ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘আশার আলো’ : সাইমন ড্যানজাক শৈলকুপায় বিয়ের দাবিতে যুবকের বাড়িতে গৃহবধূর অনশন শাহরাস্তিতে ধর্ষণের শিকার শিশু ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত আটক সংসদে প্রবেশে মাথা ঝোঁকানোতে আপত্তি জামায়াত এমপির বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান কারাগারে খেলা শেষ হওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ইরানকে নিখোঁজের চার দিন পর সাগরতীরে মিলল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানে নরক নেমে আসবে: ট্রাম্প বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু উপাধির আজ ৫০-এ পা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিই জানান দিচ্ছিল কিছু একটা হতে চলেছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। তিনি আগরতলা মামলা থেকে সবেমাত্র মুক্তি লাভ করেছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত এ বিশাল গণসংবর্ধনায় তৎকালীন ডাকসুর সভাপতি শেখ মুজিবের একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ মাইকে ঘোষণা করেন, ‘কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ঋণের বোঝা হালকা করতে চায়। জাতির পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে উপাধি দিতে চাই।’

তখন রেসকোর্স ময়দান প্রকম্পিত হয়ে উঠে। লাখ লাখ জনতা হাত উত্তোলন করে জানান দেন, প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে উপাধি দেওয়া হোক।

এরপর তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এবার বক্তৃতা করবেন আমাদের প্রিয় নেতা ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান।’

এরপর থেকেই জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে গেলেন বাঙালির প্রিয় ‘বঙ্গবন্ধু’।

দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। এদিন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সেই উপাধি গতকাল শুক্রবার ৪৯ বছর পেরিয়ে আজ ৫০-এ পা দিল।

শুক্রবার ভোলার সদর উপজেলার এক সমাবেশে স্মৃতিচারণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। তখন জাগ্রত ছাত্র-সমাজ সর্বদলীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। সংগ্রাম পরিষদে ডাকসু’র ভিপি হিসেবে সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দ্বায়িত্ব পালন করি। আর তাই রেসকোর্সের ঐতিহাসিক সমাবেশের আমি ছিলাম সভাপতি।’

তিনি বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি পল্টনে লাখ লোকের সমাবেশে বক্তব্যে সেদিন আমি বলেছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে হবে। ঠিক তার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসক বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তার পরেরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি সেই ঐতিহাসিক ১০ লাখ লোকের বিশাল সমাবেশে জাতির জনককে বঙ্গবন্ধু উপাধি ঘোষণা করি।’

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবকে দেওয়া বঙ্গবন্ধু উপাধি ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানান ঐতিহাসিক দলিলে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। কেন-না, বঙ্গবন্ধুর নামেই লক্ষ-কোটি বাঙালি, বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘আশার আলো’ : সাইমন ড্যানজাক

বঙ্গবন্ধু উপাধির আজ ৫০-এ পা

আপডেট সময় ০৩:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিই জানান দিচ্ছিল কিছু একটা হতে চলেছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। তিনি আগরতলা মামলা থেকে সবেমাত্র মুক্তি লাভ করেছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত এ বিশাল গণসংবর্ধনায় তৎকালীন ডাকসুর সভাপতি শেখ মুজিবের একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ মাইকে ঘোষণা করেন, ‘কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ঋণের বোঝা হালকা করতে চায়। জাতির পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে উপাধি দিতে চাই।’

তখন রেসকোর্স ময়দান প্রকম্পিত হয়ে উঠে। লাখ লাখ জনতা হাত উত্তোলন করে জানান দেন, প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে উপাধি দেওয়া হোক।

এরপর তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এবার বক্তৃতা করবেন আমাদের প্রিয় নেতা ‘বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান।’

এরপর থেকেই জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে গেলেন বাঙালির প্রিয় ‘বঙ্গবন্ধু’।

দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। এদিন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সেই উপাধি গতকাল শুক্রবার ৪৯ বছর পেরিয়ে আজ ৫০-এ পা দিল।

শুক্রবার ভোলার সদর উপজেলার এক সমাবেশে স্মৃতিচারণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। তখন জাগ্রত ছাত্র-সমাজ সর্বদলীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। সংগ্রাম পরিষদে ডাকসু’র ভিপি হিসেবে সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দ্বায়িত্ব পালন করি। আর তাই রেসকোর্সের ঐতিহাসিক সমাবেশের আমি ছিলাম সভাপতি।’

তিনি বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি পল্টনে লাখ লোকের সমাবেশে বক্তব্যে সেদিন আমি বলেছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে হবে। ঠিক তার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসক বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তার পরেরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি সেই ঐতিহাসিক ১০ লাখ লোকের বিশাল সমাবেশে জাতির জনককে বঙ্গবন্ধু উপাধি ঘোষণা করি।’

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবকে দেওয়া বঙ্গবন্ধু উপাধি ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানান ঐতিহাসিক দলিলে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। কেন-না, বঙ্গবন্ধুর নামেই লক্ষ-কোটি বাঙালি, বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো।