছেলে আলী আজম দিপু (২৫), খান্দার সোনারপাড়ার মোখলেসার রহমানের ছেলে আতিক (২৫) ও কালিতলার জহুরুল হকের ছেলে রুপমকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, বগুড়ার এক কিশোরীকে কলেজে ভর্তি করানোর নামে গত ১৭ জুলাই তাকে নিজ বাড়িতে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তুফান সরকারের বিরুদ্ধে।

তুফানের স্ত্রী এ ঘটনা জানতে পেরে স্বামীকে দায়ী না করে কিশোরীটিকেই ঘটনার জন্য দায়ী করে এবং সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার মর্জিয়া হাসান রুমকির মাধ্যমে শুক্রবার (২৮ জুলাই) শালিস সভা বসিয়ে নির্যাতিতা ও তার মায়ের চুল কেটে দেয়। পরে নাপিত ডেকে তাদের ন্যাড়া করিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করালে সে রাতেই তুফানসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই শনিবার তুফানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতিতা কিশোরী। এ ঘটনার পর রবিবার তুফানকে শ্রমিকলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।