ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আইসল্যান্ডে খৎনা করলে ৬ বছরের কারাদণ্ড

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আইসল্যান্ডের পার্লামেন্টে খৎনা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বিল আনা হয়েছে। এ নিয়ে ওই দেশের মুসলিম ও ইহুদী সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। খবর বিবিসির।

সরকার চাচ্ছে, চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া অন্য কারণে খৎনা করা নিষিদ্ধ করতে। এ নিয়ে পার্লামেন্টে পেশ করা খসড়া বিলে কোনও শিশুর খৎনা করানোর জন্য ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

কিন্তু মুসলিম এবং ইহুদী সংগঠনগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার শামিল।

আইসল্যান্ড হচ্ছে প্রথম ইউরোপীয় দেশ যেখানে খৎনা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হলো। দেশটিতে প্রায় দেড় হাজার মুসলিম ও আড়াইশো ইহুদী আছে।

কেন এই বিল?

আইসল্যান্ডের প্রগ্রেসিভ পার্টির একজন এমপি সিলজা ডগ গানারসডটির এই বিলটি এনেছেন। তিনি যুক্তি দিচ্ছেন যে, এটি কারও ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিষয় নয়, বরং এটি শিশুদের অধিকারের বিষয়।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেরই অধিকার আছে তিনি কী বিশ্বাস করবেন বা করবেন না। কিন্তু শিশুদের অধিকারকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে।’

এর আগে ২০০৫ সালে আইসল্যান্ডে এফজিএম ( ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন) বা মেয়েদের যৌনাঙ্গ ছেদ নিষিদ্ধ করা হয়।

ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো কী বলছে?

নরডিক ইহুদী কমিউনিটিজ এক বিবৃতি দিয়ে এই বিলটির নিন্দা করেছে। তারা বলেছে, ইহুদী ধর্মবিশ্বাসের সবচেয়ে কেন্দ্রীয় একটি রীতিকে এতে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

এক খোলা চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘আপনারা ইহুদী ধর্মকে এমনভাবে আক্রমণ করতে যাচ্ছেন যা সারা বিশ্বের ইহুদীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’

ব্রিটেনের একটি ইহুদী গোষ্ঠী ‘মিলাহ ইউকে’ বলেছে, ছেলেদের খৎনার সঙ্গে মেয়েদের এফজিএম বা যৌনাঙ্গ ছেদের কোন তুলনা হতে পারে না। কারণ ছেলেদের খৎনা করার ফলে এর কোন দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব শিশুর ওপর পড়ে এমন কোন প্রমাণ এখনও নেই।

আইসল্যান্ডের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের ইমাম আহমাদ সিদ্দিক বলেন, ‘এটি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। এটাতো আমাদের ধর্মে হাত দেয়ার শামিল। আমি মনে করি এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার লংঘন।’

আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকাভিকের বিশপ অ্যাগনেস এম সিগুরোয়ারডটির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এরকম বিল পাশ হলে আইসল্যান্ডের মুসলিম এবং ইহুদীদের মনে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে এই দেশটিতে তাদের আর জায়গা হবে না।

তিনি বলেন, ‘আইনটি পাশ হলে ইসলাম এবং ইহুদী ধর্ম পালন তখন যেন অপরাধের পর্যায়ে পড়বে।’

খৎনা করা কি নিরাপদ?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিচারে খৎনা একেবারেই একটি মামুলি প্রক্রিয়া। কিন্তু এটি একবারে ঝুঁকিমুক্ত নয়। যদি কোন বালক বা পুরুষের লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া খুব বেশি আঁটেসাঁটো থাকে, যাকে মেডিকেলের পরিভাষায় বলে ‘ফিমোসিস’। আর কারও গোপনাঙ্গে বা চামড়ায় যদি বার বার সংক্রমণ ঘটে, যার নাম ‘বালান্টিস, তখন চিকিৎসকরা খৎনার সুপারিশ করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, খৎনা করলে নারী সঙ্গীর কাছ থেকে পুরুষদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আইসল্যান্ডে খৎনা করলে ৬ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৫৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আইসল্যান্ডের পার্লামেন্টে খৎনা নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বিল আনা হয়েছে। এ নিয়ে ওই দেশের মুসলিম ও ইহুদী সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। খবর বিবিসির।

সরকার চাচ্ছে, চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া অন্য কারণে খৎনা করা নিষিদ্ধ করতে। এ নিয়ে পার্লামেন্টে পেশ করা খসড়া বিলে কোনও শিশুর খৎনা করানোর জন্য ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

কিন্তু মুসলিম এবং ইহুদী সংগঠনগুলো এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার শামিল।

আইসল্যান্ড হচ্ছে প্রথম ইউরোপীয় দেশ যেখানে খৎনা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হলো। দেশটিতে প্রায় দেড় হাজার মুসলিম ও আড়াইশো ইহুদী আছে।

কেন এই বিল?

আইসল্যান্ডের প্রগ্রেসিভ পার্টির একজন এমপি সিলজা ডগ গানারসডটির এই বিলটি এনেছেন। তিনি যুক্তি দিচ্ছেন যে, এটি কারও ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিষয় নয়, বরং এটি শিশুদের অধিকারের বিষয়।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেরই অধিকার আছে তিনি কী বিশ্বাস করবেন বা করবেন না। কিন্তু শিশুদের অধিকারকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে।’

এর আগে ২০০৫ সালে আইসল্যান্ডে এফজিএম ( ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন) বা মেয়েদের যৌনাঙ্গ ছেদ নিষিদ্ধ করা হয়।

ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো কী বলছে?

নরডিক ইহুদী কমিউনিটিজ এক বিবৃতি দিয়ে এই বিলটির নিন্দা করেছে। তারা বলেছে, ইহুদী ধর্মবিশ্বাসের সবচেয়ে কেন্দ্রীয় একটি রীতিকে এতে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

এক খোলা চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘আপনারা ইহুদী ধর্মকে এমনভাবে আক্রমণ করতে যাচ্ছেন যা সারা বিশ্বের ইহুদীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’

ব্রিটেনের একটি ইহুদী গোষ্ঠী ‘মিলাহ ইউকে’ বলেছে, ছেলেদের খৎনার সঙ্গে মেয়েদের এফজিএম বা যৌনাঙ্গ ছেদের কোন তুলনা হতে পারে না। কারণ ছেলেদের খৎনা করার ফলে এর কোন দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব শিশুর ওপর পড়ে এমন কোন প্রমাণ এখনও নেই।

আইসল্যান্ডের ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের ইমাম আহমাদ সিদ্দিক বলেন, ‘এটি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ। এটাতো আমাদের ধর্মে হাত দেয়ার শামিল। আমি মনে করি এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার লংঘন।’

আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকাভিকের বিশপ অ্যাগনেস এম সিগুরোয়ারডটির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এরকম বিল পাশ হলে আইসল্যান্ডের মুসলিম এবং ইহুদীদের মনে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে এই দেশটিতে তাদের আর জায়গা হবে না।

তিনি বলেন, ‘আইনটি পাশ হলে ইসলাম এবং ইহুদী ধর্ম পালন তখন যেন অপরাধের পর্যায়ে পড়বে।’

খৎনা করা কি নিরাপদ?

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিচারে খৎনা একেবারেই একটি মামুলি প্রক্রিয়া। কিন্তু এটি একবারে ঝুঁকিমুক্ত নয়। যদি কোন বালক বা পুরুষের লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া খুব বেশি আঁটেসাঁটো থাকে, যাকে মেডিকেলের পরিভাষায় বলে ‘ফিমোসিস’। আর কারও গোপনাঙ্গে বা চামড়ায় যদি বার বার সংক্রমণ ঘটে, যার নাম ‘বালান্টিস, তখন চিকিৎসকরা খৎনার সুপারিশ করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, খৎনা করলে নারী সঙ্গীর কাছ থেকে পুরুষদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।