ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ ধ্বনিতে মুখরিত সিলেটের আলিয়া মাঠ ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিপুল ভোটে জিতে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে : নাহিদ ইসলাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধের ঘোষণা ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে : শফিকুল আলম কারচুপির খেলা খেলার স্পর্ধা যেন কোনো রাজনৈতিক দল না দেখায়: রুমিন ফারহানার হুঁশিয়ারি সবকিছুর মালিক আল্লাহ, কেউ কেউ বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাচ্ছে : তারেক রহমান বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম

আজো স্বীকৃতি মেলেনি ভাষাসৈনিক মোস্তফার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৯৪২ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারণে কারাভোগ, ১৯৪৮ সাল থেকে মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ভাষাসৈনিক গোলাম মোস্তফা রতন। অবশেষে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি দুই শতাধিক ছাত্র নিয়ে ঢাকার রাজপথে মিছিল করেন তিনি। তখন তিনি আহত হলেও আজো মেলেনি এই ভাষাসৈনিকের কোন স্বীকৃতি।

বহুবার ২১শে পদক পাওয়ার আবেদন করলেও সরকারিভাবে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি কষ্টের ফসল দেখে যেতে পারেন- এমনটাই দাবি করেন মাদারীপুরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন ফরিদপুর জেলার বর্তমান মাদারীপুর জেলার শিবচরে বাংলা ১৩৩২ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম মোস্তফা রতন। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন তিনি একজন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় অংশ নেয়ার জন্য কয়েকটি জেলার ছাত্রদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেন। ১৯৫২ সালে তৎকালীন বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র গোলাম মোস্তফা রতন ছাত্রদের আহবায়ক নির্বাচিত হন।

এদিকে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছিল বাংলার আপামর জনতা। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছিল বাংলার ছাত্রসমাজ। তারই সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর ও বরিশাল জেলায়ও।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রতনের নেতৃত্বে দুই শতাধিক ছাত্র বরিশাল থেকে আন্দোলনে অংশ নিতে মিছিল নিয়ে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতেই কার্জন হলের সামনে পুলিশের গুলি শুরু হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেয়া ছাত্ররা মাটিতে শুয়ে জীবন রক্ষা করেন। কিন্তু সালাম, বরকত, রফিকসহঅনেকেই শহীদ হন।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বেঁচে যান রতন। এরপর পারিবারিক জীবনযুদ্ধ শুরু করেন। পরবর্তীতে শিবচরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শিবচর অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ভাষাসংগ্রামী এই রতন। জাতীয় স্বীকৃতি না পেলেও ২০১২ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এইম ওয়ে) তাকে সম্মাননা পদকে ভূষিত করে।

৯২ বছর বয়স্ক ভাষাসৈনিক বর্তমানে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চর রাম রায়ের কান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ১২ বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুণছেন।

ভাষাসৈনিক গোলাম মোস্তফা রতন বলেন, ১৯৪২ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে কারাভোগ করতে হয়। এরপর এখনো ভুলিনি ১৯৫২ সালের সেই ভাষা আন্দোলনের কথা। ওই সময় ২ শতাধিক ছাত্রদের নিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকা গিয়েছিলাম ভাষা আন্দোলনের দাবিতে।

২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য কার্জন হলের সামনে গেলে শুরু হয় পুলিশের গুলিবর্ষণ। এ সময় সালাম, বরকতসহ অনেকেই শহীদ হন।

মিছিলে থাকাবস্থায় আমার পায়েও একটি গুলি লাগে। এরপর জীবনের অনেক সময় চলে গেলেও আজও পাইনি সরকারি কোন স্বীকৃতি। আমি যে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছি সে বাংলা ভাষায় আমরা কথা বলতে পেরেছি, এটা আমার কাছে একটা বড় পাওয়া।

এলাকাবাসী মিজান, আব্দুল কাদের হাওলাদার, ফরিদ, মেহেদী, মাসুদ, আরিফসহ আরো অনেকেই বলেন, আমাদের চাওয়া একটাই। সেটা হলো মৃত্যু আগেই যেন গোলাম মোস্তফা রতন একটা সরকারি স্বীকৃতি পান। তাকে যেন সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়। সে অনেকবার ২১শে পদকের জন্য আবেদন করেছে। আজ পর্যন্ত কোন আবেদনই গ্রহণ করে তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মো. আজাহরুল ইসলাম বলেন, আমি জানতে পেরেছি- আমাদের মাদারীপুরে একজন ভাষাসৈনিক এখনো বেঁচে আছেন। তাকে এখনও কোন সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং সে যদি ২১শে পদকের জন্য আবেদন করেন। তবে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাব। আমি চাইব সে যেন আগামীতে একটি সরকারি স্বীকৃতি পান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলেজশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা, ক্ষোভে প্রতিবেশীর বাড়িতে জনতার দেওয়া আগুনে বৃদ্ধার মৃত্যু

আজো স্বীকৃতি মেলেনি ভাষাসৈনিক মোস্তফার

আপডেট সময় ১০:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৯৪২ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারণে কারাভোগ, ১৯৪৮ সাল থেকে মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ভাষাসৈনিক গোলাম মোস্তফা রতন। অবশেষে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি দুই শতাধিক ছাত্র নিয়ে ঢাকার রাজপথে মিছিল করেন তিনি। তখন তিনি আহত হলেও আজো মেলেনি এই ভাষাসৈনিকের কোন স্বীকৃতি।

বহুবার ২১শে পদক পাওয়ার আবেদন করলেও সরকারিভাবে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি কষ্টের ফসল দেখে যেতে পারেন- এমনটাই দাবি করেন মাদারীপুরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন ফরিদপুর জেলার বর্তমান মাদারীপুর জেলার শিবচরে বাংলা ১৩৩২ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম মোস্তফা রতন। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন তিনি একজন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় অংশ নেয়ার জন্য কয়েকটি জেলার ছাত্রদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেন। ১৯৫২ সালে তৎকালীন বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র গোলাম মোস্তফা রতন ছাত্রদের আহবায়ক নির্বাচিত হন।

এদিকে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছিল বাংলার আপামর জনতা। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছিল বাংলার ছাত্রসমাজ। তারই সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর ও বরিশাল জেলায়ও।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রতনের নেতৃত্বে দুই শতাধিক ছাত্র বরিশাল থেকে আন্দোলনে অংশ নিতে মিছিল নিয়ে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতেই কার্জন হলের সামনে পুলিশের গুলি শুরু হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেয়া ছাত্ররা মাটিতে শুয়ে জীবন রক্ষা করেন। কিন্তু সালাম, বরকত, রফিকসহঅনেকেই শহীদ হন।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বেঁচে যান রতন। এরপর পারিবারিক জীবনযুদ্ধ শুরু করেন। পরবর্তীতে শিবচরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শিবচর অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ভাষাসংগ্রামী এই রতন। জাতীয় স্বীকৃতি না পেলেও ২০১২ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এইম ওয়ে) তাকে সম্মাননা পদকে ভূষিত করে।

৯২ বছর বয়স্ক ভাষাসৈনিক বর্তমানে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চর রাম রায়ের কান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ১২ বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুণছেন।

ভাষাসৈনিক গোলাম মোস্তফা রতন বলেন, ১৯৪২ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে কারাভোগ করতে হয়। এরপর এখনো ভুলিনি ১৯৫২ সালের সেই ভাষা আন্দোলনের কথা। ওই সময় ২ শতাধিক ছাত্রদের নিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকা গিয়েছিলাম ভাষা আন্দোলনের দাবিতে।

২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য কার্জন হলের সামনে গেলে শুরু হয় পুলিশের গুলিবর্ষণ। এ সময় সালাম, বরকতসহ অনেকেই শহীদ হন।

মিছিলে থাকাবস্থায় আমার পায়েও একটি গুলি লাগে। এরপর জীবনের অনেক সময় চলে গেলেও আজও পাইনি সরকারি কোন স্বীকৃতি। আমি যে ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছি সে বাংলা ভাষায় আমরা কথা বলতে পেরেছি, এটা আমার কাছে একটা বড় পাওয়া।

এলাকাবাসী মিজান, আব্দুল কাদের হাওলাদার, ফরিদ, মেহেদী, মাসুদ, আরিফসহ আরো অনেকেই বলেন, আমাদের চাওয়া একটাই। সেটা হলো মৃত্যু আগেই যেন গোলাম মোস্তফা রতন একটা সরকারি স্বীকৃতি পান। তাকে যেন সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়। সে অনেকবার ২১শে পদকের জন্য আবেদন করেছে। আজ পর্যন্ত কোন আবেদনই গ্রহণ করে তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মো. আজাহরুল ইসলাম বলেন, আমি জানতে পেরেছি- আমাদের মাদারীপুরে একজন ভাষাসৈনিক এখনো বেঁচে আছেন। তাকে এখনও কোন সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং সে যদি ২১শে পদকের জন্য আবেদন করেন। তবে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাব। আমি চাইব সে যেন আগামীতে একটি সরকারি স্বীকৃতি পান।